Exim Bank
ঢাকা, রোববার ২২ এপ্রিল, ২০১৮
Advertisement
বিজ্ঞাপন দিন      

মিলে উৎপাদন বন্ধ, আখ মাড়াই পাওয়ার ক্রাশারে

 দেলোয়ার হোসেন, জামালপুর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৩৬, ১৩ এপ্রিল ২০১৮

১৬৩ বার পঠিত

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

আখের অভাবে ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরের মাড়াই মৌসুমে জিল বাংলা সুগার মিলে উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। মিল এলাকার বিভিন্ন গ্রামে বেআইনিভাবে এখনো পাওয়ার ক্রাশারে আখ মাড়াই করে গুড় তৈরি অব্যাহত রয়েছে।

অন্যদিকে নির্ধারিত সময়ের আগেই মাড়াই বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জিল বাংলা সুগার মিলে গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর সর্বাধিক লোকসানের মুখে পতিত হচ্ছে।

জানা যায়, ২০১৬-১৭ রোপণ মৌসুমে মিল এলাকায় ৯ হাজার ৬৪৮একর জমিতে ১ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন আখ উৎপাদন হয়েছে। এর মধ্যে ২৩ হাজার টন মিলে সরবরাহ হলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হতো। বর্তমানে মিলজোন এলাকার গায়েনপাড়া, বাছেদপুর, উৎমাচর, তারাটিয়া, বাহাদুরাবাদ, সরদারপাড়া, ইসলামপুরের গঙ্গাপাড়া, পলবান্ধা, বোয়ালমারি, গোয়ালেরচর, মেলান্দহের, দুরমুঠ, মাহমদপুর, জামালপুর সদর উপজেলার নান্দিনা, নরুন্দি, বৈঠামারি, নটাকুড়ি, ঢেওয়েরচালা ও বকশীগঞ্জের, মাইছানিরচর, কলকিহারা, মেরুরচরে এখনো প্রায় ৩০ হাজার মেট্রিক টন আখ মাঠে দন্ডায়মান। এসব আখ মিলে সরবরাহ হলে মিলটিতে আরো ১ মাস মাড়াই অব্যাহত থাকতো বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

সূত্রে আরো জানা যায়, চাহিদা মতো আখ সরবরাহ না পাওয়ায় গত ২০১৬-১৭ মাড়াই মৌসুমে ৩০ কোটি টাকার ওপরে লোকসান হয়েছিল। রিকোভারি কম ও চিনি উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় এ বছর লোকসানের পরিমান আরো বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এলাকায় আখ চাষী এনামুল জানায়, মিলে আখের দাম যেখানে মণ প্রতি ১২৫ টাকা সেখানে পাওয়ার ক্রাশারে আখ বিক্রি করে পাওয়া যায় ১৬০-১৭০ টাকা। তাছাড়া মিলে আখ বিক্রি করে মাসের পর মাস ঘোরাঘুরি করেও টাকা পাওয়া যায় না।

সরেজমিনে ইসলামপুরের বোয়ালমারি এলাকায় দেখা যায়, প্রকাশ্যেই পাওয়ার ক্রাশারে ধুমছে আখ মাড়াই চলছে। তাছাড়া বিভিন্ন স্থানে আখও রয়েছে। এসব আখ মিল জোনের আওতায় থাকলেও এগুলো এখন পাওয়ার ক্রাশারের মাধ্যমে গুড তৈরি করা হচ্ছে।

অপর একটি সূত্র জানায়, বর্তমানে মিল এলাকায় প্রায় ১০০টি পাওয়ার ক্রাশারে আখ মাড়াই হচ্ছে। এ সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। আর্থিক সংকটের কারণে মিল প্রশাসন বা মিল কর্তৃপক্ষ ক্রাশারে আখ মাড়াই বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি।

মিল কর্তৃপক্ষ, উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যৌথ সভা করে প্রায় ১০০টির মধ্যে মাত্র ৪টি পাওয়ার ক্রাশার জব্দ করা হয়েছিলো।

মিল সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে ১২০দিনে ১ লাখ ৪ হাজার মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে ৮৩২০ টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে গত ১ ডিসেম্বর মাড়াই শুরু করা হয়। কিন্তু চাহিদা মতো আখ সরবরাহ না পেয়ে ১০২ দিনে ৮৩ হাজার ৩৫৩ টন আখ মাড়াই করে ৫ হাজার ৬০৮ দশমিক ৫ টন চিনি উৎপাদন করার পর নির্ধারিত সময়ের ১৮ দিন আগেই গত ১৩ মার্চ মাড়াই বন্ধ হয়ে যায়।

মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এসএম নুরুল হুদা জানান, এ মৌসুমে চিনিকলের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ৯০ হাজার মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে ৮ শতাংশ রিকোভারিতে চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ ছিল ৮ হাজার ৩২ মেট্রিক টন। রিকোভারি অর্জিত হয়েছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ। এ মাড়াই মৌসুমে চিনি কলটিতে যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে মোট ১৩৫ ঘণ্টা আখ মাড়াই বন্ধ ছিল।

ডেইলি বাংলাদেশ/আজ/এমআরকে

সর্বাধিক পঠিত