মার্কিন কংগ্রেসে সৌদি যুবরাজকে শাস্তির প্রস্তাব

.ঢাকা, শুক্রবার   ২৬ এপ্রিল ২০১৯,   বৈশাখ ১২ ১৪২৬,   ২০ শা'বান ১৪৪০

মার্কিন কংগ্রেসে সৌদি যুবরাজকে শাস্তির প্রস্তাব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

 প্রকাশিত: ১৯:৪৫ ৭ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৯:৪৫ ৭ ডিসেম্বর ২০১৮

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ছবি: সংগৃহীত।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ছবি: সংগৃহীত।

আলোচিত সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বিরুদ্ধে শাস্তির প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন মার্কিন সিনেটেররা। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে এ প্রস্তাবনা তুলেছেন রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটিক পার্টির শীর্ষ ছয় সিনেটরের একটি দল।

খাশোগির হত্যাকাণ্ড নিয়ে সিআইএ প্রধান গিনা হাসপালের ব্রিফিং শোনার পর বুধবার যুবরাজের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের এ পদক্ষেপ নেন তারা। বৃহস্পতিবার সকালে এ প্রস্তাবনা নিয়ে আলোচনায় বসেন সিনেটররা। খবর আল জাজিরার। 

প্রস্তাবনাটি পাস হলে সৌদি যুবরাজের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক নিন্দা প্রকাশ করা হবে। যদিও এ বিষয়ে ভোটাভুটি ঠিক কবে নাগাদ হবে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি। তবে এ মাসের মধ্যে এটি সম্পন্ন হতে পারে বলে জানিয়েছে এবিসি নিউজ। 

মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-এর পরিচালক গিনা হাসপেল মঙ্গলবার সিনেটরদের খাশোগি হত্যার ব্রিফিং করেন। ঘটনা শোনার পর সৌদি যুবরাজকেই প্রধান চক্রান্তকারী বলে উল্লেখ করেন তারা।

তীর্যক বক্তব্যে রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম জানান, আমরা অনেক বেশি নিশ্চিত যে, মোহাম্মদ বিন সালমানই খাশোগি হত্যায় জড়িত। 

এই সিনেটর আরো বলেন, সৌদি যুবরাজ একটি ‘বিধ্বংসী গোলা’, উন্মাদ ও বিপজ্জনক একজন ব্যক্তি। এ কাজটি যুবরাজের নির্দেশ ও তার অধীনে থাকা লোকজনের পরিকল্পনায় সংঘটিত হয়েছে। যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্প বলে আসছেন, এ হত্যাকাণ্ডে যুবরাজ দায়ী নন।

সৌদি যুবরাজ সালমানের বিরুদ্ধে শাস্তির প্রস্তাব উত্থাপনকারী সিনেটরদের মধ্যে রয়েছেন- দক্ষিণ ক্যারোলিনার লিন্ডসে গ্রাহাম (রিপাবলিকান), ক্যালিফোর্নিয়ার ডায়ানে ফেইন্সটেইন (ডেমোক্রেটিক), ফ্লোরিডার মার্কো রুবিও, ম্যাসাচুসেটসের এড মার্কি (ডেমোক্রেটিক), ইন্ডিয়ানার টোড ইয়াং ও ডিলাওয়ারের ক্রিস্টোফার কনস (ডেমোক্রেটিক)।

জানা গেছে, প্রস্তাবনাটি বাধ্যতামূলক কিছু নয়। তবে এর মাধ্যমে ইস্তাম্বুলের কনস্যুলেটের ভেতরে খাশোগি হত্যার দায় যুবরাজের ওপর চাপানোর সুযোগ পাবে সিনেট। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর যুবরাজকে দোষারোপ না করার নীতির বিরুদ্ধেও এটা হবে শক্ত চপেটাঘাত।

রেজুলেশনে খাশোগি হত্যা ছাড়াও ইয়েমেন যুদ্ধে হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিক হত্যার দায় যুবরাজের ওপর চাপানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবনায় আরো রয়েছে, গত বছরের জুন থেকে কাতারের ওপর আরোপিত সৌদি জোটের অবরোধ নিরসনের আহ্বান। এ ছাড়া ব্লগার রাইফ বাদায়ি, নারী অধিকারকর্মী ও সৌদির অন্য রাজবন্দীদের মুক্তি দাবি করেছে সিনেটরদের ওই দলটি।

প্রস্তাব বিষয়ে সাবেক মার্কিন কূটনীতিক বলেন, সৌদি যুবরাজের লাগামছাড়া প্রভাবের রশি টেনে ধরতে চাইছে সিনেট।

এদিকে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ছোট ভাই খালিদ বিন সালমান রাষ্ট্রদূত হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরেছেন।

এনবিসি নিউজ জানায়, ২ অক্টোবর খাশোগি হত্যাকাণ্ডের কিছুদিন পরই যুক্তরাষ্ট্র থেকে রিয়াদ চলে যান খালিদ। খাশোগি হত্যাকাণ্ডে তারও জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। 

ওয়াশিংটন পোস্টের দাবি, খাশোগিকে তুরস্কের ইস্তাম্বুল দূতাবাসে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন খালিদ। তবে তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বুধবার সকালে ওয়াশিংটনের ডুলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান খালিদ।

ডেইলি বাংলাদেশ/মাহাদী/এসআইএস