মাহফিল বন্ধ করতে বলায় দুই পুলিশকে পিটিয়ে জখম, আটক ২০ 

ঢাকা, রোববার   ০৫ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২৩ ১৪২৬,   ১২ শা'বান ১৪৪১

Akash

মাহফিল বন্ধ করতে বলায় দুই পুলিশকে পিটিয়ে জখম, আটক ২০ 

বগুড়া প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:৪৬ ২৬ মার্চ ২০২০  

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

বগুড়ায় একটি মাজারের উরস মাহফিল বন্ধ করতে বলায় দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করেছেন ওই মাজারের অনুসারীরা। 

বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শহরের গোয়ালগাড়ী এলাকায় শাহ্ ছেরাজুল হক চিশতীর মাজার প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করেন এবং মাজার ২০ অনুসারীকে আটক করে থানায় নিয়ে যান। 

জেলা পুলিশের অ্যাডিশনাল এসপি সনাতন চক্রবর্তী জানান, প্রতি বছরের মতো এবারো ২৫ মার্চ ওই মাজারের  উরস আয়োজনের খবর জেনে তারা কয়েকদিন ধরেই মাজার কমিটিকে অনুষ্ঠানটি বন্ধ করার অনুরোধ জানান। করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য বুধবার দুপুরেও পুলিশ সদস্যরা মাজারে গিয়ে  উরস আয়োজন বন্ধ করার নির্দেশনা দেন। কিন্তু গণজমায়েতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সন্ধ্যার পর থেকে ভক্তরা ওই  উরসে সমবেত হন। 

রাত ৯টার দিকে মাজারে গিয়ে উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নান্নু খান ও এএসআই জাহিদুর রহমান আবারো  উরস বন্ধের অনুরোধ জানালে মাজার অনুসারীরা তাদের ওপর চড়াও হন। তারা লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারপিট করেন ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে। 

সদর থানার ওসি এসএম বদিউজ্জামান জানান, রাত ১০টার দিকে সদর থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এসে আহত দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে মাজার থেকে উদ্ধার করে শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। মাজার অনুসারীদের মারপিটে তাদের দুজনই হাতেই হাতে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। 

পরে মাজারের বিভিন্ন কক্ষ থেকে আটক করা হয় অন্তত ২৩ জন পুরুষ মাজার অনুসারীকে। তাদের মধ্যে ওই ওয়ার্ডের সাবেক দুই কমিশনার নুরুল আমীন ও শফিকুল ইসলাম নয়নও রয়েছেন। 

ওসি আরো জানান, শাহ্ ছেরাজুল হক চিশতী বগুড়ার ভাষাসৈনিক গাজীউল হকের বাবা। ২০০৯ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত গাজীউল হক এই মাজারের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কাজ করেছেন। পরবর্তীতে তার ছেলে রাহুল গাজী এ মাজারের দেখভাল করতে শুরু করেন। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ