Alexa মাল্টায় নতুন রহস্য 

ঢাকা, সোমবার   ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ১ ১৪২৬,   ১৬ মুহররম ১৪৪১

Akash

মাল্টায় নতুন রহস্য 

সুকুমল কুমার প্রামানিক, রাণীনগর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৩৪ ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

দেশের উত্তরাঞ্চলের খাদ্য ভান্ডার নামে পরিচিত নওগাঁ। ধান উৎপাদনেও জেলাটি প্রসিদ্ধ। তবে জেলার রাণীনগরে এখন ধান উৎপাদনে ভাটা পড়েছে। তাই মাল্টা চাষে লাভের নতুন রহস্য পেয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। ফলে ধান চাষ ছেড়ে মাল্টা চাষে ঝুঁকছেন তারা। 

উপজেলায় ধান উৎপাদন ও দাম কম থাকায় লোকসান গুনছিলেন কৃষকরা। তবে সেই লোকসান কাটাতে লাভের নতুন পথ বের করেছেন উপজেলার কয়েক কৃষক।  উপজেলা কৃষি অফিসের সার্বিক সহযোগিতায় ভার্মিক পদ্ধতিতে বার-১ জাতের মাল্টা ছয় হেক্টর জমিতে রোপণ করা হয়েছে। এসব রোপণকৃত গাছে এরইমধ্যে মাল্টা ফল ধরেছে। এতে উপজেলার সবাই মাল্টা চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। 

রাণীনগরের খট্টেশ্বর গ্রামের মাল্টা চাষি সরফরাজ খাঁন বলেন, দুই বছর আগে ১৫ শতাংশ পতিত জমিতে কৃষি বিভাগের পরামর্শে মাল্টা বাগান গড়ে তুলি। এখন বাগানের প্রতিটি মাল্টা গাছে থোকায় থোকায় সবুজ মাল্টা ঝুলছে। গাছ লাগানোর ১৮ মাস পরই গাছে মাল্টা ধরতে শুরু করেছে। স্বাদ ও গুণ বিদেশি মাল্টার মতই। প্রতি কেজি মাল্টা ৭০-৮০ টাকা দরে বিক্রি করছি। চলতি মৌসুমে প্রতিটি গাছে প্রায় ১০ কেজি করে ফল এসেছে। আগামী বছরে প্রতিটি গাছে ৭০-৮০ কেজি মাল্টা পাওয়া যাবে বলে আশাবাদী। আগামীতে বাগানটির পরিসর বাড়ানোর চিন্তা রয়েছে। এছাড়া প্রতিদিনই মাল্টার বাগান দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে লোক আসছে। তারাও বাগান তৈরির আশা প্রকাশ করছেন। দর্শনার্থীদের বাগান তৈরির সব পরামর্শ দিচ্ছি। প্রথম বছরে মাল্টা চাষে অভাবনীয় সফলতা পেয়েছি। ধান চাষের পরিবর্তে মাল্টা চাষ করে লাভের নতুন রহস্য পেয়েছি। 

দর্শনার্থী রফিকুল ইসলাম, জব্বার মিয়াসহ অনেকে বলেন, মাল্টা চাষে সরফরাজ খাঁন একজন মডেল। তার গাছে মাল্টা ফল দেখে মন ভরে গেছে। বিদেশি ফল দেশে উৎপাদন করা সম্ভব, যা সরফরাজ করে দেখিয়েছেন। এটি অনেক লাভজনক ফসল। তাই আগামীতে মাল্টার বাগান তৈরি করার ইচ্ছা রয়েছে। 

রাণীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, উপজেলার মাটি ও আবহাওয়া মাল্টা চাষের জন্য খুবই উপযুক্ত। মাল্টা পুষ্টিকর ও রসালো একটি ফল। বাজারে মাল্টার চাহিদা বেশি থাকায় দামও ভাল রয়েছে। তাই মাল্টা চাষিরা দাম ভালো পেয়ে অনেক খুশি। ধানে লোকসান হওয়ার কারণে দিন দিন অধিক লাভজনক ফসল মাল্টা চাষে স্থানীয়রা ঝুঁকছেন। মাল্টার বাগান তৈরিতে সার্বিক সহযোগিতা ও পরামর্শ দিতে আমরা প্রস্তুত রয়েছি। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ