মানুষের মুখের ন্যায় রহস্যময় কাঁকড়া!

ঢাকা, বুধবার   ২৭ মে ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১৩ ১৪২৭,   ০৩ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

মানুষের মুখের ন্যায় রহস্যময় কাঁকড়া!

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:১২ ৭ মে ২০২০   আপডেট: ১৬:২৪ ৭ মে ২০২০

ছবি: হেইকাগানি কাঁকড়া

ছবি: হেইকাগানি কাঁকড়া

প্রাণীকূলে বৈচিত্র্যময় অনেক প্রজাতি আছে। যেগুলো দেখলে বিস্ময় জাগে! কাঁকড়া সবার কাছেই পরিচিত। তবে কাঁকড়ার মুখের আকৃতি মানুষের মতো কেউ হয়তো কল্পনাও করতে পারে না। 

অবিশ্বাস্য হলেও, এমনই একটি কাঁকড়া আছে যার মুখের আকৃতি অনেকটা ক্রুদ্ধ সামুরাই যোদ্ধাদের মতো। হেইকাগানি জাপানের স্থানীয় প্রজাতির একটি কাঁকড়া। এদের মুখ দেখলে মনে হবে একজন রাগান্বতি সামুরাই যোদ্ধার মুখ। অদ্ভুত প্রাজাতির এই কাঁকড়া নিয়েই আজকের লেখা।  

জাপানের শিমোনোসেকি শহরের কানমনকিও ব্রিজের কাছে সমুদ্র পার্শ্ববর্তী একটি ছোট পার্কের দুটি ব্রোঞ্জের মূর্তি দাঁড়িয়ে আছে। যেখানে দেখা যায়, দুজন সামুরাই যোদ্ধা যুদ্ধরত অবস্থায় আছে। মূর্তিগুলোর দুপাশে কামান এবং জাহাজের প্রতিলিপি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এটি মূলত একটি স্মৃতিস্তম্ভ। 

প্রায় ৮০০ বছরেরও আগে সংঘটিত একটি ঐতিহাসিক যুদ্ধের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভটি নির্মিত হয়েছে। ১১৮৫ সালে জাপানের হাইক বংশীয় শাসক এবং বিদ্রোহীদের মধ্যে সিংহাসনের নিয়ন্ত্রণের জন্য যুদ্ধ হয়। এই যুদ্ধে দুই পক্ষেই শক্তিশালী নৌবহর অংশগ্রহণ করেছিল। 

রহস্যময় কাঁকড়াজাপানের ডান-নো-উরা উপসাগরে এই যুদ্ধ হয়েছিল। ভয়াবহ এই প্রাণঘাতী যুদ্ধে শত শত সামুরাই যোদ্ধা মৃত্যু বরণ করেছিল। তাদের মৃতদেহগুলো সমুদ্র তলদেশে ডুবে গিয়েছিল। যুদ্ধে বিদ্রোহী মিনামোটোরা বিজয়ী হয়। এরপর মাত্র ছয় বছরের শিশু রাজার গ্রেফতার আটকাতে তার দাদি তাকে সমুদ্রে ফেলে দেয়। 

আর ক্ষমতা দখলকারী মিনামোটো ইওরিটোমো জাপানের প্রথম সামরিক শাসক হিসেবে পরিণত হয়েছিল। ডান-নো-উরা যুদ্ধ পরবর্তী সময় অনেক কিংবদন্তীর জন্ম হয়েছিল। এই সব কিংবদন্তীর মধ্যে একটি গড়ে উঠেছিল ছিল কাঁকড়া কেন্দ্রিক। 

এই কাঁকড়ার একটি স্বতন্ত্র আবরণ আছে। যে কাঁকড়ার মুখ দেখতে অনেকটা অস্পষ্টভাবে হলেও একজন ক্রুদ্ধ সামুরাই যোদ্ধার মতো। প্রচলিত এই কাহিনীতে আরো বলা হয়েছে, হাইক যোদ্ধারা মৃত্যুবরণ করে ডুবে যাওয়ার পরে তাদের প্রাণ কাঁকড়ার কাছে স্থানান্তরিত হয়েছিল। 

আর সামুরাই যোদ্ধাদের গ্রন্থিল মুখগুলো চিরকালের জন্য কাঁকড়ার শরীরে আবদ্ধ হয়ে গিয়েছিল। যে কারণে কাঁকড়াটিকে হেইকগানি বা হাইক কাঁকড়া বলা হয়। অনেকে একে সামুরাই কাঁকড়া বলেও জানে। আবার অনেকেই মনে করে মৃত সামুরাই যোদ্ধাদের আত্মা আছে কাঁকড়াটির মধ্যে। 

তারা ঘোস্ট ক্র্যাব বলেও অভিহিত করে থাকে এদের। বিখ্যাত অ্যামেরিকান জ্যোতির্বিদ এবং লেখক কার্ল সাগন ধারণা করেছিলেন, কাঁকড়ার মুখের সঙ্গে সামুরাই যোদ্ধাদের এই সাদৃশ্যটি কৃত্রিম নির্বাচনের কারণে হয়েছিল। 

মানুষের মুখের আদলে কাঁকড়ার মুখসাগনের মতে, জাপানের জেলেদের জালে এই কাঁকড়া ধরা পড়লে হাইক উপজাতিদের বিশ্বাসের কথা আরো বেশি প্রচারিত হয়। তবে জেলেরা কাঁকড়াটি জালে ধরা পড়লেও ফেলে দিত। হয়তো কাঁকড়াটির শরীরের বাইরের আবরণের বড় ধরনের পরিবর্তনের সময় সামুরাই যোদ্ধাদের মতো মুখের আকৃতি গঠিত হয়। 

ছোট এই কাঁকড়া প্রায় চার সেন্টিমিটার পর্যন্ত দীর্ঘ হতে পারে। এই কাঁকড়া কেউ খায় না। আর এ কারণে জেলেরা জাল থেকেই ফেলে দিত। প্রাচীন রাজ পরিবারের প্রতি সম্মান দেখাতেও জেলেরা কাঁকড়াগুলো হত্যা করা থেকে বিরত থাকত। কাঁকড়াগুলো তাদের কাছে পবিত্র হিসেবে বিবেচিত হয়। 

অবশ্য এই কাঁকড়ার আকৃতি অনেক ছোট হওয়ায় খাদ্য হিসেবে গ্রহণের অনুপোযুক্ত। এই হেইকগানি কাঁকড়া ছাড়াও এমনই অন্য প্রজাতির কাঁকড়ারও সন্ধান পাওয়া গেছে। এই সব প্রজাতির কাঁকড়ার শরীরে ভাজ সৃষ্টি হওয়ার কারণেই মানুষের মুখের মতো অবয়ব তৈরি হয়। 

কাঁকড়াগুলোর মুখের ভাজের কারণেই সামুরাই যোদ্ধদের মুখের মতো দেখা যায়। এদের মুখের পেশী শরীরের আবরণের সঙ্গে যুক্ত থাকায় ভাজগুলো সৃষ্টি হয়। বর্তমানে বিজ্ঞানীদেরও এই কাঁকড়ার বিষয়ে বেশ আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।

কেউ কেউ ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন, প্যারেডোলিয়ার কারণেই সামুরাই যোদ্ধাদের মুখের সঙ্গে তুলনা করা হয় এই কাঁকড়াদের। আমাদের আশেপাশের পরিবেশে থাকা কোনো বস্তু দেখে মানুষের মুখের মতো কল্পনা করাই প্যারেডোলিয়া। ধারণা করা হয়, প্রাচীন সভ্যতাগুলোতেও প্যারেডোলিয়ার প্রভাব ছিল। 

সূত্র: আমেউসিংপ্লানেট 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস