Alexa মায়ের ‘মা’কে খোঁজা

ঢাকা, রোববার   ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৮ ১৪২৬,   ২৩ মুহররম ১৪৪১

Akash

মায়ের ‘মা’কে খোঁজা

ড. প্রতিভা রানী কর্মকার ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:৩৪ ১৮ মে ২০১৯  

মায়ের সঙ্গে লেখক। ছবি: লেখকের সৌজন্যে

মায়ের সঙ্গে লেখক। ছবি: লেখকের সৌজন্যে

‘মা’ পৃথিবীর সুমধুর শব্দগুলোর একটি। আমাদের দুই ঠোঁটের একসঙ্গে মিলনে সমোচ্চারিত শব্দ ‘মা’। আবার কষ্টে যন্ত্রণায় সৃষ্টিকর্তার পর যাকে ডেকে উঠি তিনিও মা। আমাদের অনুভূতিতে যেমন ‘মা’ পরিচিত একটি শব্দ, তেমনি কল্পনাতেও ‘মায়ের ছবি’ বা ‘ছোঁয়া’ দৃশ্যমান। কিন্তু পৃথিবীতে এমন অনেক মানুষ আছেন যাদের কাছে তাদের মায়ের কোনো ছবি নেই, নেই কোনো শৈশবের মধুর স্মৃতি। 

আমার মা শ্রীমতি গীতা রানী কর্মকার তেমনি একজন; যিনি মাত্র চার মাস বয়সে তার মাকে মানে আমার নানুকে হারান। আজ থেকে ৬৫ বৎসর আগে নানু চির বিদায় নেন। দুর্ভাগ্যবশত নানুর কোনো ছবি সে সময় তোলা বা আঁকা ছিল না। তখনকার সময় হয়তো ছবি তোলাটা সহসা হয়ে উঠত না। 

আমি আমার মাকে দেখেছি ওনার বাবার বাড়ির বয়োজ্যেষ্ঠদের ডেকে ডেকে প্রশ্ন করতেন, ‘বলুন তো, আমার তিন মেয়ের মধ্যে কেউ কি মায়ের মতো দেখতে হয়েছে? বা, মা কেমন করে কথা বলতেন, হাসতেন বলতে পারবেন কি?’

এসব কিছু প্রশ্ন বা স্মৃতি হাতড়াতে চাইতেন। প্রশ্নগুলোর উত্তর প্রায়শই আমার জন্য আশীর্বাদস্বরূপ ছিল। কেননা, মা যখন জানতে পারলেন আমি তার মায়ের মতো দেখতে তিনি কিছুটা হলেও তুষ্টি পেলেন মনে। সেই সঙ্গে আমার প্রতি তার আদর, শাসন, খোঁজ-খবর বেড়ে গেল। আজও যখন মা তার মা-কে খোঁজেন, মায়ের মুখাকৃতি মেলাতে চান কারো সঙ্গে বা মায়ের ছোঁয়া পেতে চান আমি পাশে দাঁড়াই। 

এভাবেই সময়ের স্রোতে নতুন প্রজন্মের ছোঁয়ায় পুরোনো কষ্টের দাগ মুছে যায়। হয়তো অনেক মা তাদের বাবা-মাকে সন্তানদের মাঝে খোঁজেন। আর তাই সন্তানদের কখনোই উচিত নয় বাবা মাকে কষ্ট দেয়া, দূরে রাখা, খোঁজ না নেয়া। জয় হোক ভালোবাসার, জয় হোক মাতৃত্বের।