মাদারীপুরের সঙ্গে বরিশালে যাতায়াতে বাধা

ঢাকা, রোববার   ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১,   ফাল্গুন ১৫ ১৪২৭,   ১৫ রজব ১৪৪২

মাদারীপুরের সঙ্গে বরিশালে যাতায়াতে বাধা

মাদারীপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০৯:৩১ ২৩ মার্চ ২০২০   আপডেট: ০৯:৪১ ২৩ মার্চ ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

করোনাভাইরাস সংক্রমণ এড়াতে মাদারীপুরের সঙ্গে বরিশালের যোগাযোগে বাধার সৃষ্টি করা হয়েছে। রোববার দুপুর থেকে কালকিনি উপজেলার কয়েকটি অভ্যন্তরীণ রুটে সংযোগস্থলে বাঁশ-কাঠ দিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। অন্যদিকে শিবচরের চারটি এলাকার প্রায় ৭০ হাজার মানুষ প্রশাসনের কড়া নজরদাড়িতে দিন অতিবাহিত করছেন। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কালকিনি উপজেলার ভূরঘাটার সীমান্তবর্তী এলাকার সঙ্গে বরিশালের গৌনদীর সংযোগ স্থলের বাঁশ দিয়ে যাতায়াতের বাঁধা সৃষ্টি করা হয়েছে। 

একই চিত্র নতুন টরকি থেকে রমজানপুর রাস্তা, ঘোষেরহাট রাস্তা থেকে কাজীবাকাই রাস্তায়। কালকিনি ও ডাসার থানা পুলিশের সহযোগিতায় এসব কাজে সহযোগাগিতা করছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ। এতে কিছুটা যাতায়াতের বিঘ্নিত হলেও করোনার প্রভাব থেকে বাঁচতে সবাই প্রশংসা করেছেন। 

ডাসার থানার ওসি মো ওহাব মিয়া জানান, আমরাও চেষ্টা করছি সাধারণ মানুষকে জড়ো না হতে। তাদের নিজের এলাকায় হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার পর্রামশ দিচ্ছি। এই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা আইনগতভাবে করা হয়নি, মানুষকে সচেতন করতে করা হয়েছে।
 
শিবচর পৌর বাজারসহ ঝূকিপূর্ণ দুটি ওয়ার্ড ও দুটি ইউপির দুই গ্রামের চারটিস্থানে ২৫০ জন পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। 

সার্বক্ষণিক মনিটারিং করছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার জন্য জনগণকে আহবান জানিয়েছেন স্থানীয় এমপি চীফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী। দফায় দফায় পরিদর্শনে আসছেন ডিসি, সিভিল সার্জনসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, করোনাভাইরাসের চরম ঝুঁকিতে থাকা মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার চারটি এলাকার প্রায় ৭০ হাজার মানুষ আতঙ্কের মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করছেন। খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া কাউকে ঘর থেকে বের হতে দেখা যাচ্ছে না। এলাকার রাস্তাগুলোতে প্রশাসন ও পুলিশের রয়েছে কড়া নজরদারি। চতুর্থ দিনের মতো বন্ধ রয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দোকান ছাড়াও বেশিরভাগ বাজার। 

শুধু ওই চার এলাকায়ই নয় করোনা আতঙ্কে আশপাশের মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। চিহিৃত এলাকা ছাড়াও আশপাশের এলাকায় প্রশাসন, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও জনপ্রতিনিধিরা টহল দিচ্ছেন। বাজারগুলোও স্বতস্ফুর্তভাবে জনশূন্য হয়ে পড়েছে।

সম্প্রতি শিবচর উপজেলায় ৬৮৪ প্রবাসী ইটালীসহ বিভিন্ন দেশ থেকে জেলায় সাড়ে ৩ হাজার প্রবাসী প্রবেশ করে। চার দিন ধরে উপজেলার সব বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। জন সচেতনতা বাড়ায় জন শূন্য হয়ে পড়েছে বাজার ঘাট। 

মাদারীপুরে করোনাভাইরাসে ২৯৮ জন কোয়ারেন্টাইনে আছে। যার মধ্যে হোম কোয়ারেন্টাইনে ২৯৫ জন এবং হাসপাতালের কোয়ারেন্টাইনে আছে তিন জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হোম কোয়ারেন্টাইনে আছে ৫৫ জন। সদর হাসপাতালের আইসোলেশনে আছে তিন জন। এ পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টাইন থেকে রিলিজ পেয়েছেন ২৬১ জন। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন জেলা সিভিল সার্জন অফিস।

এদিকে প্রবাসীদের আনাগোনা হওয়ায় মাদারীপুরে ফাস্টফুড ও চাইনিজ রেস্টুরেন্ট বন্ধ করেছে দিয়েছে মালিকপক্ষ। জেলার সব বিনোদন কেন্দ্রগুলো এখন মানুষ শূন্য হয়ে পড়েছে। খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া শহরের কাউকে ঘর থেকে বের হতে দেখা যায়নি। রাস্তায় বিভিন্ন ধরনের ছোট-বড় যানবাহনের সংখ্যাও অনেক কম। মানুষ চরম আতঙ্গের মধ্য দিয়ে দিন অতিবাহিত করছে। 

শিবচরের ইউএনও আসাদুজ্জামান বলেন, শিবচরের ৪ টি এলাকা সংলগ্ন প্রায় ৭৮ হাজার মানুষকে নজরদাড়িতে রেখেছি। এ এলাকাগুলোর মানুষদের চলাচল সীমিত করা হয়েছে। হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা কারো বাজার লাগলে তাদের সহায়তা করবো। শুকনো খাবার দেয়া হবে।

এ ব্যাপারে মাদারীপুরের ডিসি মো. ওয়াহিদুল ইসলাম জানান, মাদারীপুর জেলাকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করায় যে কোনো দিক থেকে এসব এলাকায় লোকজন না আসার অনুরোধ করা হচ্ছে। তেমনি এই জেলা থেকেও খুব প্রয়োজন না হলে অন্য জেলায় না যাওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে। এখন সবাই কোনো না কোনো ভাবে বিপদে আছি, সবাই সচেতন হলে করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা পাবো। 

স্থানীয় সংসদ সদস্য চীফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী বলেন, ভাইরাসটি থেকে মুক্ত থাকতে জনগণকে সতর্কতা মেনে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী চলার জন্য অনুরোধ করছি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে