‘মায়াবতী’ সবাইকে মায়ায় জড়িয়ে রাখবে: তিশা 
SELECT bn_content.*, bn_bas_category.*, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeInserted, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeInserted, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeUpdated, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeUpdated, bn_totalhit.TotalHit FROM bn_content INNER JOIN bn_bas_category ON bn_bas_category.CategoryID=bn_content.CategoryID INNER JOIN bn_totalhit ON bn_totalhit.ContentID=bn_content.ContentID WHERE bn_content.Deletable=1 AND bn_content.ShowContent=1 AND bn_content.ContentID=131822 LIMIT 1

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০,   আশ্বিন ৭ ১৪২৭,   ০৪ সফর ১৪৪২

‘মায়াবতী’ সবাইকে মায়ায় জড়িয়ে রাখবে: তিশা 

নাজমুল আহসান ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:১১ ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১১:০৩ ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ছবি: নুসরাত ইমরোজ তিশা

ছবি: নুসরাত ইমরোজ তিশা

রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে ১৩ সেপ্টেম্বর মুক্তি পাবে অরুণ চৌধুরী পরিচালিত সিনেমা ‘মায়াবতী’। এর নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা। ২ ঘণ্টা ২০ মিনিটের এ ছবির গল্প গড়ে উঠেছে ‘ওমেন ট্র্যাফিকিং’-এর মত বিষয়কে ঘিরে। ছবিতে তিশার নায়ক ‘স্বপ্নজাল’ খ্যাত ইয়াশ রোহান। ছবিটির নানাদিক নিয়ে ডেইলি বাংলাদেশের সঙ্গে কথা বলেছেন তিশা। সাক্ষাৎকারের বিশেষ অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরেছেন নাজমুল আহসান

‘মায়াবতী’ ছবিটি সম্পর্কে জানতে চাই?

‘মায়াবতী’র গল্প গড়ে উঠেছে ‘ওমেন ট্র্যাফিকিং’-এর মতো বিষয়কে ঘিরে। এখানে একটা সুন্দর গল্প রয়েছে। যেই গল্পে ভালোবাসা আছে, দুঃখ-কষ্ট আছে, গান আছে, নাচ আছে। সবকিছু মিলিয়ে সবাইকে মায়ায় জড়িয়ে রাখবে। সেই সঙ্গে ছোট্ট একটা মেসেজ আছে- না মানেই না। এই না বলার অধিকার সবার আছে এবং সেই না’টাকে সব মানুষের শ্রদ্ধা করা উচিত। এই মেসেজের উপর নির্ভর করে অরুণ চৌধুরী একটি সিনেমা বানিয়েছেন, আমরা সেখানে অভিনয় করেছি। 

এখানে আপনাকে কি ধরনের চরিত্রে দেখতে পাবে দর্শকরা?

ছবিটির নাম ভূমিকায় অর্থাৎ ‘মায়াবতী’র মায়া চরিত্রে দেখা যাবে আমাকে। ‘মায়া’ নামের এক কিশোরী ছোটবেলায় মায়ের কাছ থেকে চুরি হয়ে বিক্রি হয় দৌলতদিয়ার রেড লাইট এরিয়ায়। সেখানে বেড়ে ওঠা, সঙ্গীত গুরু খোদাবক্সের সঙ্গে গুরু-শিষ্য সম্পর্ক ও ব্যারিস্টার পুত্রের সঙ্গে মায়ার প্রেম নিয়ে সঙ্গীতনির্ভর ছবি ‘মায়াবতী’। কিন্তু হঠাৎ তার জীবনে নেমে আসে ভয়াবহ বিপর্যয়। এরপর ঘটতে থাকবে নানা ঘটনা।

নুসরাত ইমরোজ তিশাপোস্টারে দেখলাম চিকন চিকন বেণী, প্রিন্টের কামিজ একেবারেই ভিন্ন লুকে। যখন স্ক্রিপ্টটা হাতে পেলেন তখন কি ভেবেছিলেন?

আমি যখন ‘মায়াবতী’র স্ক্রিপ্টটা হাতে পেয়েছি গল্পটা অনেক সুন্দর লেগেছে। এ কারণেই সিনেমাটিতে অভিনয় করা। গল্পটা সম্পর্কে নির্মাতা অরুণ চৌধুরী আমাকে ব্রিফ করার পর আমার সামনে একটা চরিত্র দাঁড়ালো। যে ধারণা পেলাম চরিত্রটা এভাবে হাঁটবে এভাবে এগিয়ে যাবে, কি ধরনের কস্টিউম পড়বে, তার চুলের ধরণটা অন্যরকম হবে। এরপর আবারো নির্মাতার সঙ্গে আলোচনা করি, আমার কস্টিউম ডিজাইনার, মেকআপ আর্টিস্ট তাদের সঙ্গে মায়া চরিত্রটির বিষয়ে আলোচনা করি। সবকিছুর সমন্বয়ে এই চরিত্রটা পরিপূর্ণ হয়েছে। বাকিটা দর্শকদের উপর ছেড়ে দিলাম, তাদের কতোটা আপন মনে হবে মায়াকে।  

পোস্টার, ট্রেলার, গান দেখে এরই মধ্যে অনেকটাই আপন মনে করছে দর্শক। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত আপনার কেমন অভিজ্ঞতা হয়েছে?

সত্যি কথা বলতে আমরা যখন কোনো কাজ করি তখন ভালোবাসা থেকেই করি। সেই জায়গা থেকে অবশ্যই ‘মায়াবতী’র জন্য ভালোবাসা আছে, ভালো লাগা আছে, হৃদয় থেকে একটা টান আছে। এখন পর্যন্ত পোস্টার, ট্রেলার, গান দেখে দর্শকরা বেশ সাড়া দিচ্ছে। আশা করবো আমার এই মায়াটা সবদিকে ছড়িয়ে যাবে দর্শকদের মাধ্যমে। 

নায়ক ইয়াশ রোহানের সাথে নুসরাত ইমরোজ তিশা‘মায়াবতী’তে আপনার নায়ক ইয়াশ রোহান। আপনাদের বয়সের অনেক ফারাক, মানিয়ে নিলেন কিভাবে?

অভিনয়ের ক্ষেত্রে বয়স আসলে কিছু না। শিল্পী যেকোনো বয়সের হতে পারে। একজন অভিনেত্রী হিসেবে আমি চেষ্টা করি সব বয়সী শিল্পীর সঙ্গে মানিয়ে অভিনয় করতে। আমি আমার জায়গা থেকে সর্বাত্মকভাবে ভালো অভিনয় করার চেষ্টা করি। ইয়াশও ভালো অভিনয় করে। এই জুটিকে দর্শকদের ভালোই লাগবে বলে মনে করি। 

আপনার আগের ছবিগুলোর চেয়ে ‘মায়াবতী’র স্কোর এগিয়ে যাবে?

আমি কখনো এই প্রতিযোগিতায় যায়নি বা প্রতিযোগিতায় বিশ্বাস করি না। আবার আমার প্রতিযোগিতাটা নিজের সঙ্গে নিজেরও না। আমার প্রতিযোগিতা সব সময়ই একটা ভালো কাজের সঙ্গে। যেহেতু আমার অভিনয় কিছু দর্শক পছন্দ করে সেহেতু দর্শকদের ঠকাতে চাই না। আমার সর্বোচ্চ দিয়েই কাজ করি। সেটা নাটক, টেলিফিল্ম, ওয়েব সিরিজ বা সিনেমা হোক। সর্বদা একটা ভালো গল্প উপহার দেয়ার চেষ্টা করি। 

মাঝে আবারো প্রেক্ষাগৃহে দর্শক খরা চলছে, কি মনে হয় আগের ছবিগুলোর চেয়ে ‘মায়াবতী’ দর্শকদের হলমুখী করতে পারবে?

এটা আমি একেবারেই মানি না। কারণ আমারা দেখছি গত দুই বছরে আবারো দর্শকরা হলমুখী হয়েছে। অনেক ভালো ভালো সিনেমা এসেছে। এই ছবিগুলো দর্শকরাই দেখছে। আমি আশা করবো সামনে যে ছবিগুলো মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে সেগুলোর মাধ্যমে দর্শকরা আরো হলমুখী হবে। আর আমরাও দর্শকদের আরো ভালো ভালো মানসম্পূর্ণ সিনেমা উপহার দিতে পারবো। 

নায়ক ইয়াশ রোহানভক্তদের জন্য ‘মায়াবতী’ নিয়ে কিছু বলার আছে?

আমরা অভিনয় করি, নির্মাতারা সিনেমা বানায়, প্রযোজকরা টাকা লগ্নি করে শুধু মাত্র দর্শকদের জন্যই। দর্শকরা যখন সাপোর্ট করেন সেটা আমাদের উৎসাহ জোগায় যাতে সামনে ভালো সিনেমা বানাতে পারি। সেই দর্শকদের উদ্দেশ্যে বলবো- ভালো ভালো সিনেমা আসছে আপনারা হলে গিয়ে সিনেমাগুলো দেখুন। পরিবার বন্ধুবান্ধব নিয়ে সিনেমাটি দেখুন, ভালো সিনেমা প্রসঙ্গে সবাইকে জানান তাহলেই আমাদের কষ্ট স্বার্থক হবে। 

আপনি বিকল্পধারার ছবির পাশাপাশি বাণাজ্যিক ধারায়ও অভিনয় করেছেন, কোন টাকে এগিয়ে রাখবেন?

যখন ভালো চিত্রনাট্য পাই, তখন সেই ভালো কাজটার সঙ্গে, নির্মাতার সঙ্গে, চরিত্রের সঙ্গে কাজ করতে চাই। সেটা তখন কোন ধরনের ছবি হচ্ছে, তা আমার জন্য মুখ্য নয়। আমার মনে হয় আমার ডিকশনারিতে সব ধরনের ছবি থাকা উচিৎ। তাই আমি কোনটাকেই এগিয়ে রাখতে চাই না। সব সময় ভালো গল্পকে এগিয়ে রাখতে চাই।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনএ