মিথ্যা মামলা হতে অব্যাহতি পেলেন সাংবাদিক জলিল

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৯ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২৬ ১৪২৬,   ১৫ শা'বান ১৪৪১

Akash

মিথ্যা মামলা হতে অব্যাহতি পেলেন সাংবাদিক জলিল

খুলনা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:২৪ ১৮ মার্চ ২০২০  

এম এ জলিল (ফাইল ছবি)

এম এ জলিল (ফাইল ছবি)

খুলনার স্থানীয় দৈনিক খুলনাঞ্চল পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার এম এ জলিলকে মাদক মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। 

বুধবার দুপুরে খুলনা জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইবুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. সাইফুজ্জামান হিরো ওই আদেশ দেন।

যাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে তারা হলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর খুলনার গোয়েন্দা পরিদর্শক পারভীন আক্তার ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা একই অধিদফতরের ক-সার্কেলের পরিদর্শক হাওলাদার মো. সিরাজুল ইসলাম। তাদের বিরুদ্ধে মানহানি ও ক্ষতিপূরণের মামলারও নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

আদালতের উচ্চমান বেঞ্চ সহকারী মো. ছায়েদুল হক শাহিন জানান, বুধবার ছিল ওই মামলার চার্জ গঠনের জন্য নির্ধারিত দিন। মামলার আসামিপক্ষ ফৌজদারি কাযবিধির ২৬৫-সি ধারা মতে মামলা থেকে অব্যহতি পেতে আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের চার্জ গঠন বিষয়ে শুনানি শেষে বিচারক ওই আদেশ দেন।

আদেশে বিচারক উল্লেখ করেন, এম এ জলিলের বিরুদ্ধে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ সালের ৩৬ (১) সারণির ১৪ (খ) ধারার চার্জ গঠনের মূল উপাদান প্লেস অব অকারেন্স (অপরাধ সংগঠনের স্থান) নেই। এ কারণে ফৌজদারি কাযবিধির ২২১ ধারার বিধান অনুযায়ী আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের আইনগত কোনো সুযোগ নেই। তদন্ত কর্মকর্তা তার রিপোর্টে আসামির বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করছেন। কিন্তু আসামির দখল ও হেফাজত থেকে কথিত মাদক উদ্ধার ও জব্দ করার বিষয় প্রমাণিত হয়েছে এ ধরনের কোনো কিছু উল্লেখ করেননি।

এছাড়া বাদী তার এজাহারে উল্লেখ করেছেন সাংবাদিকতার আড়ালে আসামি এমএ জলিল দীর্ঘদিন ধরে ফেনসিডিল ক্রয়-বিক্রয় করে আসছিলেন। তদন্ত রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে আসামি এম এ জলিল একজন কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী। কিন্তু তদন্তকারী কর্মকর্তা কী কী দালিলিক এবং মৌখিক স্বাক্ষের ভিত্তিতে আসামিকে কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করেছেন তা রিপোর্টে উল্লেখ বা ব্যাখ্যা করেননি। কাজেই সুস্পষ্টভাবে আদালতে প্রতীয়মান হয় এজাহারকারী ও তদন্ত কর্মকর্তা পরিকল্পিতভাবে অসৎ উদ্দেশ্যে এমএ জলিলকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর জন্যই মিথ্যা মামলা ও তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করেছেন। 

মামলার এজাহারকারী পারভীন আক্তার ও তদন্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে আসামি এমএ জলিলকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের জন্য দেওয়ানি আদালতে এবং মানহানিজনিত কারণে ফৌজদারি আদালতে মামলা দায়ের করতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আদালতের আদেশের অনুলিপি মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক ও খুলনার অতিরিক্ত পরিচালক বরাবর পাঠানোর আদেশ দেয়।

গত বছরের ৭ জুলাই সকালে খুলনা নগরের সদর থানার মুসলমান পাড়া এলাকার সাংবাদিক এমএ জলিলের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে খুলনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফর। এ সময় তার বাড়ির পাশের একটি নালা থেকে ১০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার দেখিয়ে তাকে আটক করে নিয়ে যায়। ওই ঘটনায় একই দিন খুলনা সদর থানায় মামলা করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের গোয়েন্দা পরিদর্শক পারভীন আক্তার। এরপর তদন্তকারী কর্মকর্তা একই অধিদফতরের ক-সার্কেলের পরিদর্শক হাওলাদার মো. সিরাজুল ইসলাম ২৮ আগস্ট আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

সাংবাদিক জলিল ওই সময় খুলনা প্রেস ক্লাবের সহকারী সম্পাদক ছিলেন। এছাড়া তিনি খুলনা ক্রাইম রিপোটার্স অ্যাসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ। তাকে গ্রেফতারের পর খুলনায় কর্মরত সাংবাদিকরা মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধনসহ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছিলেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম