মাশরাফিতে হতাশা আওয়ামী লীগে

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২০ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ৭ ১৪২৬,   ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

নড়াইল-২

মাশরাফিতে হতাশা আওয়ামী লীগে

 প্রকাশিত: ২০:০১ ২০ জুলাই ২০১৮   আপডেট: ২০:৪২ ২০ জুলাই ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

দু’মাস আগেও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে  আওয়ামী লীগের অন্তত এক ডজন মনোনয়নপ্রত্যাশী প্রচার-প্রচারণায় ছিলেন।

কিন্তু ক্রিকেট তারকা মাশরাফি বিন মুর্তজা আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন এমন সংবাদ প্রচারের পর মনোনয়নপ্রত্যাশী এসব নেতাদের মাঝে হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে। দু’একজন ছাড়া অধিকাংশকেই এখন আর মাঠে দেখা যাচ্ছে না।

বিএনপিসহ অন্যান্য দলের প্রার্থীর নাম শোনা গেলেও তা কেবল ডিজিটাল ব্যানার ও পোস্টারের মধ্যই সীমাবদ্ধ রয়েছে। এখন পর্যন্ত কাউকে মাঠে দেখা যায়নি।      

   

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের প্রাথী হিসেবে বর্তমান ওয়ার্কার্স পাটির জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ হাফিজুর রহমান এমপি নির্বাচিত হন।

এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা হলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোস, লে. কর্ণেল (অবঃ)  সৈয়দ হাসান ইকবাল, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ আইয়ুব আলী, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এস.এম আসিফুর রহমান বাপ্পি, সাবেক সংসদ সদস্য এস কে আবু বাকের, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিদ্দিক আহম্মেদ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুব ও ক্রীড়া উপ-কমিটির সদস্য শিল্পপতি শেখ মো. আমিনুর রহমান হিমু, শিল্পপতি বাসুদেব ব্যানার্জি, সাবেক ছাত্রনেতা হাবিবুর রহমান তাপস, রাশিদুল বাশার ডলার, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শেখ তরিকুল ইসলামসহ আরো অন্তত ৫-৬ জন।

বিএনপি থেকে সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের সিকদার, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট ড.এস এম সরোয়ার রহমান ও নড়াইল পৌরসভার সাবেক মেয়র জুলফিকার আলী।

তবে ২০ দলীয় জোট থেকে এনপিপি’র চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ মনোনয়ন পেতে পারেন বলেও শোনা যায়।

এছাড়া জাতীয় পার্টি থেকে জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট ফায়েকুজ্জামান ফিরোজ, জেলা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের  সাধারণ সম্পাদক এসএম নাছিরুদ্দীন, জেলা জাসদ সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুস ছালাম দলীয় মনোনয়ন পাবেন বলে আশাবাদী।

ভোটারসহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষের সঙ্গে আলোচনা করে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের প্রার্থী কে হচ্ছেন তা নিয়েই মূলত সর্বত্র আলোচনা চলছে।

সম্প্রতি মাশরাফি আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচন করবেন এমন খবরে প্রার্থীসহ সাধারণ মানুষের মাঝে সরগরম পড়ে যায়। অনেকেই মন্তব্য করেছেন মাশরাফির নির্বাচনে অংশ নেওয়াটা মোটেও ঠিক হবে না। আবার কেউ কেউ মনে করেছেন মাশরাফি নির্বাচনে অংশ নিলে মন্ত্রীত্ব পেতে পারেন। স্বাধীনতার পর নড়াইল জেলায় কোনো মন্ত্রীত্ব পাওয়া যায়নি। মাশরাফি নির্বাচনে এলে অবহেলিত নড়াইলের উন্নয়ন ঘটবে। 

তবে মাঠ ছাড়েননি লে. কর্নেল (অবঃ) হাসান ইকবাল। তিনি জানান, ১০ বছর আগে অবসরের পর থেকে নড়াইলের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। দলীয় কোনো পদ না থাকলেও নড়াইলবাসীর জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন কে পেল সেটা না ভেবে তিনি জেলার উন্নয়নে সব সময় কাজ করে যাবেন।

তরুণ আসিফুর রহমান বাপ্পীও মনে করছেন এবছর মনোনয়ন পাবেন। বিগত সংসদ নির্বাচনে দলীয়ভাবে মনোনয়ন পেলেও জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করায় ওয়ার্কার্স পার্টিকে আসনটি ছেড়ে দিতে হয়।

জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ আইয়ুব আলী নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ, সভা-সমাবেশ চালিয়ে যাচ্ছেন। 

ভোটারদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, গত নবম ও দশম জাতীয় সংসদে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা নড়াইলের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারেনি। একাদশ জাতীয় সংসদে এমন একজনকে মনোনয়ন দেয়া হোক, যিনি নড়াইলের উন্নয়নে কাজ করতে পারবেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/আজ