Alexa মানুষকে মুক্তির বার্তা দেবেন এরশাদ: জাপা মহাসচিব

ঢাকা, বুধবার   ১৭ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ৩ ১৪২৬,   ১৪ জ্বিলকদ ১৪৪০

মানুষকে মুক্তির বার্তা দেবেন এরশাদ: জাপা মহাসচিব

 প্রকাশিত: ১৬:৫২ ২২ মার্চ ২০১৮  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্মিলিত জাতীয় জোটের মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে ২৪ মার্চ। সেই সমাবেশ থেকেই পার্টির চেয়ারম্যান মানুষকে মুক্তির বার্তা দেবেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠাই জাতিকে দিক নির্দেশনা দেবেন। রাষ্ট্র পরিচালনায় দুই দলের সাফল্য ব্যর্থতা তুলে ধরবেন। জাতীয় পার্টি আমলের উন্নয়ন সমৃদ্ধি তুলে ধরে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাবেন।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় ২৪ মার্চের মহাসমাবেশ উপলক্ষ্যে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে জোটের মুখপাত্র ও জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, মহাসমাবেশে জাতির উদ্দেশ্যে আগামী দিনের দিক নির্দেশনা দেবেন সাবেক সফল রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ৯ বছরের সাফল্য উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরা হবে এই সমাবেশে। আশা করি মানুষ আগামী দিনে এরশাদকে মূল্যায়ন করবেন।

রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, দেশের এখন যে পরিস্থিতি, জাতীয় পার্টির আমলে সেটি ছিল না। জানমালের নিরাপত্তা ছিল। শান্তি ছিল। দুই দলের দাবির প্রেক্ষিতে গণতন্ত্র এর জন্য, নির্বাচনের জন্যই বিচারপতির সাহাবুদ্দিনের হাতে স্বেচ্ছায় ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিলেন। কিন্তু তিনি কথা দিয়ে কথা রাখেননি। দলের চেয়ারম্যান এরশাদ ও তার পরিবারসহ নেতাকর্মীদের জেলে দিয়েছিলেন। অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করেও জেল থেকে নির্বাচন করে তিনি বারবার জিতেছেন। এতকিছুর পর আমরা জনগণের উপর আস্থা রেখে আজ এ অবস্থায় এসেছি। আমাদের পার্টির চেয়ারম্যান ৯ বছর রাষ্ট্রপরিচালনা করেছেন, সেনাপ্রধান ছিলেন কিন্তু তিনি স্বাভাবিকভাবে রাজনীতি করতে পারেননি, অন্যদের মত স্বাভাবিকভাবে এ পর্যায়ে আসেননি। তাকে মামলা মোকাদ্দমায় অত্যাচার নির্যাতনের মধ্যদিয়ে এ পর্যন্ত আসতে হয়ছে।

বড় দুটি দলের তুলনায় ৯ বছরে জাতীয় পার্টির আমলে দেশের যে উন্নয়ন, সমৃদ্ধি হয়েছে তা মানুষ মনে রাখেননি। যদি রাখতেন তাহলে পল্লীবন্ধু এরশাদকে জনগণ মূল্যায়ন করতেন। তবে আমরা মনে করি, বড় দুটি দলের শাসন মানুষ দেখেছেন, এখন তারা জাতীয় পার্টির সোনালী শাসনামল মনে করছে। এরশাদকে আবারো রাষ্ট্রক্ষমতায় দেখতে চান- বলেন হাওলাদার।

মহাসমাবেশের ব্যাপক প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে জাতীয় পার্টির মহাসচিব বলেন, ২৪ মার্চ সোহরাওয়ার্দীর মহাসমাবেশ জনসমুদ্রে পরিণত হবে। সমাবেশ সফল করতে আমরা ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছি। কানায় কানায় পূর্ণ হবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। শুক্রবার থেকে জেলা উপজেলার নেতাকর্মী সমর্থকরা ঢাকায় আসা শুরু করবে। আশা করছি স্মরণকালের বৃহত্তম সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে জাতীয় পার্টি আগামী নির্বাচনের চূড়ান্ত যাত্রা শুরু করবে।

নেতাকর্মী সংকটের কারণে কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের লোকজন নিয়ে আসা হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে জাপা মহাসচিব বলেন, নেতাকর্মী ও এরশাদ প্রেমিকের ঢল নামবে ২৪ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। লোকে লোকারণ্য হবে আমাদের মহাসমাবেশ। তবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যদি মহাসমাবেশে এসে এরশাদকে স্বাগত জানায় তাহলে আমাদের কি করার আছে। যাই কিছু করি না কেন সাংবাদিকদের চোখ তো আর ফাঁকি দেয়া যায় না। তিনি ২৪ মার্চ মহাসমাবেশ সফলে গণমাধ্যমের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

জাতীয় পার্টি মহাজোটের হয় নির্বাচন করবে কিনা এক প্রশ্নের জবাবে হাওলাদার বলেন, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বে সম্মিলিত জাতীয় জোট আগামীতে তিনশ আসনে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। এ নিয়ে ভুল বুঝাবুঝির কোন সুযোগ নেই। তিনশ আসনের জন্য এরশাদের কাছে ৯শ প্রার্থী রয়েছে। যাচাই বাছাই চলছে। তৃণমূলের মতামত নেয়া হচ্ছে। নির্বাচনের প্রস্তুতি আমাদের প্রায় সম্পন।’ জোটের ব্যানারে নির্বাচন, জোটের ব্যানার সরকার গঠন হবে বলেও তিনি জানান।

এরশাদের মামলা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জোটের এই মুখপাত্র বলেন, পার্টির চেয়ারম্যানের মামলা তো আছে, আমারও অনেক মামলা আছে। সেগুলো চলমান, হাজিরা চলে, সময় নেই। কিন্তু মামলা শেষ হয় না। মামলায় জর্জরিত আমরা। বিচারের বাণী নিভৃদে কাঁদে। আশা করি, একদিন ন্যয় বিচার পাবো।

এসময় বক্তব্য রাখেন সম্মিলিত জাতীয় জোটের শীর্ষনেতা ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব মাওলানা এম এ মতিন, বিএন এর চেয়ারম্যান সেকান্দার আলী মনি, জাপা প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, সুনীল শুভরায়, এসএম ফয়সল চিশতি প্রমুখ।

উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য শফিকুল ইসলাম সেন্টু, উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূইয়া, ভাইস চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম জহির, নুরুল ইসলাম নুরু, আলমগীর সিকদার লোটন, সুলতান মাহমুদ, ফখরুল আহসান শাহাজাদা, বেলাল হোসেন, এম এ রাজ্জাক খান, শারমিন পারভীন লিজা, পারভীন তারেক, আবু সাঈদ স্বপন, সুজনদে, হেলাল উদ্দিন, মাহমুদ আলম, ছাত্র সমাজের মিজানুর রহমান মিরু, মোড়ল জিয়াউর রহমান প্রমুখ।

ডেইলি বাংলাদেশ/ ডিএম/এমআরকে