Alexa মিন্নিকে আইনি সহায়তা না দেয়ার দায় নেয়নি কেউ

ঢাকা, শুক্রবার   ২৩ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ৮ ১৪২৬,   ২১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

মিন্নিকে আইনি সহায়তা না দেয়ার দায় নেয়নি কেউ

বরগুনা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:৪৮ ১৮ জুলাই ২০১৯   আপডেট: ১৪:১১ ১৯ জুলাই ২০১৯

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

মিন্নিকে আইনি সহায়তা না দেয়ায় পরস্পরকে দোষারোপ করছেন আইনজীবীরা। মিন্নির বাবার অভিযোগ তিনি তিনজন আইনজীবীর কাছে আইনি সহায়তা চেয়েছিলেন। তবে ওই তিনজনের কেউই সহায়তা চাওয়ার স্বীকার করেননি। আইনি সহায়তা না দেয়ার পেছনে বরগুনা- ১ আসনের এমপি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শমভুর ছেলে সুনাম দেবনাথের নির্দেশনা ছিল, মিন্নির পরিবার এমন অভিযোগ তুলেছে।

তবে বিষয়টি অস্বীকার করেছেন সাংসদপুত্র। রিফাত হত্যার পরের দিন ফেসবুকে আসামিদের আইনি সহায়তা না দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন তিনি। মিন্নিকে আইনের আওতায় আনতে ১৩ জুলাই রাতে নিহত রিফাত শরীফের বাবা দুলাল শরীফের বরগুনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করার পরদিন ১৪ জুলাই সর্বস্তরে জনগণের ব্যনারে প্রস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন হয়।

ওই মানববন্ধনে অ্যডভোকেট সুনাম দেবনাথ বক্তব্য রাখেন। এ ঘটনার দুই দিন পর ১৬ জুলাই মিন্নিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরের দিন ১৭ জুলাই  মিন্নিকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড চাওয়া হয়।

এসময় মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর কয়েকজন আইনজীবীর সঙ্গে মেয়ের জন্য আইনি সহায়তা চান। কিন্ত অনেকেই এতে সম্মত হননি। মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বলেন, বেশ কয়েকজন আইনজীবীর দ্বারস্থ হয়েও আমি সাড়া পাইনি।

তারা বলেছেন, সমিতি থেকে আমাদের উপর চাপ আছে, আমরা তোমার মেয়ের পক্ষে দাঁড়াতে পারবো না।

অবশেষে অনেক অনুরোধের পর অ্যডভোকেট জিয়াউদ্দীন, গোলাম সরওয়ার নাসির ও অ্যডভোকেট মোস্তফা কাদেরের স্মরাণাপন্ন হলে তারা সম্মত হন। কিন্ত আদালতে তারা অনুপস্থিত ছিলেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, প্রভাবশালী ও ক্ষমতাসীনরা আইনজীবীদের প্রভাবিত করায় কেউ আমার মেয়েকে আইনি সহায়তা দেয়নি।

যোগাযোগ করা হলে অ্যডভোকেট জিয়াউদ্দীন বলেন, মিন্নির বাবা আমার কাছে আইনি সহয়তা চেয়েছিলেন। আমি তাকে আইনি সহায়তা দেয়ার কথাও বলেছিলাম। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জোগাড় করে না দেয়ায় আমি মিন্নিকে আইনি সহায়তা দিতে পারিনি। কেউ নিষেধ করেছিল কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আইনজীবী সমিতি থেকে আমরা এরকম কোনো নির্দেশনা পাইনি।

বরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যডভোকেট  মাহাবুবুল বারি আসলাম বলেন, আমাদের এখানে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি এ মামলায় আসামিদের পক্ষে কোনো প্রকার আইনি সহায়তা দিবে না। আইনি সহায়তা পাওয়া একজন নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার, কোনো আইজীবী নিয়োগ না করেও লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে বিচারপ্রার্থী আইনী সহায়তা পেতে পারে। তদন্তাধিন মামলায় অনেক ক্ষেত্রে আইনজীবী নিয়োগ করা সম্ভব হয় না, সে ক্ষেত্রে কোর্ট তাকে পরীক্ষা করে নেয়। মোজাম্মেল হোসেন হোসেন কিশোর মিন্নির পক্ষে কোনো আইনি সহায়তা চেয়েছিল কিনা আমার জানা নেই। যদি কেউ তাকে আশ্বাস দিয়ে পরে অনুপস্থিত থাকে এমন অভিযোগ পেলে আমরা অবশ্যই ব্যবস্তা নেবো।

২৬ জুন রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের পর ২৭ মার্চ বরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যডভোকেট সুনাম দেবনাথ ফেসবুকে রিফাত হত্যায় জড়িতদের আইনি সহায়তা না দিতে অনুরোধ করে একটি পোস্ট দেন। ওই পোস্টে প্রভাবিত হয়ে কোনো আইনজীবী মিন্নিকে আইনি সহায়তা দেয়নি, সচেতন নাগরিক ও মিন্নির পরিবারের পক্ষ থেকে এমন অভিযোগ ওঠে।

মিন্নিকে আইনি সহায়তা না দেয়ার ওই পোস্ট প্রভাবিত করেছে কিনা জানতে চাইলে সুনাম দেবনাথ বলেন, ওই স্টাটাসটি পোস্ট করার সময় মিন্নি মামলার ১নং স্বাক্ষী ছিলেন। ঘটনায় জড়িতদের আইনি সহায়তা না দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছিলাম। তার মানে এই না যে কেউ আসামিদের সহায়তা দিতে পারবে না বা বাধ্যবাধকতা ছিল। আইনজীবী সমিতির কোনো পোস্ট হোল্ড করি না যে আমি নির্দেশ দেবো। এটা আমার বিরুদ্ধে এক প্রকার রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা ছাড়া আর কিছু না।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম

Best Electronics
Best Electronics