‘মাসে কমপক্ষে ৫০ হাজার টাকা প্রফিট করা সম্ভব’
SELECT bn_content_arch.*, bn_bas_category.*, DATE_FORMAT(bn_content_arch.DateTimeInserted, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeInserted, DATE_FORMAT(bn_content_arch.DateTimeUpdated, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeUpdated, bn_totalhit.TotalHit FROM bn_content_arch INNER JOIN bn_bas_category ON bn_bas_category.CategoryID=bn_content_arch.CategoryID INNER JOIN bn_totalhit ON bn_totalhit.ContentID=bn_content_arch.ContentID WHERE bn_content_arch.Deletable=1 AND bn_content_arch.ShowContent=1 AND bn_content_arch.ContentID=93543 LIMIT 1

ঢাকা, রোববার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০,   আশ্বিন ৬ ১৪২৭,   ০২ সফর ১৪৪২

‘মাসে কমপক্ষে ৫০ হাজার টাকা প্রফিট করা সম্ভব’

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৫৬ ২৬ মার্চ ২০১৯   আপডেট: ১৩:০৬ ২৭ মার্চ ২০১৯

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

সফল ব্যবসায়ী আঁখি হুসাইন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নৃ-বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স সম্পন্ন করে ক্যারিয়ার গড়েছেন ক্যাটারিং ব্যবসায়। তিনি ফার্স্ট ক্লাস পেয়ে পাশ করেছিলেন অনার্স, মাস্টার্স। পরিবারের সদস্যারা চেয়েছিলেন ভালো কোনো চাকরি করবেন আঁখি। কিন্তু তিনি চাকরি করতে চাননি। বেছে নিতে চেয়েছেন স্বাধীন পেশা। এসেছেন ক্যাটারিং ব্যবসায়। আঁখি হুসাইন স্পাইসি চিটাগং-এর সত্ত্বাধিকারী। সফলতার গ্রাফটাও উচ্চমুখী। সম্প্রতি ডেইলি বাংলাদেশের মুখোমুখি হয়েছিলেন আঁখি হুসাইন। কথোপকথনে ছিলেন স্বরলিপি।

পড়েছেন নৃবিজ্ঞানে। এলেন ক্যাটারিং ব্যবসায়। কেনো হলো এমন?

আঁখি হুসাইন: খুব বেশি চিন্তা না করে হুট করে ক্যাটারিংয়ের ব্যবসা শুরু করেছিলাম। ২০১৫ সালের আগস্ট মাস থেকে আমি কাজ শুরু করি। মাস্টার্স পাস করার পর স্বামী আর শ্বশুর-শাশুড়ি চাইছিলেন আমি যেন চাকরি করি। কিন্তু চাকরি আমাকে কিছুতেই টানছিল না, আবার বেকার থাকতেও চাচ্ছিলাম না। পরিবারের চাওয়াকে গুরুত্ব দিয়ে আমি পাঁচটি চাকরির লিখিত পরীক্ষা দেই। কোনোটাতে রেজাল্ট ভালো আসেনি। তার কারণ, আমি নিশ্চিত ছিলাম যে চাকরি করবো না। তাই পরীক্ষার খাতায় কিছু লিখতাম না। আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অ্যানথ্রোপলজিতে অনার্স, মাস্টার্স সম্পন্ন করেছি। দুটিতে ফাস্ট ক্লাস পেয়েছি। সব মিলিয়ে চাকরির পরীক্ষার ফলাফল যখন বারবার খারাপ হচ্ছিল, আমার স্বামী ব্যপারটা বুঝতে পারে। সে জানতে চায় আমি আসলে কি করতে চাই। বললাম, ব্যবসা করতে চাই। কি ব্যবসা করতে চাই সেটা তখনো জানতাম না। তারপর হুট করে মাথায় এলো আমি তো রান্না পারি। এটা নিয়ে ব্যবসা করলে কেমন হয়। যেই চিন্তা সেই কাজ। স্বামী খুব অ্যাপ্রিশিয়েট করল। কিন্তু তখনো আমি এই ব্যবসা নিয়ে কিছুই জানতাম না। ঠিক করলাম অনলাইন ভিত্তিক ব্যবসা করবো, তাই ফেসবুকে একটা পেজ খুললাম। স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে একটা মেন্যু ঠিক করলাম। মেন্যুতে এমন কিছু আইটেম রাখলাম যেগুলো আমি ভাল রান্না করতে পারি (আমি তার আগে শখে রান্না শিখেছিলাম)। চিটাগংয়ের মেয়ে তাই চিটাগংয়ের কিছু জনপ্রিয় খাবার যোগ করি মেন্যুতে। এরপর খুব রিজেনেবল একটা প্রাইজ ঠিক করলাম যাতে সামান্য লাভ থাকে। পেজ এ কিছু রান্নার ছবি আপলোড করলাম।

প্রথম কাজের অর্ডার পেলেন কীভাবে?

আঁখি হুসাইন: পরিচিত সবাইকে আমার ব্যবসার কথাটা জানালাম। ১৫ দিন পরেই ১ম অর্ডার পেলাম বান্ধবীর বড় বোনের কাছ থেকে ৩ কেজি কালা ভুনার। স্বামী’র কাছ থেকে ১৫০০ টাকা নিয়ে ব্যবসা শুরু করলাম। বিশ্বাস করবেন না, ওই অর্ডারে লাভ রেখেছিলাম মাত্র ২০০ টাকা। খাবার খেয়ে আপু খুবই পছন্দ করলেন। পেজ এ ৫* দিলেন। ওই দিনের পর থেকে আত্মবিশ্বাসের আর কমতি হয়নি।

রান্না শেখার জন্য প্রফেশনাল কোনো কোর্স করেছেন?

আঁখি হুসাইন: আমি আসলে শখ করে রান্নার কোর্স করেছিলাম একটা রান্নার স্কুলে। সেখানেই আমার রান্নার হাতেখড়ি। সেই অর্থে এইটাকে ঠিক প্রফেশনাল কোর্স বলা যায় না।

সব কাজ একাই করেন?

আঁখি হুসাইন:  এখন পর্যন্ত একসঙ্গে ৬৫০ জন মানুষের খাবারের আয়োজন করেছি। ২০০ মানুষের রান্না একা হাতেই সামলাতে পারি, কিন্তু এর ওপরে গেলে আমার সঙ্গে ৫ জনের একটা বাবুর্চি টিম থাকে। কেনো না লাকড়ির চুলার রান্নার প্রক্রিয়াটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানে অবশ্যই বাবুর্চি থাকতে হয়।

রাগী ক্লাইন্টকে কীভাবে সামাল দেন?

আঁখি হুসাইন: গত সাড়ে তিন বছরে এই রকম ক্লায়েন্ট পাইনি অথবা বলতে পারেন আমরা ক্লায়েন্টকে রাগ করার সুযোগ দেই না। ক্লায়েন্ট এর মতামত আমার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ক্লায়েন্ট- এর ডিমান্ড ক্লিয়ারভাবে বুঝে নেয়ার চেষ্টা করি।

কোন প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে নিয়মিত কাজ করা হয়?

আঁখি হুসাইন: আমি মূলত ব্যাংকের সঙ্গে কাজ করি। এখন পর্যন্ত প্রায় ১৬টি ব্যাংকের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। অনেকের সঙ্গে আবার খুব রেগুলার কাজ করি যেমন, এক্সিম ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, মুগদা হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

লেনদেন কীভাবে সম্পন্ন করা হয়?

আঁখি হুসাইন: আমাদের মূলত ক্যাশ অন ডেলিভারি সিস্টেম। কিন্তু ক্লায়েন্টের সুবিধার কথা চিন্তা করে আমরা বিকাশ কিংবা অ্যাকাউন্টে পেমেন্ট রিসিভ করি।

এই কাজের সঙ্গে কতজন জড়িত?

আঁখি হুসাইন: হেল্পিং হ্যান্ড, ডেলিভারি ম্যান, বাবুর্চি সবমিলিয়ে ১০ জনের টিম।

এই ব্যবসার একটা পিক টাইম আছে?

আঁখি হুসাইন: আছে। যেমন, ডিসেম্বর টু ফ্রেব্রুয়ারি এই টাইমে প্রতি মাসে প্রায় ৮০ হাজার টাকা প্রফিট করেছি। অন্যান্য সময়ে অর্ডারের পরিমাণ কম থাকে। তবে গড়ে ৫০ হাজার টাকা প্রফিট করা সম্ভব।

ক্যাটারিং ব্যবসায় সফলতার মূলমন্ত্র কী?

আঁখি হুসাইন: ক্লায়েন্টের রিভিউ, রেসপেক্ট, ট্রাস্ট। 

এই পেশা নিয়ে মন্তব্য কী?

আঁখি হুসাইন: আমি আমার কাজকে সম্মান করি এবং আমার কাজও আমাকে সম্মান করে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআরকে