মিয়ানমারের আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী হতে বাধা রোহিঙ্গাকে

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০,   আশ্বিন ১৫ ১৪২৭,   ১২ সফর ১৪৪২

মিয়ানমারের আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী হতে বাধা রোহিঙ্গাকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২৩:৪৫ ১২ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ২২:১১ ২৬ আগস্ট ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

মিয়ানমারের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে একজন রোহিঙ্গা মুসলিমকে দাঁড়াতে বাধা দেয়া হয়েছে। রোহিঙ্গাদের প্রতি এই আচরণকে বৈষম্যমূলক আচরণ এবং নিপীড়িত সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানোর লক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো।

নির্বাচনে অংশ নিতে অযোগ্য ঘোষিত সেই রোহিঙ্গা মুসলিম রাজনীতিবিদের নাম আবদুল রাশিদ। তার বাবা একজন সরকারি কর্মচারী ছিলেন। মিয়ানমারের নাগরিকত্ব পাওয়া খুব অল্পসংখ্যক মুসলিম রোহিঙ্গাদের মধ্যে অন্যতম তিনি।

আগামী নির্বাচনে অং সান সু চি’র দলের প্রার্থী হওয়ার জন্য তিনি আবেদন করেছিলেন। তবে এই নির্বাচনে প্রার্থী হিসাবে দাঁড়াতে পারবেন না এই ব্যবসায়ী রাশিদ। কারণ কর্মকর্তারা তার জাতীয় পরিচয়পত্রে সমস্যা রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই অভিযোগে আরো ছয় রোহিঙ্গা নেতাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে অযোগ্য ঘোষণা করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

২০১৭ সালে রাখাইনে রোহিঙ্গা নিধন অভিযান চালায় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। সে সময়ে প্রায় ৭ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এরপর গণহত্যার অভিযোগে গত বছরের নভেম্বরে জাতিসংঘের শীর্ষ আদালতে মামলা দায়ের করে গাম্বিয়া। মিয়ানমার দেশটিতে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে স্বীকার করে। তবে গণহত্যার বিষয়টি অস্বীকার করে দেশটি।

জানা গেছে, এখনো প্রায় ছয় লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমারে রয়েছেন। তবে তাদের মধ্যে বেশিরভাগ নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হয় না। ফলে তাদের কোনো ভোটাধিকার নেই বলে জানিয়েছে দেশটি। এমন পদক্ষেপকে বর্ণবাদী বলে বর্ণনা করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

আঞ্চলিক নজরদারি সংস্থা ফোর্টিফাই রাইটস জানিয়েছে, ৩টি রোহিঙ্গা নেতৃত্বাধীন দল আগামী নভেম্বরের ভোটে কমপক্ষে এক ডজন প্রার্থীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করানোর প্রত্যাশা করেছিলো।

রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী ডেমোক্র্যাসি ও হিউম্যান রাইটস পার্টির সদস্য আবদুল রশিদ ফোর্টিফাই রাইটসকে জানিয়েছে, মিয়ানমারের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পদপ্রার্থী হতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে প্রার্থী হওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে তাকে।

তিনি আরো বলেন, মিয়ানমার তাদের পার্লামেন্টে রোহিঙ্গাদের জায়গা দিতে চায় না। এই কারণেই তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দিচ্ছে না। তবে আমার প্রশ্ন হচ্ছে, রোহিঙ্গাদের জন্য কেন এসব বিধিনিষেধ রয়েছে? রোহিঙ্গাদের জন্য কেন আলাদা আলাদা নিয়ম?

জানা গেছে, এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি নির্বাচন কমিশন।

সূত্র- আল জাজিরা

ডেইলি বাংলাদেশ/এসএমএফ/মাহাদী