Alexa মায়ের কোলে ফিরলেও আতঙ্কে সেই শিশু 

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৩ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ৯ ১৪২৬,   ২০ জ্বিলকদ ১৪৪০

অভিবাসন আইন

মায়ের কোলে ফিরলেও আতঙ্কে সেই শিশু 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:১২ ১৯ জুন ২০১৯   আপডেট: ১১:১৯ ১৯ জুন ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

মাত্র চার মাস বয়সে মা-বাবার কাছ থেকে আলাদা হতে হয় শিশুটিকে। অভিবাসী নিয়ন্ত্রণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জিরো টলারেন্স নীতির শিকার শিশু কনস্তানতিন। 

দেশটির সীমান্তে পরিবারের কাছ থেকে শিশুকে কেড়ে নিয়েছিলেন অভিবাসন কর্মীরা। বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে সেই নীতি থেকে সরে আসেন ট্রাম্প। এরপর আট মাস বয়সে মায়ের কোলে ফিরে মাকে আর চিনতেই পারেনি শিশু কনস্তানতিন। এখন দেড় বছর বয়সেও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি শিশুটি।

মার্কিন সংবাদপত্রের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের নীতির জেরে ২০১৮ সালের এপ্রিল থেকে মে মাসের মধ্যে ১,৯৫৫ শিশুকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল তাদের মা-বাবার থেকে। পরে তারা পরিবারে ফিরলেও আতঙ্ক কাটেনি।

২০১৮ সালে রোমানিয়া থেকে মার্কিন সীমান্তে এসেছিল কনস্তানতিনের পরিবার। দীর্ঘদিনের দাসত্ব, হিংসা, অভাব, বৈষম্যের হাত থেকে মুক্তি পেতে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নেয়ার কথা ভাবে পরিবারটি। বাড়িঘর বিক্রি করে মেক্সিকোর উদ্দেশে পাড়ি দেন তারা। 

কিন্তু সীমান্তে যাওয়ার জন্য বাস ধরার পরেই আলাদা হয়ে যান ভাসিলে ও ফ্লোরেনটিনা। কনস্তানতিনকে নিয়ে সীমান্তে পৌঁছে যান ভাসিলে। সেখানে পৌঁছতেই শিশুটিকে কেড়ে নেন অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। 

ভাসিলে বলেন, ওরা আমায় দু’মাস আটকে রেখেছিল। পুলিশ আমায় দিয়ে ঘর মোছাত। আমি কান্নাকাটি করতাম ছেলের জন্য। ওদের বলেছিলাম, আমি ইংরেজি বুঝতেও পারি না, বলতে পারি না। 

অপরদিকে সন্তানসহ ফ্লোরেনটিনাকে রোমানিয়ায় ফেরত পাঠানো হয় সীমান্ত থেকেই। ছেলেকে ফেরত পাওয়ার আশায় দিন গুণতে থাকেন ভাসিলে। তত দিনে মিশিগানে পালক পরিবারের কাছে পৌঁছে যায় শিশুটি। নিরিবিলি এক গ্রামে আদরযত্নেই বড় হতে থাকে সে। তার সেই বড় হয়ে ওঠার মুহূর্তগুলোর ভিডিও করতে থাকেন পালক মা। 

কনস্তানতিনের আট মাস বয়সে আদালত তাকে পরিবারের হাতে তুলে দেয়ার অনুমতি দেন। কিন্তু তত দিনে নিজের মাকে ভুলে যায় দুধের শিশুটি। মায়ের কোলে ফিরেও পালক মায়ের জন্য কান্না থামে না তার। আতঙ্কে ভুগতে থাকে শিশুটি। কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে সে। বর্তমানে দেড় বছরের বেশি বয়স হলেও এখনও বুলি ফোটেনি কনস্তানতিনের। একা হাঁটতেও শেখেনি সে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে