মাঝে মধ্যে বাবা-মাকে মেরে হাসপাতালে পাঠায় ‘নির্দয়’ আলম!

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০৭ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২৫ ১৪২৬,   ১৪ শা'বান ১৪৪১

Akash

মাঝে মধ্যে বাবা-মাকে মেরে হাসপাতালে পাঠায় ‘নির্দয়’ আলম!

শরীয়তপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:২২ ২৬ মার্চ ২০২০   আপডেট: ১৭:২৫ ২৬ মার্চ ২০২০

নির্যাতনকারী ছেলে শাহ আলম (বামে), ভুক্তভোগী বাবা হাসপাতালের বেডে (ডানে)

নির্যাতনকারী ছেলে শাহ আলম (বামে), ভুক্তভোগী বাবা হাসপাতালের বেডে (ডানে)

মাঝে মধ্যে মা-বাবাকে মেরে হাসপাতালে পাঠায় ‘নির্দয়’ ছেলে শাহ আলম বেপারী। মাদক সেবন আর জুয়ার টাকা না পেলেই জন্মদাতা বাবা ও জন্মদাত্রী মায়ের ওপর অমানবিক নির্যাতন শুরু করে সে। ছেলের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেছেন খোদ নির্যাতনের শিকার বাবা ফজলুর রহমান বেপারী ও তার স্ত্রী রাহেলা বেগম।

শাহ আলম শরীয়তপুর সদরের আড়িগাঁওয়ের বাসিন্দা।বেপরোয়া আলমকে বিচারের আওতায় আনা শুধু বাবা-মার দাবি নয়, আশপাশের প্রতিবেশীরা একই দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় ফারুক মিয়া জানান, ফজলুর রহমান বেপারীর ৪ ছেলে। এর মধ্যে শাহ আলম বেপারী সবার বড়। ছোটবেলা থেকে বেপরোয়াভাবে চলাফেরা করা শাহ আলম অনেকদিন ধরে জুয়া ও মাদক সেবনে আসক্ত। তাকে স্বাভাবিক পথে আনতে অনেক চেষ্টা করেছে পরিবার। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। জুয়া ও মাদকের টাকা না পেলে মা-বাবাকে মারধর করতে সে। পরিবারের সম্মান ও সামাজিক মর্যাদা রক্ষা করতে ছেলের নির্যাতন সহ্য করছিলেন বাবা-মা।

তিনি আরো জানান, ২০১৯ সালে ফজলুর রহমান বেপারী হজে যান। তার আগে সব সম্পত্তি সন্তানদের মধ্যে ভাগ করে দেন। কিন্তু শাহ আলম তার অংশের সম্পত্তি বিক্রি করে জুয়া ও মাদক সেবনের পেছনে খরচ করে ফেলে। তিন মাস আসে টাকার জন্য নিজের মাকে মারধর করে শাহ আলম। অন্যান্য সন্তানরা মাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

গত ২২ মার্চ বাবার কাছে টাকা চায় বখাটে আলম। টাকা দিতে অস্বীকার করায় বাবা ফজলুর রহমানকে মেরে রক্তাক্ত করে সে।পরে দ্রুত ফজলুরকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা বাবা ছেলের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছেন।

নির্যাতিত বাবা বলেন, মাদক ও জুয়ায় আসক্ত ছেলেকে কোনোভাবে স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে পারিনি। হজে যাওয়ার আগে চার ছেলে ও পাঁচ মেয়ের মাঝে সম্পত্তি ভাটোয়ারা করে দেই। শাহ আলম তার অংশ বিক্রি করে সমস্ত টাকা জুয়া ও মাদকের পিছনে খরচ করেছে। এখন টাকা না দিলে মারধর করে। গত ২২ মার্চ ৫০ হাজার টাকার জন্য আমাকে মারধর করেছে। টাকার জন্য আমার স্ত্রীকেও মারধর করেছে নির্দয় ছেলে।

প্রতিবেশী শহীদুল ইসলাম ও আবু হালেম বলেন, বাবা-মাকে মারধর করা অন্যায়। এরইমধ্যে জুয়ার টাকার জন্য বাবা-মাকে মেরেছে। এর সঠিক বিচার হওয়া উচিত।

স্থানীয় চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম জাহিদ ফকির এসব ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আহত ফজলুর রহমানকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছি। পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। পুলিশের কাছে সঠিক বিচারের সহায়তা কামনা করেছি। 

পালং মডেল থানার ওসি মো. আসলাম উদ্দিন বলেন, মাদকাসক্ত ছেলে শাহ আলমের বিরুদ্ধে তার বাবা অভিযোগ করেছেন। ঘটনার পর অভিযুক্ত পলাতক রয়েছে। তবে তাকে আটকের চেষ্টা চলছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ