Exim Bank Ltd.
ঢাকা, রবিবার ২২ জুলাই, ২০১৮, ৭ শ্রাবণ ১৪২৫

‘মা’ আমার প্রথম শিক্ষক

মা আমার প্রথম শিক্ষক। শুধু কি আমার? প্রত্যকটি মানুষ এবং বৃহৎভাবে বললে প্রতিটি প্রাণীরই প্রথম শিক্ষক মা। যে সন্তানটি জন্মের পর মায়ের দেখা পায় না; তারও প্রথম শিক্ষক ওই মা-ই। কারণ, মায়ের সঙ্গে সম্পর্কটা প্রাকৃতিক। গর্ভে থাকাকালীন অবস্থায়ই মায়ের সঙ্গে সম্পর্কের শুরু হয়।

সন্তানকে শিক্ষা দিতে মায়েরও প্রস্তুতি শুরু হয় সন্তান গর্ভে আসার পর থেকেই। চঞ্চল দুরন্তর কিশোর মেয়েটি, বিয়ের পরও যার মধ্যে তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি; সে মেয়েটিরই আমূল পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় সন্তান গর্ভে আসার পর। নিজের প্রতি উদাসীন মেয়েটি যতœবান হয়ে ওঠে সন্তানের কথা ভেবে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম রাষ্ট্রপতি জর্জ ওয়াশিংটন বলেছিলেন, ‘আমার দেখা সবচেয়ে সুন্দরী মহিলা হলেন আমার মা। মায়ের কাছে আমি চিরঋণী। আমার জীবনের সব অর্জন তারই কাছ থেকে পাওয়া নৈতিকতা, বুদ্ধিমত্তা আর শারীরিক শিক্ষার ফল।’ যথার্থই বলেছেন। মায়ের থেকে পাওয়া নৈতিকতা, বুদ্ধিমত্তা আর শারীরিক শিক্ষা নিয়েই তো চলতে হয় পুরো জীবন। জীবনে চলতে চলতে অনেক ঘটনা-শিক্ষা-অভিজ্ঞতা যোজন বিয়োজন হয়। কিন্তু মূল ভিত তো মায়ের থেকে পাওয়া ওই শিক্ষাটুকুই। এ ভিতের ওপর ভর করেই একেকটি সাধারণ মানুষ হয়ে ওঠেন আদর্শ ব্যক্তিত্ব। দায়িত্ব নেন সমাজ বিনির্মাণের। সমাজের প্রথম শর্তই তো বন্ধন। পারস্পরিক বন্ধনেই সমাজ গড়ে ওঠে। আর এ সামাজিক বন্ধনের প্রথম শিক্ষাটা আসে মূলত পরিবার থেকে। আরো স্পষ্ট করে বললে ওই মায়ের থেকেই। ‘মা’ নামের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে আলাদা শক্তি। একজন মা মানেই একটি প্রতিষ্ঠান। একটি পৃথিবী এবং তার থেকেও অধিকতর কিছু। মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হওয়ায় দেখেছি কীভাবে একজন মায়ের প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে চালিয়ে নিতে হয় সংসার নামক জাহাজটিকে। এটির মূল চালিকা শক্তি আয়-উপর্জন বাবার হাত ধরে আসলেও চালকের দায়িত্ব তো মাকে-ই পালন করতে হয়। বাবা তো থাকেন তার কাজের তালে। এই অল্প উপার্জনের সংসারে জোরা-তালি দিয়ে দিয়ে। এ কলসির পানি ও কলসিতে ঢেলে সংসারটাকে টেনে টুনে চালিয়ে নেয়ার মন্ত্র জানা থাকে মায়েদের। শত অভাবেও সন্তানদের টের পেতে না দেয়ার চেষ্টায় পালন করেন অভিজ্ঞ অভিনেত্রীর ভূমিকা। অসুস্থ মা-ই নিয়ম করে খবর নেন সুস্থ সবার। কর্মব্যস্ততায় ডুবে থাকা সবার পাশে ভেলার মতো ভেসে থাকেন মা।

ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি এ পি জে আবদুল কালাম তার একটি লেখায় উল্লেখ করেছেন, ‘একদিন সব ভাইবোন মিলে খাওয়ার সময় মা আমাকে রুটি তুলে দিচ্ছিলেন, আমিও একটা একটা করে খেয়ে যাচ্ছিলাম (যদিও ভাত আমাদের প্রধান খাবার, কিন্তু রেশনে পাওয়া যেত গমের আটা)। খাওয়া শেষে বড় ভাই আমাকে আলাদা করে ডেকে বললেন, ‘কালাম, কী হচ্ছে এসব? তুমি খেয়েই চলছিলে, মাও তোমাকে তুলে দিচ্ছিল। তার নিজের জন্য রাখা সব কটি রুটিও তোমাকে তুলে দিয়েছে। এখন অভাবের সময়, একটু দায়িত্বশীল হতে শেখো। মাকে উপোস করিয়ে রেখো না।’ শুনে আমার শিরদাঁড়া পর্যন্ত শিউরে উঠল। সঙ্গে সঙ্গে মায়ের কাছে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরলাম।’ এমন ঘটনার সাক্ষী শুধু এ পি জে আবদুল কালামই নন। প্রত্যক সন্তানের প্রতিই মায়েদের ভালোবাসা থাকে নিখাঁদ। নিজের আগেও সন্তানের কথা চিন্তা করেন কেবল মা-ই। আর যে কারো উঠে আসার পেছনে মায়ের ভূমিকা সর্বাগ্রে; এ কথা বোঝার জন্য রকেট সায়েন্স আয়ত্ব করার প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন নেই উচ্চতর ডিগ্রিরও। নিজ ঘটনা থেকেই আমরা বুঝতে পারি। আমার মায়ের কথাই যদি বলি। আর দশজন মায়ের মতোই সাধারণ মা আমার। তবুও আলাদা। শৈশব থেকেই দিয়ে রেখেছেন স্বাধীনতা। ভালো-মন্দটুকু বুঝিয়েছেন নিজের মতো করে। বন্ধুদের জন্য যখন পূঁজা দেখা, মেলায় যাওয়া, সার্কাস দেখা ছিল নিষিদ্ধ; তখন মা আমাকে উস্কে দিতেন ওসব দেখার জন্য। বন্ধুরা মিলে মেলায় গিয়ে খরচ করবো বলে আলাদা করে টাকা দিতেন। বন্ধুদের বাড়ি থেকে নিষেধাজ্ঞা থাকায় পালিয়ে আসত আমার বাড়িতে। পূঁজা দেখে ফিরে রাতে আমার কাছে ঘুমাতো। আমার মা রান্না করে খাওয়াতেন সবাইকে। মনে পড়ে, আমার লেখা কবিতা ঢাকার একটি সাপ্তাহিক পত্রিকায় পাঠানোর জন্য প্রথম সহযোগিতা মা-ই করেছিলেন। নিজের জমানো টাকা বের করে দিয়েছিলেন কবিতা পোস্ট করার জন্য। ন্যূনতম বাধা পাইনি সামাজিক কোনো কাজে।

স্বাভাবিকভাবেই যে কোনো কাজ করার আগেই মাকে জানিয়ে রাখতাম। বললেই নিষেধ করবে এমন কোনো শঙ্কা ছিল না। ফলে মন্দ কাজটি থেকে মা ঠিকই ফেরাতে পারতেন সহজে। এভাবেই সমাজের প্রচলিত নেতিবাচক প্রভাব থেকে মুক্ত রেখেছেন মা। হয় তো আজ এ কারণেই স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে পারি। এ কারণেই ভিন্ন ধর্মালম্বীকে শত্রু মনে হয় না। সহজেই মেনে নিতে পারি ভিন্ন মতের মানুষকেও। শিক্ষা নিতে পারি যে কোনো পরিবেশ বা পরিস্থিতিতে। এটা মায়েরই শিক্ষা। আমি বিশ্বাস করি কোনো মা-ই সন্তানের মন্দ চান না। এরপরও সমাজের মন্দ কাজগুলোও কোনো না কোনো মায়ের সন্তানের দ্বারাই হয়। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বাবা-মায়ের সঙ্গে যে সন্তানের দূরত্ব যত বেশি সে সন্তান দ্বারা ক্ষতিকর কর্ম তত বেশি হয়। সেটা হোক নিজের ক্ষতি কিংবা অন্যের। সব শেষে তো সমাজেরই। তাই বলার অপেক্ষা রাখে না, মা-সন্তান সম্পর্ক সব সময়ই বন্ধুত্বপূর্ণ হওয়া জরুরি। আমার সমাজের আজ যা কিছু নেতিবাচক আছে তার সমাধানের জন্য মা-সন্তান সম্পর্ক হতে হবে আরো গভীর। আরো স্বচ্ছ।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। এর দায় ভার পুরোপুরি লেখকের। ডেইলি বাংলাদেশ-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

লেখক: গণমাধ্যমকর্মী

আরও পড়ুন
সর্বাধিক পঠিত
চার মাসের ‘গর্ভবতী’ বুবলী!
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভিসা সেন্টার এখন ঢাকায়
শাকিবের সঙ্গে বিয়ে, যা বললেন নায়িকা বুবলী
ক্যামেরায় সম্পূর্ণ নগ্ন হয়েছেন এই অভিনেত্রীরা, কারা এরা?
ভেঙে গেলো পূর্ণিমার সংসার, পাল্টা জবাবে যা বললেন নায়িকা
মায়ের জিন থেকেই শিশুর বুদ্ধি বিকশিত হয়!
বিদ্যুৎ বিল কমিয়ে নেয়ার কিছু টিপস
ব্যর্থ হলো মার্কিন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী পরীক্ষা
এইচএসসি'র ফল জানা যাবে যেভাবে
ধর্ষণের কবলে মৌসুমী হামিদ, ধর্ষক গাড়িচালক!
চীনের মধ্যস্থতায় তথ্য আদান-প্রদানে সম্মত পাকিস্তান-আফগানিস্তান
বিশ্বকাপের সব গোল্ডেন বল জয়ীরা
গৌরিকে নিয়ে ভক্তের প্রশ্ন, উত্তর দিলেন শাহরুখ!
জাবির 'এইচ' ইউনিটের ফল প্রকাশ
যেসব দেশে কোনো নদী নেই
মহান আল্লাহ তাআলা যাদের প্রতি সন্তুষ্ট
আমি বিশ্বের সেরা ক্লাবটিই বেছে নিয়েছি
কাতার বিশ্বকাপ নিয়ে কিছু ভবিষ্যতবাণী!
নিখোঁজের ৩৭ বছর পর ফিরে এসেছিলো যে বিমান
ভাত খাওয়ার পর যেসব ভুল ডেকে আনছে মৃত্যু
শিরোনাম:
দিল্লি পৌঁছে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এরশাদ ১ রানে বাংলাদেশের ১ উইকেটের পতন টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ সিরাজুল ইসলামকে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র করা হয়েছে পদোন্নতিতে পেশাগত দক্ষতার ওপর জোর দিলেন প্রধানমন্ত্রী