Alexa মামলা করে বাদী এখন গৃহবন্দী!

ঢাকা, শনিবার   ১৮ জানুয়ারি ২০২০,   মাঘ ৪ ১৪২৬,   ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

মামলা করে বাদী এখন গৃহবন্দী!

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০১:৫৬ ১১ ডিসেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৪:২১ ১১ ডিসেম্বর ২০১৯

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

বাগেরহাটের শরনখোলায় সম্পত্তির বিরোধ নিয়ে থানায় মামলা করে মাদক সেবীদের ভয়ে এখন গৃহবন্দী হয়ে পড়েছেন এক প্রবাসী।

উপজেলার চাল রায়েন্দা এলাকার বাসিন্দা আবু জাফর হাওলাদারের ছেলে দুবাই প্রবাসী আসাদ হাওলাদার সম্প্রতি সাংবাদিকদের কাছে এমন অভিযোগ করেছেন । 

আসাদ জানান ,জীবিকার প্রয়োজনে তারা তিন ভাই দীর্ঘদিন কুয়েত ও দুবাইতে শ্রমিকের কাজ করেন। বয়সের ভারে বাবা জাফর হাওলাদার ও মা তহিরুন্নেছা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় এক বছর আগে তিনি বাড়িতে আসেন এবং  বাড়িতে একটি  হাঁসের খামার গড়ে তোলেন। খামারটিতে বর্তমানে হাঁসের সংখ্যা এক হাজার। অর্থনৈতিকভাবে ভালো থাকার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বেশ সুখে দিন কাটাচ্ছিলেন তিনি।

কিন্তু হঠাৎ করে প্রতিবেশী বখাটে ও নেশাখোর বাচ্ছু মীর, হেলাল মীরসহ একটি চক্র তার কাছে চাঁদা দারি করেন। প্রতিবেশী হিসেবে প্রাথমিক পর্যায়ে তিনি তাদেরকে চা- খেতে কিছু টাকা দেন। কয়েক মাস পর  ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে তাদের বাগান বাড়ির কিছু গাছ ভেঙে পড়ে। গত ২ নভেম্বর  সকালে ওই গাছ কাটতে গেলে বাচ্চু ও হেলাল তাকে বাধা দেন এবং বলেন এ জমি তোদের নয়, তবে গাছ নিতে হলে এক লাখ টাকা দিতে হবে।

ওই সময় উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে বাচ্চুর নেতৃত্বে ৩-৪ জন বখাটে মিলে তাকে লাঠি, রড়  ও দেশীয় তৈরি ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এ সময় তার চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে আসলে বাচ্চুসহ অন্যরা পালিয়ে যায়। পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় একই দিন বিকেলে শরনখোলা হাসপাতালে ভর্তি হন। ওই ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে ৫ নভেম্বর শরনখোলা থানায় বাচ্চু ও হেলালসহ চারজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। 

ওই মামলা প্রত্যাহার করতে প্রতিপক্ষ মাদকসেবীরা তাকে প্রাণ নাশের হুমকি দিচ্ছে। ভয়ে এখন তিনি বাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না। এখন গৃহবন্দী অবস্থায় আছেন। থানা পুলিশের ভূমিকাও রহস্যজনক। যে কারণে ওই মাদকসেবীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ।

এ ছাড়া নেশাখোরদের সহায়তা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা লালু মীর, মুক্তা মীর, করিম মীরসহ কতিপয় লোভী ব্যক্তি। 

আসাদের বৃদ্ধ বাবা আবু জাফর বলেন, আমি ওদের বলেছি তোমরা যদি কোনো জমি পেয়ে থাক তবে উপযুক্ত কাগজপত্র দেখাও। তাতে লালু মীর বলেন , জমি ভোগ দখলের জন্য বর্তমানে কোনো কাগজ লাগে না। ওদের হামলার ভয়ে আমার ছেলে কোথাও যেতে পারছে না। এমনকি মাদকসেবীদের ভয়ে কেউ সত্য কথা বলছে না।

স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিন মীর ও শামসু জোমাদ্দারসহ কয়েকজন বলেন, আসাদ যাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তারা মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকায় কারো কথা মানে না। তাই বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রসাশনের কঠোর ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন । 

বাচ্চু মীর বলেন, আসাদ আমার ফুফাতো ভাই। জমি বিরোধে কয়েক দিন আগে ওর সঙ্গে সামান্য হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে সে ক্ষিপ্ত হয়ে আমার বৃদ্ধ বাবাসহ কয়েকজন নিরীহ ব্যক্তিকে আসামি করে ছিনতাইয়ের মামলা করেছেন। এখন নুতন করে নাটক সাজাতে আপনাদের কাছে কাল্পনিক অভিযোগ করেছেন । জীবন নাশের হুমকি দেয়া তো দূরের কথা আমি জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর  এ পর্যন্ত আসাদের সঙ্গে দেখাই হয়নি। এ ছাড়া হেলাল ও আমি আমরা কোনো অনৈতিক কাজের সঙ্গে জড়িত নই। দিনমজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছি। ওরা গায়ের জোরে জমি ভোগ দখল করতে নানা ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে । 

এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শরনখোলা থানার ওসি স্বপন কুমার সরকার বলেন, আসাদ এ ধরনের কোনো অভিযোগ করেননি। তার পরেও  বিষয়টির খোঁজ খবর নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ/টিআরএইচ/এআর