ঢাকা, রোববার   ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯,   ফাল্গুন ৫ ১৪২৫,   ১১ জমাদিউস সানি ১৪৪০

মানব পাচার ও প্রতারক চক্রের ৫ সদস্য আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: ১৫:৪৬ ৭ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ২১:৪১ ৭ ডিসেম্বর ২০১৮

ছবি: প্রতীকী

ছবি: প্রতীকী

রাজধানীর উত্তরখান, উত্তরা ও মিরপুরে পৃথক অভিযানে মানব পাচার, সরকারি দফতরে চাকরিসহ বিভিন্ন প্রতারণায় জড়িত সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের প্রধানসহ ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১।
 

প্রতারণার শিকার কয়েকজন ভুক্তভোগীর অভিযোগে বৃহস্পতিবার রাতে দলনেতা আসাদুজ্জামান আসাদসহ তাদেরকে আটক করা হয়। 

গ্র্রেফতার অন্যরা হলেন- মো. ওসমান গাজী (৪৮), সিরাজুল ইসলাম (৫২), মো. টিপু সুলতান (৫৫), লিটন মাহমুদ (৩৫)। 

তাদের কাছ থেকে ৩২টি পাসপোর্ট, ৭টি জাল ভিসা, ১টি বিমানের জাল টিকেট, ৩৪ লাখ টাকার বিভিন্ন ব্যাংকের চেক, ১৫টি স্বাক্ষরিত ব্ল্যাংক স্ট্যাম্প, ল্যাপটপ, ২টি কম্পিউটার, কালার প্রিন্টার, ৫টি মোবাইল ফোনসহ চাকরিপ্রার্থীদের জীবনবৃত্তান্ত উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর উত্তরায় র‌্যাব-১-এর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১-এর উপ অধিনায়ক মেজর মো. রাকিবুজ্জামান এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, এই চক্রের নেতা আসাদুজ্জামান। উত্তরা এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে একাধিক অফিস খুলেছেন তিনি। প্রতারণার প্রথম  কৌশল হিসেবে প্রথম সারির দৈনিক ও ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিতেন। এছাড়া নিজস্ব দালাল চক্রের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের নিজ অফিসে নিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে কখনো ট্যুরিস্ট ভিসা, জাল ভিসা, জাল টিকিট দিয়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়াই ছিল তার কাজ। 

তিনি আরো বলেন, চক্রটি জাল ভিসা দিয়ে ইউরোপ আমেরিকার বিভিন্ন দেশে পাঠানোর কথা বলে ভুক্তভোগীদের একেকজনের কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিয়েছে। জাল ভিসা তৈরির জন্য চক্রের সহযোগী ওসমান গাজী, টিপু ও লিটন তাকে সহযোগিতা করতো। আর সরকারি চাকরি দেয়ার কথা বলে ভুক্তভোগীদের আসাদুজ্জামানের অফিসে আনার জন্য ওসমান, টিপু ও সিরাজ দালাল হিসেবে কাজ করতো। সরকারি চাকরির প্রার্থীদের কাছ থেকে ব্যাংক চেক ও স্বাক্ষরিত ব্ল্যাংক স্ট্যাম্প নিয়ে নিজের কাছে রেখে দিতেন আসাদুজ্জামান। পরে এসব দিয়ে প্রার্থীদের ব্ল্যাকমেইল করতেন। ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়ার পর তার অস্থায়ী অফিস তালাবদ্ধ করে আবার অন্য জায়গায় অফিস ভাড়া নিতেন আসাদুজ্জামান।

তিনি আরো জানান, আটক ওসমান আলী পেশায় কাপড় ব্যবসায়ী। আল আমিন নামের এক সিঙ্গাপুর প্রবাসীর মাধ্যমে আসাদুজ্জামানের সঙ্গে পরিচিত হন। ওসমান জাল ভিসা তৈরির কাজ করতেন। গেল ৩ বছর ধরে তিনি এ কাজ করে আসছেন। প্রতিটি জাল ভিসা তৈরির জন্য ২০ হাজার টাকা পেতেন। এই পর্যন্ত তিনি ৪০-৫০টি জাল ভিসা তৈরি করেছেন।

অপরদিক আটক টিপু সুলতান বিভিন্ন মার্কেটে ভাসমান ইলেক্ট্রনিক ব্যবসা করার সুবাদে ওসমানের সঙ্গে পরিচয় হয়। লিটনের দোকান থেকে জাল ভিসা ও চাকরির বিভিন্ন নিয়োগ সংগ্রহ করে ওসমানকে পৌঁছে দেয়ার কাজ করতেন। গেল ৩ বছর ধরে তিনি এ কাজে জড়িত।

এছাড়া আটক সিরাজুল ইসলাম পেশায় ঘড়ি বিক্রেতা। কাউরাইদ বাজারে ঘড়ি মেরামতের দোকান আছে। ফরিদ নামে একজনের মাধ্যমে ওসমানের সঙ্গে পরিচিত হন তিনি। 

লিটন মাহমুদ মিরপুর-১-এর কোঅপারেটিভ মার্কেটের লিটন ডিজাইন হাউজের মালিক। গেল ৭ বছর ধরে মিরপুরে ব্যবসা করেছেন। তিনি জাল ভিসা ও ভুয়া নিয়োগপত্র তৈরির করে সরবরাহ করতেন। 

এই চক্রের আরো সদস্য রয়েছে। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান এই র‌্যাব কর্মকর্তা।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসবি/জেডআর