Alexa মাঠের ধানে সফল পাখিরা

ঢাকা, শুক্রবার   ২৩ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ৮ ১৪২৬,   ২১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

মাঠের ধানে সফল পাখিরা

 প্রকাশিত: ১৬:০০ ২২ ডিসেম্বর ২০১৭  

ছবি সংগৃহিত

ছবি সংগৃহিত

সংসারের কাজ গুছিয়ে কনকনে এই শীত উপেক্ষা করে ফসলের মাঠে নেমে পড়েছেন বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার রুহিতা গ্রামের নারীরাও। ২৫ জনের নারীর দলটি নিজেদের রোপিত পাকা ধান কাটছেন তারা। সব কাজ নিজেরাই করছেন, নিচ্ছেন না অন্য কোন শ্রমিকদের সহযোগিতা। সম্মিলিত চাষাবাদে এভাবেই ভাগ্য গড়ছেন উপকূলীয় এ উপজেলার নারীরা।

এক সময় দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষ শুধু মাছ ধরা নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন। কৃষিতে তাদের মনোযোগ ছিল না বললেই চলে। আর এখন ফসলের মাঠ ভরা উপকূলে পুরুষের পাশাপাশি চাষাবাদে সমান তালে এগিয়ে চলেছেন নারীরাও।

বঙ্গোপসাগরের তীরঘেঁষা এক পাশে বিষখালী অন্য পাশে বলেশ্বর নদী সংলগ্ন পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের রুহিতা গ্রাম। এলাকাটিতে প্রতিনিয়ত আঘাত হানে বিভিন্ন মাত্রার সিডর, সাইক্লোন, জলোচ্ছ্বাস, টর্নেডো, নদীভাঙনসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ। সেগুলো এ অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলায় প্রতিটি সংসারে সারা বছরই লেগে থাকে অভাব-অনটন।

অভাবের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে ২৫ জন নারীকে নিয়ে গড়া হয়েছে ‘সুন্দরবন নারী দল’। দলটির নেতৃত্বে আছেন পাখি বেগম। কৃষিতে যে নারীরাও সমানভাবে পুরুষের মতোই কাজ করতে পারেন, তারই জ্বলন্ত উদাহরণ এই রুহিতার সুন্দরবন নারী দল। সম্মিলিত চাষাবাদে ভাগ্য গড়ছেন উপকূলীয় প্রান্তিক নারীরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ২৫ জন নারী নিজেদের চাষ করা পাকা ধান কাটছেন। কেউ কারো চেয়ে কম নন, সমান অংশে ভাগ হয়ে পাল্লা দিয়ে ধান ঘরে তুলছেন তারা। অন্য কোনো শ্রমিকের সাহায্য ছাড়া সব কাজ নিজেরাই করছেন।

পাখিদের দেখাদেখি আরও অনেক নারীই তাদের কাছে এসে পরামর্শ নিয়ে ফসলের মাঠে নেমে পড়েছেন। আরও ৫টি নারী দলও সাড়ে ৩ একর জমিতে ধানসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করে এলাকায় আলোড়ন তুলেছেন।

উপজেলার পাথরঘাটা সদর ও চরদুয়ানী ইউনিয়নে ৮টি গ্রামে অ্যাকশন এইডের সহযোগিতায় ‘সহিংসতা প্রতিরোধমূলক কাজে নারীকে সম্পৃক্তকরণ’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সুশীলন। এর আওতায় ২০১১ সালের জুন মাসে পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের রুহিতা গ্রামের ওই ২৫ জন নারীকে নিয়ে সুন্দরবন নারী দল গঠিত হয়। কৃষিকাজে নারীর অংশীদারিত্বসহ নারীর ক্ষমতায়ন ও অধিকার বিষয়ে নানা প্রশিক্ষণ নেন দলের নারীরা। অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে প্রশিক্ষণ শেষে তাদেরকে সার-বীজ দেয় সুশীলন। সেগুলো নিয়ে দলের সদস্যরা রুহিতা মাঠে সূর্যমুখীর চাষ শুরু করে প্রথম বছরেই ২৫ হাজার টাকা লাভ হয়। কাজে উৎসাহ দেখে নিজেদের ৪০ হাজার টাকা ও নারী দলের সদস্যদের সঞ্চয়কৃত ২৫ হাজার টাকা দিয়ে ৮২ শতাংশ কৃষিজমি ৩ বছরের মেয়াদে চুক্তিতে বন্দোবস্ত নেয় অ্যাকশনএইড ও সুশীলন।

চলতি মৌসুমে দলগুলোর সদস্যরা ওই দুই ইউনিয়নের ১ একর ৪৮ শতাংশ জমিতে লবণাক্ততা সহনশীল জাতের ইরি ধান উৎপাদন করেছেন। এতে তাদের খরচের টাকা দ্বিগুণ লাভ হয়েছে বলে জানান রূপালী নারী দলের সভানেত্রী নাসিমা বেগম।

সুন্দরবন নারী দলের সভানেত্রী পাখি বেগম বলেন, সংসারে আমরা নিজেরাই স্বাবলম্বী। এখন আর স্বামীর কাছে হাত পেতে থাকতে হয় না। লাভের টাকা ব্যাংকে জমা রাখি আর কিছু টাকা মাঝে-মধ্যে সংসারেও খরচ করি।

পাথরঘাটা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শিশির কুমার বড়াল বলেন, নারীদের এমন উদ্যোগ দেখে সব সময়ই পরামর্শ দিয়ে আসছি। পুরুষের পাশাপাশি সমান তালে কৃষিকাজে এগিয়ে আসছেন এখানকার নারী কৃষকেরা। দেশের খাদ্য উৎপাদনে ব্যাপক ভূমিকা রাখছেন তারাও।

বরগুনার জেলা চেয়ারম্যান ও সাবেক এমপি মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, বিভিন্ন মাত্রার সাইক্লোন, জলোচ্ছ্বাস, টর্নেডো, নদীভাঙনে দুর্যোগপ্রবণ উপকূলীয় এলাকা। সেগুলোর নেতিবাচক প্রভাবে জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকায় অভাব-অনটন নিত্যসঙ্গী। কৃষিকাজে নারীদের এই সম্পৃক্ততা ও তাদের ফুড ব্যাংক অর্থনৈতিক স্বাবলম্বীতার পথ দেখাবে বলে তিনি আশা করেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসআর

Best Electronics
Best Electronics