Alexa মিজোরামে গেলে অবাক হতে হয়!

ঢাকা, শুক্রবার   ১৫ নভেম্বর ২০১৯,   কার্তিক ৩০ ১৪২৬,   ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

মিজোরামে গেলে অবাক হতে হয়!

অর্পিতা সেন ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:৩১ ১৭ অক্টোবর ২০১৯  

এপ্রিলে মিজোরামে অনুষ্ঠিত হয় আন্তুরিয়াম উৎসব

এপ্রিলে মিজোরামে অনুষ্ঠিত হয় আন্তুরিয়াম উৎসব

ছুটিতে পাহাড় কিংবা জঙ্গল যেখানেই যান– ‘ঠাঁই নেই, ঠাঁই নেই’। হুট করেই মনে হল মিজোরামের কথা। আমাদের প্রথম গন্তব্য রেইক। আইজল শহর ছাড়িয়ে যেতে হবে আরো ৩০ কিলোমিটার। সেদিন ছিল রোববার, সব মানুষ চার্চমুখী– একটি দোকানও খোলা ছিল না।

রেইকের (জেলা মামিট) উচ্চতা পাঁচ হাজার ফুটেরও বেশি। ঘন সবুজ বনাঞ্চলে ঘেরা পথ, মাঝে মাঝে ঝরনা – নীল আকাশ আর প্রান্তরের সবুজ মিশে তৈরি হয়েছে এক অপূর্ব নৈসর্গিক দৃশ্য। পথে পড়ল মিজোরামের প্রধান নদী টিঅং। রেইকের সরকারি পর্যটন রিসোর্টে পৌঁছাতে বিকেল গড়ালো। ছোট্ট রিসোর্ট, শান্ত আরণ্যক পরিবেশ। রেইকে বেড়াতে আসার সবচেয়ে ভালো সময় এপ্রিল মাস –এখানে তখন তাদের প্রিয় ফুলের নামে হয় আন্তুরিয়াম উৎসব। এই উৎসবের অন্যতম উদ্দেশ্য দেশজ শিল্প-সংস্কৃতিকে তুলে ধরা। রিসোর্টের পাশেই পর্যটন বিভাগের গড়া মিজোদের আদি গ্রাম ও তাদের প্রাচীন জীবনযাত্রার নানা উপকরণের নমুনা। সঙ্গে আছে দু-একটি আধুনিক বাড়িও, পার্থক্যটা সহজেই চোখে পড়ে।

মিজোরামের অন্যতম জনপ্রিয় পার্বত্য শহর মুইফাং। রেইক থেকে আইজল হয়ে যেতে হবে মুইফাং, আইজল শহর থেকে দূরত্ব ৫০ কিলোমিটার। সবুজ গালিচায় মোড়া প্রশস্ত উঁচু-নিচু প্রান্তরে মুইফাং-এর সরকারি রিসোর্ট, পাহাড় দিয়ে ঘেরা, পাহাড়ের অরণ্যের অনেকাংশেই মানুষের পদচিহ্ন পড়েনি এখনো। কাঁচে ঘেরা ছোট ছোট কটেজ থেকে চোখে পড়ে সবুজ পাহাড়ের কোলে মেঘের খেলা। মন্থর পায়ে হাঁটতে হাঁটতে চোখে পড়ল দূরের কিছু কিছু জনবসতি - কোথাও ঘরের সামনে গিটার নিয়ে বসে পড়েছে ছেলেমেয়েরা। ভিনদেশের লোক দেখে সবাই আলাপ জমাতে চায়, ভাষা সমস্যা থাকলেও চোখেমুখের আন্তরিকতা সেই সমস্যা মেটায়।

মিজোরামে দেখার মতো অনেক কিছুই আছে

মুইফাং থেকে চম্ফাই। রাস্তায় পড়ল থানজোয়াল- মিজো বয়নশিল্পর কেন্দ্র। ঘরে ঘরে তাঁতে বোনা হচ্ছে উজ্জ্বল রং-এর মিজো পোশাক, চাদর, ব্যাগ। এসব দেখলে চোখ ফেরানো যায় না। এখান থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে ভেন্টাং জলপ্রপাত। মিজোরামের সবচেয়ে বড় জলপ্রপাত, এক পাহাড়ের মাথা থেকে দেখছি আরেক পাহাড় থেকে নেমে আসা জলপ্রপাত, দূর থেকেও বোঝা যাচ্ছে তার দাপট। কাছেই আছে আরেকটি জলপ্রপাত-তুইরিহিয়ান। ভেন্টাং-এর তুলনায় অনেক ছোট, কিন্তু একেবারে পাশে বসে দেখা যায়- এ যেন অনেক আপন।

চম্ফাই শহর জেলা সদর। সীমান্ত ঘেঁসা, মায়নামারের পাহাড় দিয়ে ঘেরা এক উপত্যকা। মিজোরামের সর্বাধিক সমতল ভূমি এই উপত্যকাতেই আছে। সকালে রওনা হয়ে এখানে পৌঁছাতে প্রায় বিকেল হয়ে গেল! চমৎকার ট্যুরিস্ট কটেজের বারান্দায় দাঁড়িয়ে দেখা যায় নীল পাহাড়ে ঘেরা ধানের ক্ষেত। এখান থেকে যাওয়া যায় মায়নামারের রি ডিল। এই হ্রদটি মিয়ানমারে হলেও একে বলা হয় মিজোরামের বৃহত্তম প্রাকৃতিক হ্রদ।

আইজলে ফেরার পালা। পথে থামলাম আরেক জায়গায়, নাম সাইতুল। উদ্দেশ্য দীর্ঘ পথযাত্রা কমানো এবং সাইতুলের কাছেই আছে মিজোরামের আরেকটি হ্রদ সেটা দেখা। সাইতুল থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে অরণ্যে ঘেরা ছোট্ট হ্রদ তামদিল। হ্রদের পাশেই পর্যটন বিভাগের অতিথিনিবাস। ‘টাম’ হল মিজোভাষায় সরষে গাছ। তারও গল্প আছে। সেটা ওখানে গিয়ে শুনুন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে