কিভাবে এলো চকলেট?

ঢাকা, রোববার   ১৯ মে ২০১৯,   জ্যৈষ্ঠ ৫ ১৪২৬,   ১৩ রমজান ১৪৪০

Best Electronics

কিভাবে এলো চকলেট?

 প্রকাশিত: ১৩:৩৬ ১৩ অক্টোবর ২০১৮   আপডেট: ১৩:৩৬ ১৩ অক্টোবর ২০১৮

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

আপনি কি চকোহলিক? চকলেট ছাড়া একটি দিনও ভাবতে পারেন না? তাহলে বলতেই হয়, ভাগ্য ভাল যে ষোড়শ শতাব্দীর আগে জন্মাননি। কারণ তখন পর্যন্ত চকলেটের আদি পিতা কাকাও পাওয়া যেত শুধুমাত্র মেসোআমেরিকাতেই; কিন্তু আজ পৃথিবীর সবস্থানেই চকলেট পাওয়া যায়। কাকাও এর উৎপত্তি কবে বা কোথায় তা নিয়ে বিশাল গবেষণা পত্র প্রকাশ করা যেতে পারে, তবে তা নিতান্তই নিরস হয়ে যাবে। তবে মোটামুটি ধারণা দিতে গেলে বলতে হয়, বর্তমান মেক্সিকো, গুয়াতেমালা, নিকারাগুয়া (পুরাটাই মেক্সিকোর মধ্যে ছিল) এলাকার আদিবাসীরা যৌন উত্তেজক পাণয় হিসেবে কাকাও এর রস পান করতো। তারা কাকাও গাছের বীজ প্রক্রিয়াজাত করত। বীজগুলোকে চূর্ণ করে কর্ণমিল এবং চিলি মরিচের সঙ্গে মেশানোর মাধমে তৈরি হত গরম এক প্রকার পানীয়। সেটাকে হট চকোলেট ড্রিঙ্কস বলে মনে করলে ভুল করবেন। কারণ প্রাগৈতিহাসিক যুগের সেই পানীয়ের স্বাদ ছিল তিতকুটে।

যদি মনে করেন চকলেটের কদর এই আধুনিক যুগের মানুষের কাছে সবচেয়ে বেশি সেটাও হয়তো ভুল। মেসোআমেরিকানরা কাকাওকে একটি স্বর্গীয় খাবার বলে মনে করত। মায়ান সভ্যতার মানুষরা কাকাওকে তাদের সর্পদেবতা 'কুকুলকান' এর দেয়া উপহার মনে করত। আজটাক সভ্যতার মানুষরা সেই দেবতাকে ডাকতেন কেটজালকোয়াটল নামে। আজটেকরা কাকাও বীজকে মুদ্রা হিসেবে ব্যবহার করতো বলে জানা যায়। তারা কাকাও থেকে প্রাপ্ত চকলেটি পানীয় রাজকীয় উৎসবসমূহে পান করতো। যুদ্ধে সফলতার স্বীকৃতি স্বরূপ সৈন্যদের এ পানীয় পুরস্কার হিসেবে দেয়া হতো।

১৫১৯ খ্রিস্টাব্দে হার্নান কর্টেজ নামক একজন অভিযাত্রী সর্বপ্রথম ইউরোপে কাকাও পানীয় নিয়ে আসেন। স্পেনে তখন শুধুমাত্র পাকস্থলীর পীড়ায় ভুগতে থাকা রোগীদেরকেই ওষুধ হিসেবে এ পানীয় খেতে দেয়া হতো। পরবর্তীতে এতে মধু চিনি বা ভ্যানিলা মিশিয়ে উন্নত মানের চকলেট তৈরির রীতি চালু হয়। চকলেটের এ নতুন আবিষ্কৃত স্বাদে মোহিত হয় সবাই। তখন থেকে স্প্যানিশ রাজদরবারে চকলেট ছিল এক অপরিহার্য বস্তু। স্পেনের সব অভিজাত গৃহেই চকলেট রাখার জন্য স্বর্ণের চকলেটদানি শোভা পেত। তবে এই অভিজাত পানীয় তৈরি করা ছিল বেশ কঠিন এবং সময়সাপেক্ষ। উল্লেখ্য ইউরোপে তখন কাকাওকে কোকোয়া নামে ডাকা হত।

১৮২৪ সালে চকলেট প্রস্তুতির প্রণালী আমূল বদলে দেন আমস্টারডামের একজন আবিষ্কারক কনরাড ফন হটেন। তিনি একটি কোকোয়া প্রেস মেশিন আবিষ্কার করেন, যা কোকোয়া থেকে ফ্যাট অর্থাৎ কোকোয়া বাটার আলাদা করতে পারতো। এই কোকোয়া বাটারকে এক বিশেষ ধরনের পানীয়র সঙ্গে মিশিয়ে সর্বপ্রথম চকলেট তৈরি করা হয়। এর অল্পকাল পরেই ড্যানিয়েল পিটার নামক একজন সুইস চকলেট বিশেষজ্ঞ চকলেট মিল্ক পাউডার ব্যবহার করে মিল্ক চকলেট এর উদ্ভাবন করেন। বিংশ শতাব্দীতে এসে চকলেট আর অভিজাতদের খাবার বা পানীয় হিসেবে থাকল না, সাধারণ মানুষরা একে অপরকে উপহার হিসাবে চকলেট দেয়া শুরু করলেন। চকলেটের চাহিদার পাশাপাশি কোকোয়ার চাহিদাও বাড়তে থাকলো। এখানে বলে রাখা ভালো, শুধু নিরক্ষীয় অঞ্চল অর্থাৎ ক্যারিবিয়ান অঞ্চলেই কোকোয়ার চাষ ভালো হতো। এজন্য প্রচুর শ্রমিক দরকার হতো।  তাই আফ্রিকান দাসদেরকে ক্যারিবিয়ায় পাঠিয়ে কোকোয়ার চাষ করানো হতো।

কিন্তু বিংশ শতাব্দীতে অনেকেই ছিলেন দাস প্রথার বিরুদ্ধে, এবার আফ্রিকান দাসদেরকে ক্যারিবিয়ায় নিয়ে কোকোয়া গাছকেই পশ্চিম আফ্রিকায় এনে চাষ করা শুরু হলো। কিন্তু সেখানকার ইতিহাস বড্ড বেশি করুণ। ইউরোপিয়ান প্রভুরা পশ্চিম আফ্রিকার সেই কোকোয়া বাগানগুলোতে কৃষ্ণাঙ্গ দাস ও শিশুদের শ্রমিক হিসেবে ব্যবহার করত। ২০ লাখেরও বেশি শিশু কোকোয়া বাগানগুলোতে কাজ করতো। ছোট ছোট শিশুরা চকলেট উৎপাদন এর কাজ সঠিকভাবে করতে না পারায় নিগৃহীত হতো প্রায়ই। যদিও পরবর্তীতে ইউরোপিয়ান চকলেট কোম্পানীগুলোর সঙ্গে স্থানীয় বাগান মালিকদের এক বিশেষ চুক্তি সম্পন্ন হয়ে কোকোয়া বাগানে শিশু শ্রম বন্ধ হয়। তবে আজও আইভরি কোস্ট, ঘানা ও নাইজেরিয়াসহ আফ্রিকান দেশগুলোই কোকোয়া উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষ স্থান দখল করে আছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস/এসজেড

Best Electronics