Alexa মাটির সুর হৃদয়ে নিয়ে শেষ হলো ফোক ফেস্ট

ঢাকা, শুক্রবার   ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ২১ ১৪২৬,   ০৮ রবিউস সানি ১৪৪১

মাটির সুর হৃদয়ে নিয়ে শেষ হলো ফোক ফেস্ট

নাজমুল আহসান ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০০:৪৪ ১৭ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৩:২২ ১৭ নভেম্বর ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

লালন ফকির, হাছন রাজা, শাহ আব্দুল করিম, আব্দুল আলীমের দেশে আরো একবার মাটির সুরের মায়াজালে সবাইকে ভাসিয়ে শেষ হলো ‘ঢাকা আন্তর্জাতিক লোকসংগীত উৎসব-২০১৯’। তিনদিন ব্যাপী এই বর্ণাঢ্য আয়োজনে দর্শকরা উপভোগ করেছেন দেশি, বিদেশি লোকসংগীত শিল্পীদের শেকড়ের গান।

এই বর্ণাঢ্য আয়োজনে ভাটিয়ালি, ভাওয়াইয়া, সারি, সারি আর বাউল গানসহ হাজার বছর ধরে বাংলার শিকড়ে ছড়িয়ে থাকা গানগুলো আলোড়িত করে শ্রোতাদের প্রাণ। দেশের সীমানা ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়েছে সেই সুরের মুগ্ধতার ছোঁয়া। আমাদের দেশীয় লোকশিল্পের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের ফোক গানের সমাহারে গত তিনটি রাত মুখরিত ছিল  আর্মি স্টেডিয়ামের।

বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া এ উৎসবের তিনটি রাতই ছিল বেশ চমকপ্রদ। এ উৎসব উদ্বোধন করেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ। গতবারের ন্যায় এবারো প্রেমা ও ভাবনা নৃত্য দলের নৃত্যের তালে তালে পর্দা ওঠে ফোক ফেস্টের। দলটির প্রধান সামিনা হোসেন প্রিমার পরিচালনায় বেশ কয়েকজন নৃত্যশিল্পী নৃত্য পরিবেশন করেন।তিন দিনের ‘ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ফোক ফেস্ট-২০১৯’-এ বাংলাদেশসহ বিশ্বের ছয়টি দেশ থেকে ২০০ জনেরও বেশি লোকসংগীত শিল্পী ও কলাকুশলী অংশ নেন। প্রথম দিনের অনুষ্ঠানে প্রেমা ও ভাবনা নৃত্য দলের পরিবেশনা ছাড়াও গান গেয়েছেন প্রখ্যাত বাউলশিল্পী শাহ আলম সরকার, ভারতের দালের মেহেন্দি ও জর্জিয়ার শেভেনেবুরেবি। 

উৎসবের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার থাকায় প্রথম দিনের তুলনায় লোকসমাগম বেশি ছিলো। এদিন মাটির গান শুনতে পিতার সঙ্গে পুত্র-কন্যা, ভাইয়ের সঙ্গে ভাবি, বোনের সঙ্গে দুলাভাই, প্রেমিকার হাত ধরে প্রেমিকসহ কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের দেখা গেছে। এদিন বাংলাদেশের কাজল দেওয়ান, ‘ম্যাজিক বাউলিয়ানা’র কামরুজ্জামান রাব্বি ও শফিকুল ইসলাম, ফকির শাহাবুদ্দিন, মালির হাবিব কইটে অ্যান্ড বামাদা ও পাকিস্তানের হিনা নাসরুল্লাহ গান শিকড় সন্ধানী গান গেয়ে শোনান।

‘ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ফোক ফেস্ট ২০১৯’র শেষ দিনে গান পরিবেশন করেন বাংলাদেশের মালেক কাওয়াল, রাশিয়ার সাত্তুমা, চন্দনা মজুমদার ও পাকিস্তানের জুনুন।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই সন্ধ্যা সাতটা ১৫ মিনিটে মঞ্চে ওঠেন মালেক কাওয়াল। তিনি একে একে গেয়ে শোনান ‘ইস্কে নবী’, ‘ইয়া রেহমানি মওলা মাইজভান্ডারি’, ‘আমার বাবা মওলানা’, ‘ডুব দিয়াছি ভবের মাঝে বড় বাবা মওলানা’, ‘বাবা মওলানা মওলানা মওলানা’, ‘খাজা মেহু তোমারি ভিখারি মেরি’ গানটি। এই গানটির মধ্য দিয়েই শেষ করেন তার ৪৫ মিনিটের পরিবেশনা।

মালেক কাওয়ালের পর গান শোনাতে মঞ্চে আসেন রাশিয়ার কারেলিয়া অঞ্চলের জনপ্রিয় ব্যান্ড দল সাত্তুমা। এক ঘণ্টারো বেশি সময় রুশ ও পাশ্চাত্যের সুরের সঙ্গে ‘নিও ফোক’ ঘরানার গান দিয়ে মাতিয়ে রাখেন দর্শকদের। এছাড়াও মঞ্চে নানা ধরনের ইন্সট্রুমেন্ট বাজিয়ে এক অদ্ভুত মূর্ছনায় দর্শককে মহাবিষ্ট করে রাখেন সাত্তুমার সদস্যরা। 

রাত তখন সাড়ে নয়টা, আর্মি স্টেডিয়ামে আগত দর্শকরা সুরের স্রোতে গা ভাসিয়েছেন এমন সময় মঞ্চে ওঠেন দেশের খ্যাতিমান লোকসংগীত শিল্পী চন্দনা মজুমদার। শুরুতে তিনি দর্শকদের উপহার দেন ‘চাতক ভক্তিতে ভোলাবেন সাই’। শেষ হতে না হতেই কণ্ঠে তুলে ‘ধন্য ধন্য বলি তারে’, শিল্পীর সঙ্গে গানটি গাইতে থাকেন অগণিত দর্শক-শ্রোতা।  

চন্দনা মুজমদার দর্শকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমি আপনাদের রিকোয়েস্টের গানগুলোই গেয়েছি, সময় নিলেন না এবার গাইলেন ‘সিন্নি খাওয়ার লোভ যার আছে’, ‘তুমি জানো নারে প্রিয়’, ‘মুরশিদ পরশ অমূল্য ধন’।

এবার সবাইকে গলা মেলাতে আহবান জানিয়ে গাইলেন ‘সোনারো পালঙ্কের ঘরে’। এই গানটি দিয়েই সুরে সুরে দর্শকদের মাতোয়ারা করে চন্দনা মুজমদার তার পরিবেশনা শেষ করেন।

‘ঢাকা আন্তর্জাতিক লোকসংগীত উৎসব-২০১৯’র শেষ দিনের চমক হিসাবে ছিলেন পাকিস্তানের সুফি ঘরানার ব্যান্ডদল ‘জুনুন’। শুধুই পাকিস্তানিদের কাছেই নয় উপমহাদেশের সঙ্গীতপ্রেমীদের কাছে ‘জুনুন’ এক উন্মাদনার নাম। রাত সাড়ে দশটায় মঞ্চে আসলো দলটি। রক গান ‘তুহি হাই মেরা’ দিয়ে উন্মাদনা দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিলেন।  

জুনুনের দলের প্রধান বলেন, স্বাগতম ঢাকা। প্রথমবার ঢাকায় এসে ভালো লাগছে। চমৎকার মানুষ আপনারা। এখানকার মানুষ সংগীতপ্রিয়। এখানে শোনাতে পারবো বলে আরো ভালো লাগছে। কথা শেষ করেই গাইলেন ‘তেরি মেরি মওলা সাহে'সহ আরো দুটি গান। এরপর গেয়ে শোনালেন তাদের জনপ্রিয় গান ‘সাইওনি’। গাইলেন পাকিস্তানের সাধক বাল্লে শাহ'র ‘ও লাল মেরি পাতে রাখিও বালা ঝুলে’। ‘চারদিনা দিল মেরা নেহি লাগতা’ ছাড়াও বেশকিছু গানের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনার মাধ্যমে পর্দা নামলো এবারের ফোক ফেস্টের।

সান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত লোকগানের এ উৎসব সরাসরি সম্প্রচার করে রেডিও দিনরাত ও মাছরাঙা টেলিভিশন। পঞ্চমবারের মতো আয়োজিত এ আয়োজনেন টাইটেল স্পন্সর মেরিল, পাওয়ার্ড বাই ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড, সাপোর্টেড বাই রাঁধুনী, ডিজিটাল পেমেন্ট পার্টনার ডিমানি, রেজিস্ট্রেশন পার্টনার সহজ, সিকিউরিটি পার্টনার এইজিস সিকিউরিটি ফোর্স, মেডিকেল পার্টনার স্কয়ার হসপিটালস্ লিমিটেড, হসপিটালিটি পার্টনার ফোর পয়েন্টস বাই শেরাটন, ইন্স্যুরেন্স পার্টনার গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও পিআর পার্টনার ছিলেন মিডিয়াকম।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএ/টিএএস