Alexa মাদরাসা জঙ্গিবাদ সৃষ্টির কারখানা নয়: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৬ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ১ ১৪২৬,   ১২ জ্বিলকদ ১৪৪০

মাদরাসা জঙ্গিবাদ সৃষ্টির কারখানা নয়: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২২:৩৮ ১১ মার্চ ২০১৯  

ডেইলি বাংলাদেশ

ডেইলি বাংলাদেশ

মাদরাসা শিক্ষার বিরুদ্ধে কোনো কোনো এমপির দেয়া বক্তব্য নাকচ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মাদরাসা জঙ্গিবাদ সৃষ্টির কারখানা নয়। মাদরাসা শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ অন্যদের দ্বারা ব্যবহার হতে পারেন। কওমি মাদরাসা শিক্ষা সনদের স্বীকৃতি দেয়া নিয়ে যারা প্রশ্ন তোলেন তাদেরও সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।   

সোমবার রাতে জাতীয় সংসদে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। একাদশ জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনের সমাপনী ভাষণ দেন সংসদ নেত্রী।

গত ৩ মার্চ জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ওপর দেয়া ভাষণে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন কওমি মাদরাসা শিক্ষাকে ‘বিষবৃক্ষ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। কওমি সনদের স্বীকৃতি দেয়ারও সমালোচনা করেন তিনি। তার ওই বক্তব্যের ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয়। হেফাজতে ইসলাম রাজপথে বিক্ষোভ করেছে এবং কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেয়।

রাশেদ খান মেননের বক্তব্যের ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কেউ কেউ বলেন, মাদরাসা জঙ্গিবাদ সৃষ্টির কারখানা, এটা সঠিক নয়। হলি আর্টিজানে যে হামলা হয় সেখানে কারা জড়িত? তারা তো কেউ মাদরাসা শিক্ষিত না। সবাই তো উচ্চ শিক্ষিত।

সংসদ নেত্রী বলেন, আমার মনে হয়, তাদের জীবনে পাওয়ার আর কিছু বাকি নেই। পাওয়ার জায়গাটি হারিয়ে গিয়ে তারা জঙ্গিবাদে জড়িয়ে যাচ্ছে। এজন্য শুধু মাদরাসা শিক্ষিতদের দোষারোপ করলে হবে না।’

কওমি মাদরাসা শিক্ষা সনদের স্বীকৃতি দেয়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা কি তাদের ফেলে দেব? তারা তো আমাদেরই সন্তান, দেশের নাগরিক। বিশ্ব যখন এগিয়ে যাচ্ছে, তখন তারা কেন পিছিয়ে থাকবে। তাদের মেধাকে আমরা কেন কাজে লাগাবো না?

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কওমি মাদরাসা সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদিসকে সরকারি স্বীকৃতি দেয়া আমাদের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার ফসল। তারা দেওবন্দের কারিকুলাম অনুসরণ করছে। দেওবন্দ ভারতে স্বীকৃত একটি কারিকুলাম।

এসময় তিনি দেওবন্দি ধারার প্রশংসা করে বলেন, ওই দেওবন্দ কারা? তারা কিন্তু ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, সিপাহি আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সুতরাং তাদেরকে স্বীকৃতি দিয়ে কোনো অন্যায় করিনি।

দীর্ঘ সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের চিত্র তুলে ধরেন। প্রথম অধিবেশনে এমপিদের উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগেরও জবাব দেন সংসদ নেতা। সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির প্রশংসার পাশাপাশি বাইরে থাকা বিএনপির কড়া সমালোচনা করেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বিএনপি তথা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচিত এমপিদের সংসদে এসে কথা বলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, একাদশ জাতীয় নির্বাচনে নৌকার বিজয় জনগণের স্বতস্ফূর্ত ভোটের রায়। জঙ্গী-সন্ত্রাস-মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ায় একাদশ জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগকেই বেছে নিয়েছে জনগণ। জনগণ আর জঙ্গীবাদ-সন্ত্রাস-মাদক-অগ্নিসন্ত্রাস আর দেখতে চায় না, নির্বাচনে তাই প্রমাণ হয়েছে। বিএনপি তথা ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচিত নেতাদের বলবো, জনগণের ভোটের প্রতি সম্মান দেখিয়ে সংসদে আসুন, যতো কথা বলার আছে বলুন, আমরা বাধা দেবো না।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেকে/আরএইচ