মাদারীপুরে মানব পাচার মামলার আসামি গ্রেফতার  

ঢাকা, সোমবার   ১৩ জুলাই ২০২০,   আষাঢ় ৩০ ১৪২৭,   ২২ জ্বিলকদ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

মাদারীপুরে মানব পাচার মামলার আসামি গ্রেফতার  

মাদারীপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:৪৭ ১ জুন ২০২০   আপডেট: ২০:৪৯ ১ জুন ২০২০

দালাল জুলহাস

দালাল জুলহাস

লিবিয়ায় বাংলাদেশি হত্যার ঘটনায় মাদারীপুরে তিনটি মামলা দায়ের করেছে নিহতের পরিবার। ৩ মামলায় ১৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সম্প্রতি লিবিয়ায় গুলি করে ২৬ বাংলাদেশিকে হত্যা করে মানব পাচারকারীরা। এদের মধ্যে অধিকাংশই মাদারীপুরের বাসিন্দা। এই ঘটনায় মাদারীপুরের রাজৈরে লিবিয়ায় নিহত জুয়েলের বাবা রাজ্জাক হাওলাদার বাদী হয়ে দালাল জুলহাস সরদারসহ ৪ জনের নামে মানব পাচার আইনে মামলা করেছে রাজৈর থানায়। এছাড়া রাজৈর থানার বদরপাশা ইউপির নিহত রহিম খালাসীর ভাই আবু সাইদ খালাসী বাদী হয়ে রাজৈর থানায় আরো একটি মামলা দায়ের করেছে। ওই মামলায় জুলহাস সরদারসহ ৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এদিকে একই ঘটনায় লিবিয়ায় নিহত ও মানব পাচারের শিকার মাদারীপুর সদর উপজেলার দুধখালি ইউপির মো. শামিমের বাবা আব্দুল হালিম মিয়া বাদী হয়ে রোববার মাদারীপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করে। মামলায় দালাল নজরুল ইসলামসহ তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। এই ঘটনায় রোববার রাতেই আসামি দিনা বেগমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। 

দিনা বেগম মানবপাচার মামলার এজাহারভুক্ত আসামি এবং দালাল নজরুল ইসলামের স্ত্রী।

মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার হোসেনপুর ইউপির ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা নিহত জুয়েল হাওলাদারের বাবা রাজ্জাক হাওলাদার ও মা রহিমা বেগম বলেন, আমাদের ছেলেসহ রাজৈরের বিভিন্ন এলাকার বেশ কয়েকজনকে দালালচক্র লিবিয়া নেয়ার কথা বলে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৩/৪ মাস আগে ৪/৫ লাখ টাকা চুক্তি করে নিয়ে যায়। তারপর লিবিয়ার ত্রিপলী না নিয়ে বেনগাজীতে আটকে রেখে নির্যাতন করে। এরপর ভয়েজ রেকর্ডে নির্যাতনের শব্দ পাঠিয়ে আরো ১০ লাখ টাকা দাবি করে। আমরা হোসেনপুর জুলহাস সরদার নামের ওই দালালের বাড়িতে গিয়ে ১০ লাখ টাকা দিয়ে আসি। এরপরও তারা আমার ছেলেকে হত্যা করেছে।

একই গ্রামের নিখোঁজ মানিক হাওলাদারের পিতা শাহ আলম হাওলাদার বলেন, আমার ছেলে মানিককে লিবিয়া নেয়ার কথা বলে দালাল জুলহাস আমার কাছ থেকে প্রথমে ৪ লাখ টাকা নিয়েছে। পরে ছেলেকে বেনগাজী আটকে রেখে ভয়েজ রেকর্ডের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা দাবি করে। আমি আমার ছেলেকে ফিরিয়ে আনতে জুলহাসের বাড়ি গিয়ে টাকা দিয়ে আসি।

রাজৈর থানার ওসি শওকত জাহান বলেন, মানব পাচারের ঘটনায় রাজৈর থানায় দুটি মামলা দায়ের করেছে নিহতের পরিবার। দালাল জুলহাস দুটি মামলারই আসামি। একটি মামলায় ৭ জন ও অপর মামলায় ৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এদের মধ্যে জুলহাস করোনা পজিটিভ হওয়ায় পুলিশের হেফাজতে মাদারীপুর সদর হসাপাতালের আইসোলেশনে ভর্তি রয়েছে। 

মাদারীপুর সদর থানার ওসি কামরুল ইসলাম মিয়া জানান, মানব পাচারের ঘটনায় মাদারীপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলায় দিনা বেগম নামে এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমএইচ