Alexa মায়ের কাছে শেষ যে আবদার করেছিল আবরার

ঢাকা, শুক্রবার   ১৫ নভেম্বর ২০১৯,   অগ্রাহায়ণ ১ ১৪২৬,   ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

মায়ের কাছে শেষ যে আবদার করেছিল আবরার

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:১৭ ১৪ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ১৬:৩৬ ১৪ অক্টোবর ২০১৯

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ছেলের মৃত্যুর খবর শোনার পর থেকে নাওয়া-খাওয়া প্রায় ভুলেই গেছেন আবরার ফাহাদের মা রোকেয়া বেগম। শোকের পাথর বুকে নিয়ে ছেলের স্মৃতি রোমন্থন আর আহাজারি করেই কাটছে তার দিন।

সোমবার বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের মার সঙ্গে ডেইলি বাংলাদেশের প্রতিবেদকের কথা হয়। সে সময় ছেলের শেষ আবদারের কথাগুলো বলতে গিয়ে অঝোরে তার চোখের পানি পড়ে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে রোকেয়া বেগম বলেন, চার বছর হয়ে গেছে আবরার ঢাকা গিয়েছিল। শুধু একবার ছাড়া প্রতিবারই সে চলে যাওয়ার সময় চালের রুটি ও মুরগির মাংস রান্না করে দিয়েছি। কারণ, জার্নির পর ক্লান্ত হয়ে পড়লে সে বাইরের কিছু খেতে চাইবে না। এজন্য প্রতিবার  যাওয়ার সময় আমি ওকে রাতের খাবার রান্না করে দিয়েছি।

তিনি আরো বলেন, আবরার তার পছন্দের খাবারের কথা খুব একটা বলতো না। কখনো তেমন কোনো খাবারের আবদারও করতো না। কিন্তু শেষবার যখন সে বাড়িতে গেল তখন এর ব্যতিক্রম ঘটেছিল। মুখ ফুটে মায়ের কাছে আবদার করে বসেছিল।

আবরারের মা জানান, আবরার আসার পরে তিনি ফ্রাইড রাইস (ভাজা ভাত) করেছিলেন। খেতে একটু খারাপই হয়েছিল। কিন্তু আবরার খেয়ে বলেছিল, আম্মু বিশ্বের অন্যতম এক ফ্রাইড রাইস হয়েছে। 

সে সময় রোকেয়া বেগম বিষয়টা বুঝতে পেরে ছেলেকে বলেছিলেন, এবারের মতো খাও, পরের বার এলে আমি সুন্দর করে রান্না করে দেব।

আবরারের জন্য ফালুদাও বানিয়েছিলেন মা রোকেয়া বেগম। দাদাকে সঙ্গে করে আবরার আর তার ছোট ভাই আইসক্রিম দিয়ে খুব মজা করে সেটা খেয়েছিল। তখন আবরার মুখ ফুটে বলেছিল, আম্মু তুমি কাস্টার্ড করতে পারো না? আমাদের কাস্টার্ড করে খাওয়াবা।

আর এটাই মায়ের কাছে আবরার ফাহাদের শেষ আবদার। ওই আবদারের পর মা বলেছিলেন, পরের বার এলে তোমাকে কাস্টার্ড করে খাওয়াব। 

গত ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের সাধারণ ছাত্র ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আবরারকে শেরেবাংলা হলের দ্বিতীয় তলা থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর