মাওলানা আবুল হাশেম
SELECT bn_content.*, bn_bas_category.*, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeInserted, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeInserted, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeUpdated, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeUpdated, bn_totalhit.TotalHit FROM bn_content INNER JOIN bn_bas_category ON bn_bas_category.CategoryID=bn_content.CategoryID INNER JOIN bn_totalhit ON bn_totalhit.ContentID=bn_content.ContentID WHERE bn_content.Deletable=1 AND bn_content.ShowContent=1 AND bn_content.ContentID=185691 LIMIT 1

ঢাকা, শনিবার   ০৮ আগস্ট ২০২০,   শ্রাবণ ২৪ ১৪২৭,   ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

গল্প

মাওলানা আবুল হাশেম

মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:৪৩ ৪ জুন ২০২০   আপডেট: ১৮:৪৪ ৪ জুন ২০২০

অলঙ্করণ: মিজান স্বপন

অলঙ্করণ: মিজান স্বপন

পাখিদেরও ঘুম থেকে জেগে ওঠার পূর্বে আমাদের ঘুম থেকে জাগিয়ে দেন মাওলানা আবুল হাশেম। সুবহে সাদিকেরও পূর্বে নিজে ঘুম থেকে জাগেন। ওযু শেষ করেন। তাহাজ্জুদের নামাজ পড়েন। অতঃপর আমাদের বাড়ির কাছারি ঘর থেকে রওয়ানা দেন স্কুল মসজিদের পানে। এই কাছারিঘরেই তিনি রাত্রিযাপন করেন। আমাদের বাড়ি থেকে মসজিদের দূরত্ব ৬০০ গজ।  

তার যাওয়ার পথটা নির্ধারিত। অর্থাৎ আমরা ঘুমের ভেতরেই বুঝতে পারি তিনি তার যাত্রাপথের কোন বিন্দু কখন অতিক্রম করছেন। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত। প্রথমে তিনি অতিক্রম করেন আমাদের সদর বাড়ির উঠোন। তারপর আমাদের পাশের বাড়ির মজিবর ভাইদের উঠোনের উপর দিয়ে সোজা দক্ষিণে চলে যান। গ্রামের প্রধাণ রাস্তার উপরে। এই রাস্তার দক্ষিণে জুয়েলদের বাড়ি। এই বাড়ির উঠোন অতিক্রম করে বিশাল অরণ্যের মতো একটা জঙ্গল অতিক্রম করে তিনি পরামানিকদের বাড়ির দক্ষিণ উঠোনে পদার্পন করেন। এটা একটা বিশাল বাড়ি। অন্তত ২৫টা পরিবার বসবাস করে এই বাড়িতে। এই বাড়ি পেরিয়ে ঝাড় কাটা স্কুল মাঠের দক্ষিণ পশ্চিমাংশ অতিক্রম করলেই ঝাড়কাটা বাজার। পুরো বাজারে ১০ থেকে ১২টা মাত্র দোকান। পার্শ্ববর্তী তেঘরিয়া বাজারের সাথে প্রতিযোগিতা করে এই বাজারের সৃষ্টি। ঝাড়কাটা বাজারের ঠিক পূর্বদিকে ঝাড়কাটা স্কুল মসজিদ। এই মসজিদের ইমাম তিনি। মুয়াজ্জিনও।  

‘আপনারা সবাই ঘুম থেকে ওঠেন। ফজর নামাজের ওয়াক্ত হয়ে যাচ্ছে।’ পুরো পথেই তার সুরেলা আওয়াজের ধ্বনি-প্রতিধ্বনি। এই এলাকায় তখনো এলার্ম ক্লকের প্রচলন হয়নি। হাতে গোণা কয়েকজনকে মাত্র হাতঘড়ি পরতে দেখা যায়। অতঃপর তার সুমধুর কণ্ঠে শোনা যায় আজানের ধ্বনি। আমাদের সবার পিতামাতারা এই সময়ে আমাদেরকে বাধ্য করেন  ঘুম থেকে জেগে উঠে জামাতের সঙ্গে নামাজ পড়ার জন্য মসজিদে গমন করতে। 

প্রতিবছর রমজান মাস। ঘুম জড়িত চোখে সদ্য সেহরি সম্পন্ন করেছি। আবার ঘুমের অতলে তলিয়ে যাচ্ছি। এমন সময়ে যেন স্বপ্নের ভেতরে মাওলানা হাশেমের ডাক, ‘সেহরির সময় শেষ। সবাই ওঠেন, ওযু করেন। ফজর নামাজের জামাতের সময় হয়ে আসছে।’

তিনি একজন পূর্ণবয়স্ক যুবক। বয়োজ্যেষ্ঠরা তাকে ডাকেন ‘হুজুর’ বলে। আমরা ছোটরা তাকে ডাকি ‘স্যার’ বলে। ঝাড়কাটা স্কুলের ফুটবল মাঠের পশ্চিমে অ্যাসবেস্টস এর ছাদ দিয়ে তৈরি আয়তক্ষেত্রাকার মসজিদ। ভেতরে চটের জায়নামাজ। বাংলার সোনালী আঁশ দিয়ে তৈরি। ভেতরে  কাঁঠাল কাঠের তৈরি মিম্বর। এই মিম্বরে বসে তিনি জুমার নামাজের খুতবা পাঠ করেন। জুম্মার নামাজসহ প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্তের নামাজ পড়ান তিনি।  

প্রতি ওয়াক্তের নামাজে মুয়াজ্জিন ও ইমাম তিনি একাই। এর বাইরে আর একটা দায়িত্ব পালন করেন তিনি। প্রবল মনোযোগ সহকারে। সে কারণেই তাকে স্যার বলে ডাকি আমরা। দায়িত্বটা আমাদের বাড়ি, জুয়েলদের বাড়ি এবং পরামানিকদের বাড়ির সকল শিশু এবং কিশোর-কিশোরীদের কুরআন শিক্ষা দেয়া। প্রতিদিন ফজর নামাজের পর আমরা জনা পঞ্চাশেক শিশু-কিশোর-কিশোরীরা ‘কায়দা’, ‘আমপারা’ এবং ‘কুরআন শরীফ’ পড়া শিখি। মাওলানা আবুল হাশেমের কাছে। 

মসজিদের ভেতরে উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত চট। এটাই  জায়নামাজ। পাঁচ অথবা ছয় সারি। এর ওপরে তিনি আমাদের এক বা দুই কাতারে দাঁড় করিয়ে দেন। সকালের  সূর্যের নরম আলোর ভেতরে আমরা উচ্চস্বরে সুর করে নামাজ পড়া শিখি। হাতে-কলমে। ৫ ওয়াক্তের নামাজ। ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব এবং এশা’র নামাজ। জায়নামাজে দাঁড়িয়ে  কী দোয়া পড়তে হয়? কিভাবে নামাজের নিয়ত করতে হয়? নামাজে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় ডান হাতের কব্জি এবং আঙুলগুলো বাম হাতের কব্জি ও আঙুলের ওপরে কিভাবে বিস্তৃত হবে? রুকুর সময়ে দৃষ্টি কোথায় নিবদ্ধ থাকবে? আত্তাহিয়াতু পড়ার সময়ে ডান হাতের তর্জনী কোন মহার্ঘ মুহূর্তে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঊর্ধ্বগামী হয়ে আল্লাহর একত্ববাদকে নির্দেশ করবে?– সবকিছুই আমাদের নখদর্পণে। সম্পূর্ণ আত্মস্থ। সারা জীবনেও আমরা ভুলবো না।

তার নেতৃত্বে আমরা ফাজিলপুর, ঘুঘুমারি গ্রামে গ্রীষ্ম কালের অনাবৃষ্টির সময়ে ‘জালালি খতম’ দিয়ে আসি। একদল ছেলেমেয়ে। আমাদের প্রার্থনার কারণেই শুষ্ক, নিষ্ফলা পৃথিবীতে বৃষ্টির ধারাপাত নেমে আসে। 

দীর্ঘ অনুশীলনের পর আমাদের কেউ ‘কায়দা’ ছেড়ে ‘আম-পারা’ ধরে। ‘আম্-পারা থেকে কুরআন শরীফে উত্তীর্ণ হয়। অথবা কুরআন শরীফ খতম দিতে সক্ষম হয়। সেই দিন গুলো আমাদের সবার জন্যে ঈদ-উল–ফিতরের মতন আনন্দের দিন। স্যার, মসজিদের পাশের দোকান থেকে দুই কেজি ওজনের আখের গুঁড় কিনে আনেন। বেশির ভাগ সময়েই নিজের টাকায়। নিজহাতে ভেঙে আমাদের সবার ভেতরে সমান করে ভাগ করে দেন। মিষ্টি মুখ করান। অবস্থাপন্ন ঘরের সন্তানদের অব্যবহিত পূর্বের দিনেই বলে দেন মিষ্টি ধরণের খাবার নিয়ে আসতে।

স্যারের বাড়ি নোয়াখালী জেলার মাইজদিতে। কবে কখন তিনি আমাদের এই মসজিদের ইমাম হয়ে এসেছিলেন তা আমরা জানি না। চাইনিজদের মতো  শ্মশ্রুমণ্ডিত এই যুবক কখন থেকে আমাদের এলাকার একজন হয়ে গেছেন তা হয়ত তিনিও ভুলে গেছেন। বুদ্ধিলগ্নের পর থেকে আমি তাকে চিনি। শুধু জানি তিনি আমাদের পরম নিকটজন এবং আমাদের গুরু। 

মাওলানা আবুল হাশেমকে নির্দিষ্ট পরিমাণের কোনো বেতন দেয়া হয় না। মসজিদের পাশের ৩ টি বাড়ির প্রায় ৫০ টা পরিবারের সদস্যেরাই তার পিছনে নামাজ পড়ে। এই জীর্ণ লোকালয়ের মানুষদের বেতন দিয়ে ইমাম রাখার যোগ্যতা নেই। প্রতি সপ্তাহের শুক্রবার সকাল। আমরা জনা পঁচিশ শিশু-কিশোর বাঁশের তৈরি ঝাঁকা নিয়ে ভিক্ষুকদের মত এই তিন বাড়ির ঘরে ঘরে গমন করি। বিগত শুক্রবারের পর সাতদিন যাবত এই পরিবারগুলো প্রতিবেলার খাবার রান্না করার চাল থেকে এক মুঠো করে চাল জমিয়েছে। এই চালগুলোই মাওলানা আবুল হাশেমের বেতন। তিনি এতেই মহাখুশি! 

আমাদের কাছারিঘরে বাস করেন। আহারের জন্যে প্রতিমাসে নতুন একটা পরিবারে জায়গীর বা লজিং থাকেন। যখন অপেক্ষাকৃত সচ্ছল ঘরে লজিং থাকেন, তখন ভালো খাবার পান। যখন গরীবের ঘরে থাকেন, তখন শাক-ভর্তা খেয়ে দিন যাপন করেন। দুই-এক বেলা হয়তো অভুক্তও থাকেন। এটা নিয়ে তার কখনোই অভিযোগ নাই। আমার মনে আছে ১৯৭৪ সনের দুর্ভিক্ষের সময়ে একমাস অথবা দুইমাস তিনি আমাদের পরিবারে লজিং ছিলেন। প্রায় পরিবারেই তখন খাবারের অভাব। একদিন রাতে তিনি আমার দাদাকে বললেন, ‘দাদা, আমাদেরও মনে হয় অন্তত এক বেলা না খেয়ে থাকা উচিত। অন্যেরা তো এখন খাবারই পাচ্ছেনা।’ আমার দাদাকে তিনিও দাদা বলে ডাকেন। 

বেতনের চাল বিক্রির টাকায় মসজিদের পাশেই তিনি ছোট্ট একটা দোকান দিয়েছেন। দুই নামাজের মধ্যবর্তী সময়ে সাবান, বিস্কুট আর নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি বিক্রি করে থাকেন। আমি বা তার ছাত্রছাত্রীদের কেউ তার দোকানে গেলেই তিনি চকলেট দেন। নিদেনপক্ষে বিস্কুট খেতে দেন। আমার প্রায়ই মনে হয়েছে দোকানটা আদৌ তার উপার্জনের উৎস নয়। বিভিন্ন ওয়াক্তের নামাজের মধ্যবর্তী সময়টাকে আনন্দঘন পার করার অভিনব পন্থা। বাংলা নববর্ষে তিনি দোকানের ‘হালখাতা’ করেন। আমরা যারা তার ছাত্র, তাদের জন্যে এটা মহা আনন্দের সময়। হাশেম স্যার নিজ হাতে রসগোল্লা তৈরি করেন। পরম যত্নের সঙ্গে আমাদেরকে খাওয়ান। তার ক্রেতাদের সবাইকে খাওয়ান। এ যেন সারা বছর অন্যদের ঘরে আহারের বিপরীতে তার নিঃশব্দ প্রতিদান!

আমি প্রাইমারি স্কুলে পড়ি। একবার কুরবানির ঈদের সময়ে তিনি ছুটিতে বাড়িতে গেলেন। ফিরে এসে আমাদের জানালেন বিয়ে করেছেন। আমরা মহা খুশী। তার নববিবাহিতা স্ত্রী মাইজদি থেকে তাকে চিঠি লেখেন। প্রতি সপ্তাহে একটা। হলুদ পোস্টকার্ডে লেখা। আমিই তাকে এনে দেই। আমাকে তিনি তার সব চিঠিই পড়তে দেন। সবগুলোই প্রেমময় চিঠি। ‘পরসমাচার এই যে...’! নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষায় লেখা। পড়ে হাসতে হাসতে মরে যাই। জল বা পানিকে লিখেছে ‘হানি’! 

এক বছর পরের কথা। স্যারের পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করেছে। স্যার ছুটি থেকে ফিরে আসলেন। কিছুদিন পর স্ত্রীর চিঠি এল। স্যার তার সকল চিঠিই আমাদেরকে পড়ে শোনান। তার স্ত্রী লিখেছেন যে, নতুন শিশুকে নিয়ে তাদের বাড়িতে আনন্দের শেষ নেই। আরো লিখলেন, ‘বাতেনে বাত হানি বন্ধ কইরা পুইয়ার পাশে বইয়া থাহে!’ স্যার জানালেন বাতেন তার ছোট ভাই। আব্দুল বাতেন। ভাতিজাকে নিয়ে সে এতই আনন্দিত যে ভাত, পানি খাওয়া পর্যন্ত বন্ধ করে দিয়েছে! আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘স্যার, বাতেনের বয়স কত?’ তিনি বললেন, ‘তোমার বয়সী’। আমি বুঝতে পারলাম এলাকার বর্ষীয়ান মানুষদের বাদ দিয়ে আমাদের মতন শিশুদের সঙ্গে উনার সখ্যতা কেন এত বেশি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সেই ‘কাবুলিওয়ালা’ গল্পের রহমতের মতো। মিনির সঙ্গে তার প্রবল সখ্যতা ছিল একারণে যে, মিনির মত একটা মেয়েকে ছেড়ে সে জীবিকার প্রয়োজনে এই বিদেশ বিভূঁইতে আসতে বাধ্য হয়েছিল।

১৯৭৮ সাল। পূর্বের বছরে আমি মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজে ভর্তি হয়ে চলে গেছি। ক্লাস এইটে পড়ি। ক্যাডেট কলেজ থেকে টার্ম শেষের ছুটিতে এসেছি। মসজিদ এলাকায় নতুন বিল্ডিং হয়েছে। মাটির মেঝে প্রতিস্থাপিত হয়েছে সিমেন্টের মোজাইক করা মেঝে দিয়ে। এসবেস্টের তৈরি ছাদ প্রতিস্থাপিত হয়েছে নান্দনিক গম্বুজ দ্বারা। পার্শ্ববর্তী স্কুল প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হবার কারণে মসজিদের এই উন্নয়ন ও পরিবর্তন। কিন্তু মসজিদে হাশেম স্যার নেই। মসজিদের কোথাও! 

শুক্রবারে জুমার নামাজ পড়তে গিয়ে দেখি মোজাইকের তৈরি মিম্বরে বসে আছেন কঠিন দৃষ্টির অধিকারী বর্ষীয়ান মাওলানা। পেট পর্যন্ত লম্বিত দীর্ঘ শ্মশ্রুর অধিকারী। দেখলেই পিলে চমকে যায়। পাশের বাড়ির এক ছেলেকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘হাশেম স্যার কই?’ সে বলল, ‘চলে গেছেন। জোড়খালিতে একটা মাদ্রাসায় চাকরি নিয়েছেন’। 

জোড়খালি মাত্র ৪ মাইল দূরে। বাইসাইকেল চালিয়ে পরের দিন সকালেই হাশেম স্যারের কাছে। এই বাইসাইকেলটা আমি প্রাইমারি স্কুলের বৃত্তির টাকা দিয়ে কিনেছিলাম। আমার জীবনের প্রথম যানবাহন। হাশেম স্যার একটা ছোট্ট মাদরাসার ভেতরে শিশুদেরকে পড়াচ্ছেন। আমাকে দেখে দেখে ভীষণ খুশি। আমার মাথায় হাত রেখে  আদর করলেন।সবার কথা জিজ্ঞেস করলেন। 

আমি স্যারকে বললাম, ‘স্যার, আপনি চলে এলেন কেন?’ স্যার বললেন, ‘মসজিদটা স্কুলের হয়ে যাওয়াতে স্কুল কর্তৃপক্ষ মাসিক বেতনের ভিত্তিতে নতুন ইমাম নিয়োগ দিয়েছে। বালিজুরি এলাকা থেকে আগমন করা একজন বর্ষীয়ান ও নামী ইমাম। শুধু জুমার নামাজ পড়িয়ে চলে যান। যদিও ঝাড় কাটা এলাকার যুবক এবং কিশোররা, বিশেষ করে স্কুলের ছাত্ররা আমাকেই ইমাম হিসেবে  রাখতে চেয়েছিল। কিন্তু স্কুল কমিটির বয়স্ক সদস্যেদের পছন্দ বয়স্ক নতুন ইমামকে। ফলে ছাত্রদের  কথা কেউ শুনেনি। আমিও অনুরোধ করিনি’। 

আমার মনে পড়ে গেলো গ্রীক দার্শনিক সক্রেটিস এবং তার শিষ্যদের কথা। যুগে যুগে শুধু অন্যায়ের পুনরাবৃত্তিই হয়। মাত্রা কম আর বেশি! 

‘সক্রেটিস তার শিশুপুত্র মিনেজেনাস কে বললেন, ‘তুমি গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ো।’ তারপর স্বাভাবিক হাসিখুশি এবং শান্ত সক্রেটিস। তাকে ঘিরে উপবিষ্ট  ভক্ত শিষ্যরা। সবাই যুবক। মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই তার  মৃত্যুর দৃশ্য মঞ্চায়িত হবে। শিষ্যরা সকলেই হতাশা এবং আসন্ন বিচ্ছেদের বেদনায় আচ্ছন্ন। অন্যদিকে  সক্রেটিস ব্যস্ত তার মৃত্যুর পরের পোশাক গোছানো নিয়ে। নিজে  পরে  নিচ্ছেন অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার পোশাক। কারণ তিনি চান না যে, মৃত্যুর পর কেউ তার গায়ে হাত দিক।’

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর