Alexa মানুষ এতো নীচে নামতে পারে, ভাবিনি...

ঢাকা, শনিবার   ২৪ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ৯ ১৪২৬,   ২২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

মানুষ এতো নীচে নামতে পারে, ভাবিনি...

বিনোদন প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: ১৭:৩২ ২ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৭:৩২ ২ ডিসেম্বর ২০১৮

ছবি- সংগৃহীত

ছবি- সংগৃহীত

‘সব সখিরে পার করিতে নেবো আনা আনা, তোমার বেলায় নেবো সখি তোমার কানের সোনা, সখি গো… আমি প্রেমের ঘাটের মাঝি, তোমার কাছে পয়সা নিব না’। সিনেমাপ্রেমি দর্শকদের হৃদয়ে আজো গেঁথে আছে সেই খেয়া ঘাটের মাঝির কথা। সেই খেয়া ঘাটের মাঝি সবার প্রিয় মিঞা ভাই বা আকবর হোসেন পাঠান দুলু। যাকে সবাই চেনেন চিত্রনায়ক ফারুক নামেই। বাংলা চলচ্চিত্রের জীবন্ত কিংবদন্তী তিনি। শুধু তাই নয়, জীবন বাজি রেখে ১৯৭১ সালে দেশকে স্বাধীন করতে মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েন পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে। 

সম্প্রতি ‘ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য মুক্তিযুদ্ধ করিনি’- ফারুকের এমন এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ওঠে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে। তবে এই ঘটনায় নায়ক ফারুকের হয়ে সমালোচনার প্রতিবাদ করেছেন অনেকেই। এবার এ বিষয় নিয়ে মুখও খুলেছেন ফারুক। সম্প্রতি একটি ভিডিও বার্তাও দিয়েছেন তিনি। 

ভিডিও বার্তায় ফারুক বলেছেন, আজকে বুকের ভেতরে বড় দুঃখ নিয়ে কিছু কথা বলতে চাই। সারা জীবন মানুষের কথা বলেছি। আমাকে নিয়ে যেসব কথা বার্তা ফেসবুকে বলা হয়, আমি আসলে মর্মাহত। মানুষ এতো নীচে নামতে পারে, আমি ভাবতে পারিনি। 

ইসলাম নিয়ে আমি কথা বলবো? আমি কে?- প্রশ্ন রাখেন ফারুক।

উত্তর দিলেন আবার নিজেই- 

“আমি হাজি আকবর হোসেন পাঠান ফারুক। আমার স্ত্রী ফারহানা হাজি। আমার মেয়ে ফারিহা তাবাসসুমওি একজন হাজি। আমার ছেলে রওশন হোসেন পাঠানও হাজি। একটি মসজিদ আমার নিজের। যেটি আমার বড় দাদা দিয়ে গেছেন। ত্রিশ বিঘা জায়গাজুড়ে সে মসজিদ। আর সেখানে সাড়ে পাঁচ বিঘা জায়গাজুড়ে মানুষ নামায আদায় করেন। ওই মসজিদের মতোয়ালি ভাই আমি। আমি একজন মুসলিম ঘরণার মানুষ।”

মিঞা ভাই আরো বলেন,  ধর্মকে নিয়ে কথা বলার অধিকার কারোর নেই। আমরা যুদ্ধ করেছি এ দেশ স্বাধীন করার জন্য। পরাধীনতার যে শিকল মানুষের গলায় দিয়ে দেয়া হয়েছিলো, সেটাকে ভেঙে চুরে ত্রিশ লক্ষ মানুষের রক্ত দিয়ে বঙ্গবন্ধুর ডাকে এ দেশ স্বাধীন করা হয়েছে। 

তিনি বলেন, ভুল তথ্য দিয়ে কাউকে ছোট করার চেষ্টা করবেন না। আপনাদের কাছে আমি অনুরোধ জানাই। আপনারা এতে কোনো ভালো ফল পাবেন না। সবকিছু নির্ভর করে সত্য ও সুন্দরের উপর। আমি এ ধরনের কোনো কথাই বলিনি, যা কোনো ধর্মকে আঘাত করতে পারে। আর যদি আমি বলেও থাকি, উপরে রাব্বুল আল আমিন সাক্ষী আছেন। আমি এ দেশের মাটিকে ভালোবাসি, এদেশের মানুষকে ভালোবাসি। কে বৌদ্ধ, কে খ্রিষ্টান, কে হিন্দু- এগুলো আমি অনুভব করি না। কারণ আমি একজন মানুষ। 

পুরান ঢাকায় জন্মগ্রহণ করা ফারুকের শৈশব-কৈশোর ও যৌবনকাল কেটেছে সেখানেই। স্কুলজীবন থেকেই তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। ১৯৬৬ সালে তিনি বঙ্গবন্ধুর ডাকে ঐতিহাসিক ছয়দফা আন্দোলনে যোগ দেন এবং সে সময়ে তার নামে প্রায় ৩৭টি মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালেও মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।

এরই মধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ফারুক গাজীপুর-৫ (কালীগঞ্জ-গাজীপুর মহানগর-সদর আংশিক) আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। কিন্তু দল থেকে তাকে ঢাকা-১৭ (গুলশান, বনানী, ঢাকা সেনানিবাস ও ভাষানটেকের কিছু অংশ) আসনের জন্য মনোনয়ন দিলে তিনি মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এ আসন থেকে মহাজোটের হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ মনোনয়ন দাখিল করেছন। এখন দেখার পালা, শেষ পর্যন্ত মিঞা ভাই এই আসনটি থেকে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করতে পারেন কিনা।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনএ/এসআইএস/

Best Electronics
Best Electronics