Alexa মাকড়সা কথা...

ঢাকা, শুক্রবার   ২৩ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ৮ ১৪২৬,   ২১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

মাকড়সা কথা...

 প্রকাশিত: ১৩:৩৩ ৭ জুন ২০১৮   আপডেট: ১৩:৩৫ ৭ জুন ২০১৮

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

মারভেল কমিকের বিখ্যাত স্পাইডারম্যানের কথা তো আমরা সবাই জানি। যিনি আমাদের অনেকেরই প্রিয় সুপার হিরো। তার সুপারপাওয়ারের কি আর কোন তুলনা আছে! চোখের পলকে মাকড়সার মতো জাল বুনে যেকোনো পৃষ্ঠে নিজেকে আটকে রাখা, `স্পাইডার সেন্স` ব্যবহার করে চারপাশের পরিবেশ সম্পর্কে আগেভাগেই সতর্ক হয়ে যাওয়া, এসব তো আছেই। এভেঞ্জারস সিরিজের সর্বশেষ কিস্তি `ইনফিনিটি ওয়ার` এ সবাই দেখেছি, আমাদের সবার প্রিয় পিটার পার্কার মাকড়সার আট পায়ের ব্যবহারেও বেশ ওস্তাদ।

মারভেল কমিকের স্পাইডারম্যান

এতো গেলো কমিক আর হলিউডের কল্পিত মাকড়সা-মানব এর সুপার পাওয়ারের গুণগান। কিন্তু আমাদের চারপাশে ঘোরাফেরা করতে থাকা প্রকৃত মাকড়সাগুলি; যেগুলি হঠাত আমাদের গায়ে উঠে সুড়সুড়ি দিয়ে চমকে দেয় - সেগুলিরও কিন্তু সত্যিকার অর্থেই বেশ কিছু সুপার পাওয়ার রয়েছে!

মাকড়সারা পৃথিবীতে এসেছে আমাদের মানুষদের বহু বহু আগে। আজ থেকে প্রায় ৩৮ কোটি বছর আগে এই আটপেয়েরা পৃথিবীতে আসে বলে ধারণা করা হয়। মাকড়সাদের নিয়ে বহু কল্পকাহিনী আর কিংবদন্তি প্রচলিত রয়েছে শতাব্দীর শতাব্দী ধরে। একসময় ধারণা করা হতো তাদের স্বাভাবিক মৃত্যু নেই। এ কথাও বলা হতও যে, মাকড়সারা গলিত লাভার প্রায় ৩০০০ ডিগ্রি তাপও সহয় করার ক্ষমতা রাখে! কিন্তু এসবই প্রাচীন জনশ্রুতি। সত্যি বলতে বাস্তবের মাকড়সারা এসবের থেকেও বেশি ক্ষমতা বহন করে।

বাল্কীয় অ্যাম্বারে আটকে পড়া একটি সুপ্রাচীন মাকড়সা।

প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন বছর ধরে মাকড়সারা শিকারের জন্য বিভিন্ন টোপ, ফাঁদ, পয়জন, ল্যাসো ইত্যাদির ব্যবহার এবং একইসাথে উন্নতিসাধন করা শিখছে প্রতিনিয়ত। মাকড়সাদের দুইটি দল থাকে। এক দল জাল বুনে, অন্য দল শিকার করে। শিকারি মাকড়সাদের অ্যাাথলেটিক দক্ষতা অসামান্য। আর তাদের শিকারগুলোও হয় অধিকাংশ সময়য় তাদের থেকে কয়েকগুণ বড়। দক্ষিণ আমেরিকার `ট্যারেন্টুলা` জাতের মাকড়সারা পাখি শিকারে ওস্তাদ। যদিও কীটপতঙ্গই তাদের প্রধান খাদ্য তবে প্রয়োজন পড়লে বিভিন্ন ছোট পাখি ছাড়াও নানা ধরণের স্তন্যপায়ী, সরীসৃপ এবং উভচর প্রাণী শিকার করতেও ছাড়ে না।

শিকার ধরছে মাকড়সা

আরেকধরণের মাকড়সা, যাদের নাম `ড্যাডি লঙ  লেগস` ,তাদের সরু সূতার মতো পা এবং ক্ষীণ দেহের সাহায্যেই বড় বড় হাউস স্পাইডারকে ঘায়েল করে ফেলে।

ড্যাডি লঙ লেগস মাকড়সা 

জাম্পিং স্পাইডাররা তাদের দেহের দৈর্ঘ্যের তুলনায় ৫০ গুণ দূরত্বে লাফিয়ে যেতে পারে আনায়াসেই । তাদের দেহের হাইড্রোলিক পেশিগুলো এ কাজে সহায়তা করে থাকে। একবার ভাবুন তো, ৫ ফুট উচ্চতার একজন মানুষের পক্ষে কি কখনো আড়াইশ ফুট লাফানো সম্ভব? কখনোই না। তবে মাকড়সাদের `অতিমানবীয়` ক্ষমতাধর না বলে কি উপায়!

জাম্পিং স্পাইডার

কাঁকড়া মকড়সা বা ক্র্যাব স্পাইডাররা আবার ছদ্মবেশ ধরতে বেশ পটু। এরা যখন যে ফুলে বাস করে, সেই ফুলের রঙ ধারণ করে ঘাপটি মেরে ফুলের উপর শুয়ে থাকে। আর শিকার বাবাজি না বুঝেই তাঁর এ ফাঁদে পা দিয়ে নিজের মরণ ডেকে আনে।

এখন আসি সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে। মাকড়সার জাল। দেখতে কি মনে হয়? খুব পাতলা আর দুর্বল তাইনা? বাইরে থেকে দেখলে তেমনই মনে হয়, কারণ তাদের সূতাগুলো হয় খুব সূক্ষ্ম আর চিকন। কিন্তু অবাক করে দেয়ার মতো ব্যাপার হলো, সমান পুরুতবের স্টিলের রডের তুলনায় সেই সূতা পাঁচ গুণ বেশি শক্তিশালী! এও মনে করা হয় যে, একটি পেন্সিলের সমান পুরুতববিশিষ্ট মাকড়সার জাল একটি উড্ডয়মান বিমানকে থামিয়ে দিতে সক্ষম! ডারউইনের বারক স্পাইডার সবচেয়ে দীর্ঘ জাল বুনতে সক্ষম। বিশাল কোন নদীর এপার থেকে ওপার পর্যন্ত নিমিষেই জাল বিস্তার করতে পারে এইসব মাকড়সা।

মাকড়শাদের এইসব কাণ্ডকারখানা দেখে মনে হয়, তারাও মাকড়সা মানব পিটার পার্কারের চেয়ে ক৫। মাকড়সার রক্ত নীল। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, আমাদের রক্তে অক্সিজেন বহনকারী হিমোগ্লোবিনের প্রধান উপাদান হচ্ছে আয়রন। এ কারণে আমাদের রক্ত লাল। কিন্তু মাকড়সাদের ক্ষেত্রে অক্সিজেন বহনকারী কণিকাটির মূল রাসায়নিক উপাদান হলো কপার। এ কারণে তাদের রক্ত হয় নীল। মক্ষমতা সম্পন্ন নয়। তাদের নিয়ে যতই পড়াশুনা হচ্ছে ততই মানুষ আরও আশ্চর্য হয়ে যাচ্ছে।

মাকড়শাদের নিয়ে অজানা কিছু তথ্যঃ

১। এরা পৃথিবীর সব জায়গায় সমান ভাবে বিচরণ করে। এদের সংখ্যা অগণিত। আপনি এমন কোথাও যেতে পারবেন না যার ১০ ফুট দূরত্বের মধ্যে কোন মাকড়সা নেই। সেজন্য যারা মাকড়সা ভয় পান, তাঁদের চিন্তার কোন কারণ  নেই।  অধিকাংশ সময়েই এরা লোকচক্ষুর আড়ালে নিজেদের কাজকর্ম নিয়ে ব্যস্ত থাকে।

২। মাকড়সার জাল হচ্ছে মূলত তাঁদের লালা। যখন তাঁদের লালা বাতাসের সংস্পর্শে আসে ,তখন তা কঠিন রূপ ধারণ করে সূতার আকার নিয়ে  মাকড়সাকে বাসা বানাতে এবং আশ্রয় নিতে সাহায্য করে।

৩। পৃথিবীতে প্রায় ৩০ হাজার প্রজাতির মাকড়সা রয়েছে। তবে বিজ্ঞানীদের মতে, এখনও অনেক জাত আবিষ্কার হওয়া বাকি। একারণেই মাকড়সাদের আকার, আকৃতি,  অবয়বের মধ্যে এত ভিন্নতা লক্ষ করা যায়।

৪। স্ত্রী মাকড়সা পুরুষদের তলনায় অধিক চাহিদা সম্পন্ন হয়ে থাকে। নারী মাকড়শারা পুরুষদের সাথে যৌন মিলনের পর মাঝে  মাঝে পুরুষটিকেই খেয়ে ফেলে।

৫। মাকড়সার রক্ত নীল। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, আমাদের রক্তে অক্সিজেন বহনকারী হিমোগ্লোবিনের প্রধান উপাদান হচ্ছে আয়রন। এ কারণে আমাদের রক্ত লাল। কিন্তু মাকড়সাদের  ক্ষেত্রে অক্সিজেন বহনকারী কণিকাটির মূল রাসায়নিক উপাদান হলো কপার। এ কারণে তাদের রক্ত হয় নীল।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ

Best Electronics
Best Electronics