.ঢাকা, শুক্রবার   ১৯ এপ্রিল ২০১৯,   বৈশাখ ৬ ১৪২৬,   ১৩ শা'বান ১৪৪০

মাথা ছাড়াই দু`বছর বেঁচে ছিল যে মুরগি (ভিডিও)

নিউজ ডেস্ক :: news-desk

 প্রকাশিত: ১০:৪৩ ৭ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৮:০৩ ৩০ জানুয়ারি ২০১৯

ছবি- সংগৃহীত

ছবি- সংগৃহীত

মাথা ছাড়া কোনো মুরগির বেঁচে থাকার কথা কল্পনা করাটাই অবাস্তব। কিন্তু এ কোনো সাধারণ মুরগি নয়। এ যেন মৃত্যুকে জয় করা এক মাথাহীন মুরগির গল্প। বলছি মিরাকল মাইকের কথা। মাইকের মাথা কেটে ফেলার পরও সে দু'বছর বেঁচে ছিল। 

১৯৪৫-এর সেপ্টেম্বরের ঘটনা। কলোরাডোর ফ্রুটা শহরে খাবার দোকানে মুরগি সাপ্লাই করতেন লয়েড ওলসেন ও তার স্ত্রী ক্লারা। চল্লিশটি মুরগি জবাই করার পর তাদের নজর পড়ে, শরীর থেকে মাথা আলাদা হলেও একটি মুরগি টলতে টলতে দৌড়াচ্ছে। মুণ্ডহীন মুরগির মৃত্যুর অপেক্ষায় সেটিকে একটি বাক্সে রেখে দিয়ে ঘুমোতে যান ওই দম্পতি। পর দিন সকালে ঘুম ভেঙে তারা দেখলেন, সেই মুরগিটি তখনও বেঁচে ছিল। দ্রুত খবর ছড়িয়ে পড়ে ছোট্ট শহরে। রাতারাতি সে হয়ে যায় সেলেব্রিটি।

আসলে লয়েড যখন মাইকের মাথায় কোপ মারেন, তখন তার একটা কান বাদ পুরো মাথা কেটে যায়। কিন্তু মুরগিদের মাথার পেছনে থাকে মস্তিষ্কের মূল অংশটা। মাইকের ক্ষেত্রে আশ্চর্যজনকভাবে মস্তিষ্কের ৮০ শতাংশ অংশই ঠিক থেকে যায়।

মাইকের মস্তিষ্কের এই অংশটাই তার শ্বাস-প্রশ্বাস, হৃদ্‌স্পন্দন, খিদে, হজম নিয়ন্ত্রণ করত। সময় মতো মাইকের ক্ষতর কাছে রক্তও জমাট বেঁধে গিয়েছিল, ফলে সেভাবে রক্তক্ষরণও হয়নি।

মাথা না থাকায় একটি ড্রপারে করে তরল খাবার ও জল সরাসরি খাদ্যনালিতে ঢেলে দেয়া হত। সিরিঞ্জ দিয়ে খাদ্যনালির চার দিকের ময়লা পরিষ্কার করে দিতেন লয়েড। এভাবেই চলছিল মাইকের জীবন। ১৯৪৭ সালের মার্চ মাসে পশ্চিম আমেরিকার ফিনিক্স শহরে প্রদর্শনী শেষে একটি মোটেলে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন লয়েড দম্পতি ও মাইক। সিরিঞ্জ প্রদর্শনীতেই ফেলে এসেছিলেন লয়েডরা। সেই রাতে খাবার আটকে প্রাণ যায় মাইকের। যদিও মারা গিয়েও বেঁচে ছিল মাইক। তার মনিব দীর্ঘদিন তার মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যেই আনেননি। কেউ খোঁজ করলেই লয়েডরা বলতেন, বেঁচে দেয়া হয়েছে মাইককে। এভাবেই মৃত্যুর পরেও বেঁচে ছিল মিরাকল মাইকের মিথ।

প্রসঙ্গত, কলোরাডোর ফ্রুটা শহরে গেলে এখন মুণ্ডহীন মুরগির স্ট্যাচুর দেখা মেলে। মাইকের স্মৃতিতে প্রতি বছর মে মাসে পালন হয় ‘হেডলেস চিকেন ফেস্টিভ্যাল’। 

দেখুন ভিডিও: 

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ