মিরাজ, দ্যা ম্যাচ মেকার

ঢাকা, শুক্রবার   ২১ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ৭ ১৪২৬,   ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

মিরাজ, দ্যা ম্যাচ মেকার

ম্যাশ মামুন ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২২:১৫ ২৪ মে ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বয়স ভিত্তিক টুর্নামেন্ট থেকেই নিজের জাত চিনিয়ে এসেছেন মেহেদি হাসান মিরাজ। অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে তো তার শতভাগ প্রমাণ পেয়েছে ক্রিকেট সমর্থকরা।

শুধু ব্যাটে কিংবা বলেই নয়, ফিল্ডিংয়েও তার দূরন্তপনা হৃদয় ছুঁয়েছে সবার। আর তাইতো অভিষেকটাও হয়েছিলো ক্রিকেটের জন্মদাতা ইংল্যান্ড এর বিপক্ষে।

মনে আছে কি, সেই সিরিজে রীতিমত পাল্টে দিয়েছেন রেকর্ডবুক। কিন্তু সেই মিরাজই কতটা ধরে রাখতে পেরেছে তার সেই চিরচেনা অলরাউন্ডার রূপটা?

ভক্তদের চাওয়া অনুযায়ী অতটা ইফেক্টিভ পারফর্মেন্স নাকি দিতে পারছেন না মিরাজ, এমনটাই অভিযোগ ক্রিকেট বোদ্ধাদের। আসলেই কি তাই? চলুন তাহলে বিশ্লেষণে যাওয়া যাক!

বয়সভিত্তিক দলে মিরাজ ব্যাটে-বলে সমান অবদান রাখতেন, কিন্তু জাতীয় দলে তার ব্যাট যেনো হাসছেইনা। হাতেগোনা দু‘একটা ইনিংস বাদ দিলে বলার মত তেমন কোনো পারফর্মই পাওয়া যায়নি মিরাজের ব্যাট থেকে।

মূলত বয়সভিত্তিক দলে মিরাজ ব্যাট করতেন মিডল অর্ডারে। প্রথমে নিজেকে সেট করে নিয়ে তারপর খেলতেন সব ঝলমলে ইনিংস। কিন্তু জাতীয় দলে সে ব্যাট করছে কোথায়? অবশ্যই লোয়ার মিডল অর্ডার কিংবা লোয়ার অর্ডারে।

তুলনামূলক ভাবে টাইগারদের ব্যাটিং লাইন-আপটা যথেষ্ঠ বড়। টপ অর্ডারে তামিম, লিটন কিংবা সৌম্যর পর মিডল অর্ডারে ব্যাট করেন সাকিব, রিয়াদ, মুশফিকদের মত অভিজ্ঞরা। 

কাজেই মিরাজকে তার পছন্দের জায়গায় ব্যাট করতে হলে অপেক্ষা করতে হবে লম্বা সময়। শেষদিকে দলের প্রয়োজনে যতটুকু টাচ্ করবেন, সেটাতেই আপাতত খুশি টিম টাইগার্স।

এবার আসা যাক বোলিং বিশ্লেষণে। 
এখানেও অভিযোগটা প্রায় একই রকমের। মিরাজ মোটেও উইকেট এভারেজে নিজের প্রতি সুবিচার করতে পারছেননা। চলুন, এটাও তাহলে খণ্ডন করা যাক।

ডান হাতি এই অফব্রেক বোলারের হাতে আছে দারুণ কিছু কাজ। আর্মার, ফ্লাইট এগুলো যেকোনো স্পিনারের কারুকাজ হলেও মিরাজের আছে এক্সট্রা “কেরাম”।

আধুনিক ক্রিকেটে একজন বোলারের কাছে ভক্তদের সবচেয়ে বড় চাওয়া থাকে, গুড উইকেট এভারেজ, যেটা হয়ত মিরাজের নেই।

তাহলে কি আছে মিরাজের মধ্যে, আর কেনইবা অধিনায়কের চোখে মিরাজ গেম মেকার? কখনো কি মিরাজের ইকোনমিটা খেয়াল করেছেন? সাড়ে চারেরও অনেক নিচে।

বর্তমান ক্রিকেটে যেখানে ওয়ানডেতে দুই ইনিংসে রান হয়ে যায় ৯০০ ছুই ছুই, সেখানে একজন বোলারের এতটা হিসেবি ইকোনমি কি এনাফ নাকি গুড এনাফ, সেটা আপনারাই বুঝে নিন।

মিরাজ কে দিয়ে অধিনায়ক বল করান প্রথম দিকেই। কি থাকে মিরাজের দায়িত্ব, চলুন জেনে নেই ক্যাপ্টেইন ফ্যান্টাসটিক মাশরাফীর কাছ থেকে।

মাশরাফি জানান, মিরাজের রোলটা থাকে ব্যাটিং কে প্রেশারে রাখা। মূলত যেখানে একজন ব্যাটসম্যানকে উপর্যুপরি অনেকগুলো ডটবল খেলানো যায়, তখন সে রানের জন্য ছটফট করতে থাকে। মিরাজের কাজটাই হলো ডট খেলানো। যাতে পরবর্তী বোলারের জন্য উইকেট নেয়ার সুযোগ তৈরী হয়। আর এটাই গেম পরিবর্তন কিংবা নিজেদের করে নেয়ার সবচেয়ে বড় স্টেপ, যেটা কেবল মাত্র মিরাজকে দিয়েই সম্ভব। আর তাই মিরাজ আমার কাছে গেম মেকার।

এতক্ষন শুনলাম অধিনায়কের কথা। যেহেতু অধিনায়কই মিরাজের এই পারফর্মে দারুণ খুশি, সেহেতু আমরাও তো খুশি থাকতে পারি অনায়াসেই।

আর তাইতো বিশ্বক্রিকেটের রূপকথার গল্পলেখক সাবেকরা মনে করেন, যদি মিরাজ তার কাজটা বিশ্বকাপেও সঠিকভাবে করতে পারেন, তবে নিঃসন্দেহে এবার একটা ভালো বিশ্বকাপই কাটাতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

ডেইলি বাংলাদেশ/সালি