Exim Bank
ঢাকা, সোমবার ২১ মে, ২০১৮
iftar
বিজ্ঞাপন দিন      

মানুষের আস্থা অর্জনে সচেষ্ট থাকতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

 নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:২৯, ১৬ মে ২০১৮

আপডেট: ০৭:৫৪, ১৭ মে ২০১৮

১৮৬ বার পঠিত

ছবি: ৩৫তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের শিক্ষানবীস সহকারি পুলিশ সুপারদের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

ছবি: ৩৫তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের শিক্ষানবীস সহকারি পুলিশ সুপারদের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

সেবা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জনে বাংলাদেশ পুলিশকে সচেষ্ট থাকতে উপদেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ৩৫তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের শিক্ষানবীশ সহকারি পুলিশ সুপারদের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে কর্মক্ষেত্রে যোগ দিতে চলা নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনে জনগণের অধিকার, মানবাধিকার ও আইনের শাসনকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। নারী, শিশু ও প্রবীণদের প্রতি সংবেদনশীল আচরণ করতে হবে।

এক বছরের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করায় নবীন কর্মকর্তাদের শুভেচ্ছা, অভিনন্দন ও আন্তরিক ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির সার্বিক উন্নয়নের ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে এবং সারদাকে সেন্টার অব এক্সিলেন্স হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

এছাড়া মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ পুলিশ সদস্যদের শ্রদ্ধা জানান তিনি।

বাংলাদেশ পুলিশের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা বিধান, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, সন্ত্রাস ও অপরাধ দমন, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার সমুন্নত রাখার পাশাপাশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে পুলিশ সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ পুলিশ জাতিসংঘে শান্তিরক্ষা মিশনে দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের জন্য বহির্বিশ্বে প্রশংসা অর্জন করেছে।

তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর পুলিশের বাজেট বৃদ্ধি, স্টাফ কলেজ নির্মাণ, টিফিন ভাতা, ঝুঁকি ভাতা বৃদ্ধি করেছে। পুলিশের জনবল বৃদ্ধি জন্য ৫০ হাজার জনবল নিয়োগ দেয়া হয়। কারণ আমাদের জনসংখ্যা বেড়েছে। বর্ধিত জনগণকে সেবা দিতে পুলিশের ওপর বেশি চাপ পড়ছিল। জনবল বৃদ্ধির পাশাপাশি যানবাহন ও অন্যান্য সরঞ্জামাদির ব্যবস্থাও করা হয়েছে। কনসটেবল থেকে এসআই পর্যন্ত ঝুঁকি ভাতা দেয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে সবাইকে এ ভাতা দেয়া হবে। এছাড়া নতুন নতুন থানা, পুলিশ ফাঁড়ি করা হয়েছে। পুলিশের বিশেষায়িত শাখা শিল্প পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, নৌ পুলিশ করা হয়েছে। এছাড়া গার্ড ও প্রোটেকশন পুলিশ করার কথা ভাবা হচ্ছে। ২০০৯ সাল থেকে ট্রাফিক পুলিশে নারী সদস্য নিয়োগ করা হচ্ছে। পুলিশ সদস্যদের জন্য আবাসন ও চিকিৎসা সুবিধা, রেশন বৃদ্ধি, উন্নত যানবাহনের ব্যবস্থা করেছি। এছাড়াও নানা ধরনের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার পুনরায় আইজিপি র‍্যাংক ব্যাজ প্রবর্তন করেছে। আমার আর্মড পুলিশের জন্য ৩০টি ট্রেনিং সেন্টার করে দিয়েছি। এছাড়া আরও চারটি সেন্টার করার কাজ চলছে।

তিনি আরো বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ সেবা চালু করা হয়েছে। যা জনগণকে সেবা দিয়ে সাহায্য করছে। আমরা চাই পুলিশের কাছ থেকে জনগণ যথাযথ সেবা পাক। এজন্য পুলিশকে আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল। প্রতিটি সেক্টরে আমাদের উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাংলাদেশ উন্নত দেশ হবে সেটাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা ক্ষমতায় আসার পর মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে, প্রবৃদ্ধির হার বেড়েছে এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। বিশ্বে আমরা মাথা উঁচু করে চলবো। কারণ আমরা মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী জাতি।

পুলিশবাহিনীকে নতুন চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রযুক্তির উন্নয়নের পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী অপরাধের ধরন দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে। বিশেষ করে সিয়াবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে দক্ষ হতে হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ/এলকে

সর্বাধিক পঠিত