Alexa মাহালি পরিবারের ব্যস্ত সময়

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৭ অক্টোবর ২০১৯,   কার্তিক ২ ১৪২৬,   ১৭ সফর ১৪৪১

Akash

মাহালি পরিবারের ব্যস্ত সময়

সুলতান মাহমুদ, দিনাজপুর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:৩৭ ১৬ মে ২০১৯  

দিনাজপুর বিরামপুরে ঈদুল সামনে রেখে ৩’শতাধিক মাহালি পরিবার সেমাই রাখার খাঁচি তৈরিতে রাতদিন ব্যস্ত সময় পার করছেন।

কলেজ বাজার, শিমুলতলী, পার্শ্ববর্তী ফুলবাড়ির মাদিলাহাট মাহালিপাড়া, মরিয়ামপুর মিশন, হরিপুর আদিবাসী পাড়া, চেরাগপুর মাহালী পাড়ার প্রায় ৩’শতাধিক মাহালি পরিবার  এখন ব্যস্ত সময় পার করছে সেমাই রাখার খাঁচি তৈরিতে।

বাঁশের চড়া দাম হওয়ার পরেও বাঁশের তৈরি সেমাইয়ের খাঁচি তৈরির এই ব্যবসা ধরে রেখেছেন মাহালি পরিবারগুলো। সেমাই কারখানার ব্যবসায়ীরা তৈরীকৃত সেমাই রাখার জন্য খাঁচির আগাম অর্ডার দিয়ে রাখেন মাহালিদের কাছে। এজন্য পূর্ব প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মাহালিরা আগাম খাঁচির জন্য বোকিং করে রাখেন। খাঁচি তৈরির একমাত্র উপাদান বাঁশ, যা সংগ্রহের জন্য মাহালি প্রধানেরা বিভিন্ন এলাকায় ঘুরছেন বাঁশ ক্রয় করতে। সারা বছর মাহালিদের তেমন কাজ-কর্ম না থাকায় ঈদ আসলে তাদের ব্যস্ততা খানিকটা বেড়ে যায়। দম ফেলানোর সময় থাকে না তাদের হাতে।

এদিকে বাঁশের দাম বেড়ে যাওয়ায় একটি খাঁচি তৈরি করার জন্য খরচ পড়ে ছোটগুলোতে ৪০-৫০ টাকা এবং বড়গুলো প্রায় ৬০-৮০ টাকা। অথচ সেমাই ব্যবসায়ীদের কাছে তা বিক্রী করছেন ছোট খাঁচি ৬০-৭০ টাকা ও বড় খাঁচি ৮০-১০০ টাকা দরে। লাভ না হলেও যা আয় হচ্ছে তাই দিয়ে তাদের পরিবার কিছুদিন চালাতে পারবেন বলে জানান তারা।

এদিকে বিরামপুর সরকারি কলেজ সংলগ্ন মাহালিপাড়ার বাঁশের তৈরি বিভিন্ন পন্যের গুনিকারিগর হিসাবে এলাকায় পরিচিত দিলিপ টুডু, সরলা মারডি, দিলীপ মারডি, সংখরী হাসদা, জোসেফ মারডি, ফিলিপ মারডি জানান, তারা শুধুমাত্র বাপ-দাদার ঐতিহ্য পেশাটিকে টিকিয়ে রাখার জন্য এই কাজটি করে যাচ্ছেন। লাভ না হলেও পরিবারের ছেলে মেয়েদের সবাইকে নিয়ে বাঁশের তৈরি এসব খাঁচি তৈরিতে তারা ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে রমজানের আগেই যদি কম দামে কিছু বাঁশ কিনে রাখা যেত তাহলে তাদের খানিকটা লাভ হত। কিন্তু অর্থ সংকটের কারনে তারা বাঁশ কিনে জমা রাখতে না পারায় এখন লাভের মুখ দেখতে পাচ্ছেন না মাহালিরা।

তারা আরো জানান, রমজান ছাড়া প্রায় সারা বছরে কমবেশি সময় পার করেন বাঁশের টোপা, ডালি, চাঙারী, কুলা, খইচালা,  গুমাইসহ নিত্য নৈমিত্তিক তৈজসপত্র ইত্যাদি তৈরীতে। এই শিল্পটি রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে এক সময় গ্রাম-বাংলার গৃহস্থালী ঐতিহ্যময় তৈজসপত্র কালের বির্বতনে হারিয়ে যাবে বলে মনে করেন অনেকে। এজন্য এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে মাহালি পরিবারগুলো সরকারের বিশেষ সহায়তা ও নজরদারীর দাবি জানান।

দিনাজপুরের ডিসি মাহমুদুল আলম জানান, ক্ষদ্র নৃগোষ্ঠীদের জন্য বর্তমান সরকার তাত শিল্পের ব্যবস্থা করছে। যাতে করে ক্ষৃদ্র নৃ গোষ্ঠীরা নতুন কর্মসংস্থানের মাধ্যমে সমাজে ভাল ভাবে বেঁচে থাকতে পারে। মাহালিদের আধুনিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ পেলে তাদের পরবর্তী বংশধররা প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে সমাজ উন্নয়নে এগিয়ে আসতে পারবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম