Alexa মানুষের চামড়ায় বাঁধানো শয়তানের লেখা বই!

ঢাকা, সোমবার   ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ১ ১৪২৬,   ১৬ মুহররম ১৪৪১

Akash

মানুষের চামড়ায় বাঁধানো শয়তানের লেখা বই!

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৫৬ ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৫:৫৯ ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

মজবুত এবং টেঁকসই করার জন্যই বই বাঁধানো হয়। সাধারণত মোটা কাগজ বা পশুর চামড়া দিয়েই বই বাঁধানোর কাজটি করা হয়। কিন্তু মানুষের চামড়া দিয়ে বই বাঁধানোর কথা শুনেছেন কি? শুনতে ভয়ংকর লাগলেও, এটাই সত্যি। চলুন জেনে নেয়া যাক এই বই সম্পর্কে-

মানুষের চামড়ায় বাঁধানো বই
উত্তর ইংল্যান্ডের লিওসের এক রাস্তায় সম্প্রতি মানুষের চামড়া দিয়ে বাঁধানো ৩০০ বছরের পুরোনো একটি বই পাওয়া গেছে। বইটির ভেতরের পৃষ্ঠাগুলোতে কালো কালির হাতের লেখা রয়েছে। ধারনা করা হয়, এটি সতেরো শতকে লেখা। বইটির বিষয়বস্তু ফরাসি ভাষায় লেখা। ফরাসি বিপ্লবের সময় এমন অনেক বই বেরিয়েছে যেগুলো এ বইটির মতো মানুষের চামড়া দিয়ে বাঁধানো। সপ্তদশ থেকে উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যে কখনো কখনো বই বাঁধাই করতে এ নৃশংস পদ্ধতি কাজে লাগানো হতো, যা ‘অ্যানথ্রোপোডারমিক বিবলিওপেজি’ নামে পরিচিত।

কোডেক্স জিগাস
কাঠের ওপর চামড়ায় মোড়ানো বিশাল আকারের হাতে লেখা একটি বই কোডেক্স জিগাস (ইংরেজীতে যার অর্থ বৃহত্তম বই) ৭৫ কেজি ওজনের এ বইটি ৩৬.২ ইঞ্চি লম্বা,১৯.৭ ইঞ্চি চওড়া এবং ৮.৬ইঞ্চি পুরু। বইটির ওজন ৭৪.৮ কেজি। কথিত আছে শয়তান এ বইটি লিখেছে। বইটির ২৯০ নম্বর পৃষ্ঠায় শয়তানের একটি ছবিও আঁকা আছে। আর এটিই হচ্ছে পৃথিবীর একমাত্র বই যেটিতে শয়তানের ছবি আছে। এ কারণে এটিকে শয়তানের বই বলা হয়!

১৬০ টি গাধার বাচ্চার চামড়া দিয়ে তৈরি বইটি। বিটিতে প্রথম দিকে ৩২০ টি পাতা ছিলো। তবে বর্তমানে এর আটটি পাতা নেই। বইটির যে পৃষ্ঠায় শয়তানের ছবি আঁকা আছে তার ঠিক উল্টো পৃষ্ঠায়ই আঁকা আছে স্বর্গের ছবি। মানুষের মধ্যে এমন ধারনাও আছে যে, বইটিতে এমন কিছু বাক্য আছে যা থেকে রশ্মি নির্গত হয়! আর সে কারণেই কডেক্স জাইগাসকে মধ্যযুগের অষ্টম আশ্চর্য বলে মনে করা হতো। বইটি কে লিখেছেন তা জানা যায়নি। তবে বিশেষজ্ঞদের ধারনা বইটি যেই-ই লিখুক না কেনো, এটি লিখতে কমপক্ষে ৩০ থেকে ৩৫ বছর সময় লেগেছে। বইটি লেখার কাজে পোকামাকড়ের বসতবাড়ি দিয়ে তৈরি এক ধরনের কালি ব্যবহার করা হয়েছে। আলোচিত এ বইটি এখন স্টকহোমের স্ট্যাইট লাইব্রেরি অব সুইডেনে সংরক্ষিত আছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এএ