নেট ব্যাগ বিক্রি করে স্বাবলম্বী শিলা

ঢাকা, রোববার   ১৯ মে ২০১৯,   জ্যৈষ্ঠ ৫ ১৪২৬,   ১৩ রমজান ১৪৪০

Best Electronics

নেট ব্যাগ বিক্রি করে স্বাবলম্বী শিলা

 প্রকাশিত: ১৩:৫২ ৭ অক্টোবর ২০১৮   আপডেট: ১৩:৫২ ৭ অক্টোবর ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছিল অভাবের সংসার। স্বামী প্যারালাইসিস রোগে আক্রান্ত। সত্তরোর্ধ বৃদ্ধ শ্বশুর। একসময় নুন আনতে পান্তা ফুরাতো। এক বেলা খাবার জুটলে আরেক বেলা না খেয়ে দিন অতিবাহিত করতে হতো তাদের। সর্বদাই অভাবের কারণে সংসারে ঝগড়া লেগেই থাকতো। 

অবশেষে ব্র্যাকের সহযোগিতায় প্রশিক্ষণ নিয়ে এখন স্বাবলম্বী হয়েছে রূপগঞ্জ উপজেলা সদর ইউপির কেয়ারিয়া গ্রামের কালীপদ দাসের স্ত্রী শীলা রানী। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ১৯৯৪ সালে ডেমরার মাতুয়াইল এলাকার গুরুদাস সরকারের মেয়ে শীলা রানীর সাথে কেরারিয়া এলাকার তারকচন্দ্র দাসের ছেলে কালীপদ দাসের সঙ্গে বিয়ে হয়। সে সময় স্বামী দিন মজুরের কাজ করতো । তা দিয়ে মোটামুটি ভালই চলতো তাদের সংসার।  কিন্তু ২০০৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ স্বামী কালীপদ দাস প্যারালাইসিস রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। 

কর্মক্ষমহীন বৃদ্ধ শ্বশুর তারক চন্দ্রও। সংসারে উর্পাজনের আর কেউ নেই। একদিকে স্বামীর চিকিৎসা খরচ অপরদিকে সংসারের খাবার খরচ। সব মিলিয়ে দিশেহারা হয়ে উঠে শিলা রানী। তখন উপার্জনের উৎস ছিল মাত্র একটি গরু। দিনে এক থেকে দেড় লিটার দুধ দিত। তা বিক্রি করে কোন রকম চলতো।  ২০১৪ সালের প্রথমদিকে  ব্র্যাকের কেয়ারিয়া এলাকায় নেট ব্যাগ বানানোর প্রশিক্ষন নেয় শীলা রানী। তারপর সে তার এক আত্মীয়ের কাছ থেকে কিছু টাকা ধার নিয়ে একটি সেলাই মেশিন ও ব্যাগ তৈরির জন্য কিছু মালামাল কিনে শুরু করে এ নতুন জীবনের যাত্রা। প্রথম দিকে অল্প পরিমাণে নেট ব্যাগ নিজে তৈরি করে বাগবেড় বাজারে বিক্রি করতো। এরপর ভক্তবাড়ী, চেয়ারম্যান বাড়ী বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে বিক্রি শুরু করে। এরপর থেকে তাকে আর পিছে তাকাতে হয়নি। বর্তমানে তার নিজের বাড়িতে ৪টি সেলাই মেশিন রয়েছে । কর্মচারী রয়েছে ৭ জন। তারা সবাই এলাকার অসহায় নারী। শীলা রানী নিজেই বাজারে বাজারে গিয়ে দোকানদারদের কাছ থেকে ব্যাগের অর্ডার নেই। এমনকি অনেক দোকানদার নিজেরাই এসে ব্যাগের অর্ডার দিয়ে যায়। সেই অর্ডার অনুযায়ী তার কর্মচারীরা ব্যাগ তৈরি করে তাকে দেয়। সেই ব্যাগ নিজেই আবার বাজারে বাজারে বিক্রি করে। বর্তমানে তার সংসারে এক ছেলে ঈশানসহ মোট ৪জন সদস্য রয়েছে। এখন আর কোন অভাব তার সংসারে নেই বললেই চলে। 
এদিকে, শীলা রানীর কাছ থেকে কাজ শিখে কেয়ারী এলাকার আধুরি রানী, লতা রানী, নীলা রানী, শেফারী রানী, অমৃতা রানী, সন্ধ্যা রানীসহ অনেক অসহায় নারী নিজ নিজ বাড়িতে সেলাই মেশিন কিনে নেট ব্যাগ তৈরি করে শীলা রানীর মাধ্যমে বাজারে বিক্রি করে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে।

এব্যাপারে শীলা রানী বলেন,স্বামী অসুস্থ হওয়ার পর আমি একবারেই হতাশায় ভেঙে পড়ে গেছিলাম। ব্র্যাকের প্রশিক্ষণ নিয়ে এ ব্যবসা করে আমি এখন অনেক ভাল আছি। নেট ব্যাগের এই ব্যবসা করার পর থেকে আমাদের সংসারের অর্থনৈতিক অবস্থা এখন অনেক ভাল। এলাকার অন্যান্য আরো যে সকল মহিলা আছে তাদেরকে এই ব্যাগ তৈরির ট্রেনিং দেয়া দরকার। কারণ, এটার চাহিদা অনেক বেশি। আর এ জন্য বাড়ির বাইরেও যাওয়ার দরকার হয় না। বর্তমানে শিলা রানীর মাসিক আয় ৪০থেকে ৪৫ হাজার টাকা। এমনকি শিলা রানী কেয়ারিয়া বাজার কমিটিতে একজনই শুধু নারী হিসাবে সদস্য হতে পেরেছে বলে নিজে অনেক ধন্য মনে করেন।

এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ সদর ইউপি চেয়ারম্যান আবু হোসেন ভূইয়া রানু বলেন, শীলা রানী একজন সফল নারী। তার একান্ত প্রচেষ্টার কারনে আজ সে স্বাবলম্বী। আমি মনে করি চেষ্টা করলেই যে কোন অসাধ্য কাজ সাধ্য করা যায়। বর্তমানে তার দেখাদেখি অনেকে এ কাজে এগিয়ে আসছে ও নিজের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলেছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম

Best Electronics