মায়ের দুধের অভাবে সংকটাপন্ন নবজাতক

.ঢাকা, বুধবার   ২৪ এপ্রিল ২০১৯,   বৈশাখ ১১ ১৪২৬,   ১৮ শা'বান ১৪৪০

মায়ের দুধের অভাবে সংকটাপন্ন নবজাতক

বগুড়া প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ১৭:৫০ ৮ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৭:৫০ ৮ ডিসেম্বর ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

অনাদর আর অবহেলায় একটি নবজাতকের জীবন সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে। নবজাতক শিশুটির নাম আফিফ। ময়মনসিংহ সদরে বসবাস করেন শিশুটির বাবা আর মা বসবাস করেন বগুড়া শহরের ঠনঠনিয়া এলাকায়। মা বাবার মধ্যে ছাড়াছাড়ি হওয়ায় শিশুটির এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটির আকুতি সে বাঁচতে চায়!

শিশুটির বাবা আসিফ হোসেন বলেন, স্ত্রীর পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় ৮ মাসের গর্ভবতী অবস্থায় শিশুটির আমাকে তালাক দেন। তারপর বাচ্চা হওয়ার অর্থাৎ ডেলিভারি ডেটের অনেক পূর্বে বাচ্চার বাবাকে না জানিয়ে সিজারের মাধ্যমে জন্ম দেন নবজাতক আফিফকে। জন্মের ৫ দিনের মাথায় শিশুটির বাবা অন্য একটা মাধ্যমে জানতে পারে তার ছেলে সন্তান হয়েছে। তাৎক্ষনিক শিশুর বাবা দাদী বুক ভরা আশা আর আনন্দ নিয়ে বাচ্চার জন্য কেনাকাটা করে ময়মনসিংহ হতে বগুড়া আসে। শশুর বাড়ি যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শশুড়সহ বাচ্চার গর্ভধারিনী মা বলে বাচ্চা এখনই আপনারা নিয়ে যান। বাচ্চা এখানে কেউ পালতে পারবে না। বাচ্চার বাবা দাদী এবং আশপাশের সবাই অনেক কাকুতিমিনতি করে বাচ্চাটা মায়ের কাছে রাখতে চেষ্টা করে। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে বাচ্চার বাবা বাচ্চার মাকে বগুড়া রেখেই ৫ দিনের নবজাতক শিশুকে কোলে নিয়ে ময়মনসিংহ চলে যান। শিশুটি ময়মনসিংহ নিয়ে যাওয়ার পর কৌটার দুধ খাওয়ার ফলে বাচ্চা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। ডাক্তার বলছেন সময়ের অনেক পূর্বে সিজার করার ফলে বাচ্চার শারীরিক বৃদ্ধি পূর্ণাঙ্গ হয়নি,যার ফলে বাচ্চার ওজন অনেক কম এবং খুব দূর্বল। ডাক্তার বলছে এই বাচ্চা বাঁচাতে হলে মায়ের বুকের দুধ খুব প্রয়োজন। বাচ্চা এমন গুরুতর অবস্থায় মেডিকেলে রেখে বাচ্চার বাবা বাচ্চার মাকে ফোন দিয়ে বাচ্চার জীবন বাঁচাতে বুকের দুধ ভিক্ষা চায়। কিন্তু মায়ের মন গলেনি। ১০ দিন ধরে শিশুটি সংকটাপন্ন জীবন কাটাচ্ছে। 

এই অবস্থায় নবজাতক শিশুটির বাবা নিজের সন্তানের জীবন বাঁচাতে গণমাধ্যম, প্রশাসন এবং পুরো বগুড়াবাসীর কাছে সহযোগিতা কামনা করেছেন। 

এদিকে মা শারমিন বলেন,পরকীয়ার অভিযোগ মিথ্যা।ময়মনসিংহে আসিফ আমার কাছে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। টাকা না পেয়ে আমাকে এবং আমার বাবাকে মারধর করে। বাধ্য হয়ে সন্তান পেটে থাকা অবস্থায় তাকে তালাক দেই। সন্তান হওয়ার পর ওরা যখন (আসিফ)দেখতে আসে তখন ওদের সন্তান ওদের কাছে দিয়ে দিয়েছি। ওরা মানুষ ভাল না। সন্তানের কিছু হলে থানা পুলিশ করতো। থানা পুলিশ থেকে বাঁচাতে ওদের সন্তান ওদের দিয়ে দিয়েছি। যার সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে সে যদি সন্তান দেখার অজুহাতে আমাদের বাড়িতে আসতো তাহলে মানুষ কি বলতো? আমি খোঁজ নিয়েছি সন্তান ভাল আছে।

শারমিনের বাবা আমিনুল ইসলাম হেলাল বলেন, ওই ছেলেটা খুব খারাপ। আমাকে মেরেছে আমার মেয়েকে মেরেছে। পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক চায়। এত টাকা কোথা থেকে দেব।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম