মহামারি মোকাবিলায় আফ্রিকানদের অস্ত্র আগুন আর সামাজিক দূরত্ব!

ঢাকা, বুধবার   ১৫ জুলাই ২০২০,   আষাঢ় ৩১ ১৪২৭,   ২৩ জ্বিলকদ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

মহামারি মোকাবিলায় আফ্রিকানদের অস্ত্র আগুন আর সামাজিক দূরত্ব!

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:১৮ ২৭ মে ২০২০   আপডেট: ১২:৪৪ ২৭ মে ২০২০

ছবি: প্রতীকী

ছবি: প্রতীকী

বিশ্বের ইতিহাস থেকে জানা যায়, একটি নির্দিষ্ট সময় অন্তর মহামারি দেখা দিয়েছে। যেসব মহামারির প্রভাবে মানব সমাজ নাটকীয়ভাবে পরিবর্তীত হয়েছে। এই সব মহামারির মধ্যে অন্যতম ১৩৪৭ থেকে ১৩৫১ সাল পর্যন্ত স্থায়ী ব্লাক ডেথ, ১৯১৮ সালের স্প্যানিশ ফ্লু, কুষ্ঠরোগ, গুটিবসন্ত প্রভৃতি। 

বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে কোভিড-১৯ মহামারি। প্রত্নতত্ত্ববিদরা অতীতের রোগব্যাধি এবং মহামারি নিয়ে দীর্ঘকাল গবেষণা করে আসছেন। এ বিষয়ে গবেষণা করার জন্য তারা বেশ কিছু পরীক্ষা করেছেন। প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক সাইট, সমাধিস্থল এবং মানব কঙ্কাল গবেষকদের কাছে মূল প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। 

প্রত্নতত্ত্ববিদরা এ বিষয়ে যথেষ্ট সফলও হয়েছেন। তদের কল্যাণেই আমরা প্রাচীনকালের মহামারিগুলোর ক্ষতিকারক প্রভাব সম্পর্কে জানতে পারি। প্রাচীন আফ্রিকার মহামারি সম্পর্কেও অনেক কিছু জানা যায়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ১৪ শতকের শুরুর দিকে মহামারির কারণে ঘানার আক্রার একটি জনবসতি পরিত্যক্ত হয়েছিল। 

করোনা টেস্ট করা হচ্ছে আফ্রিকান নারীরপ্রত্নতত্ত্ববিদরা দক্ষিণ আফ্রিকার লিম্পোপো উপত্যকার বর্তমান ম্যাপুংউবুয়ে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের পরিত্যক্ত একটি অঞ্চলে সমাধিস্থল আবিষ্কার করেছেন। যেখানে ৭৬ জন শিশুর সমাধি আছে। এক হাজার খ্রিষ্টাব্দে এই অঞ্চলে একটি ভয়াবহ মহামারি দেখা দিয়েছিল। ফলে প্রাপ্ত বয়স্ক জনগণের সঙ্গে অসংখ্য শিশুও মৃত্যুবরণ করে। 

কীভাবে প্রাচীন আফ্রিকান সমাজগুলো মহামারি মোকাবিলা করত সে বিষয়টিও প্রত্নতত্ত্ববিদদের গবেষণা থেকে জানা যায়। প্রাচীন আফ্রিকানরা জীবাণুনাশক হিসেবে ব্যবহার করত আগুন। অর্থাৎ আক্রান্ত বসতি জ্বালিয়ে দিয়ে নতুন জায়গায় বসতি স্থাপন করত। তারা সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করত। গবেষকরা জিম্বাবুয়ের একটি প্রাচীন জনবসতি থেকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার প্রমাণ পেয়েছেন। 

সেখানে মহামারিতে আক্রান্ত মৃত দেহ স্পর্শ করা নিষিদ্ধ ছিল, যাতে সংক্রামণ ছড়িয়ে না পড়ে। ১৯৬০ এর দশকের শেষ দিকে দক্ষিণ আফ্রিকার ফালাবোরার একটি ১৩ শতকের প্রত্নতাত্ত্বিক সাইট খনন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। সাইটটি একটি সমাধিস্থল ছিল। পরে অনেকেই খনন কাজ চালিয়ে যেতে অস্বীকার করেছিলেন। 

সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখছে আফ্রিকানরাতাদের উদ্বেগের মূল কারণ ছিল, এই সমাধিস্থলে একটি মহামারির প্রাদুর্ভাবে মৃত্যুবরণ করা ব্যক্তিদের সমাহিত করা হয়েছিল। বর্তমান সময়ে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া কোভিড-১৯ মহামারি থেকে রক্ষা পেতে বারবার সামাজিক দূরত্ব এবং বিচ্ছিন্নতার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা থেকে জানা যায়, ঐতিহাসিক আফ্রিকান সমাজগুলো মহামারির প্রাদুর্ভাব থেকে রক্ষা পেতে এই দুটি অভ্যাস গুরুত্ব সহকারে চর্চা করত। 

বর্তমান জিম্বাবুয়ের শোনা নৃগোষ্ঠীর জনগণ ১৭ এবং ১৮ শতকে ছড়িয়ে পড়া কুষ্ঠরোগ থেকে বাঁচতে আক্রান্তদের জনবসতি থেকে দূরে রাখার ব্যবস্থা করত। যাতে সমাজের অন্যান্যদের থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে পারে। এমনো প্রমাণ আছে, সংক্রামণ থেকে রক্ষা পেতে কাছাকাছি স্থানে একটি থেকে দুটি পরিবার বসবাস করত। আর মহামারিতে আক্রান্ত মৃত ব্যক্তিদের লাশ অনেক সময় পুড়িয়ে দেয়া হত।

মহামারির প্রদুর্ভাব শেষ হয়ে যাওয়ার পর প্রাচীন আফ্রিকান সমাজের জনগণ বসতির স্থান পরিবর্তন করত। গবেষকরা দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাপুংউবুয়ে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট থেকে প্রাচীন আফ্রিকান সমাজগুলোর মহামারি মোকাবিলা করার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল সামনে এনেছেন। 

আফ্রিকায় এমন অনেক গণকবরের নিদর্শন পেয়েছেন প্রত্নতত্ত্ববিদরাএই অঞ্চলে খ্রিষ্টীয় এক হাজার শতাব্দীর দিকে একটি উন্নত জনপদ গড়ে উঠেছিল। তারা ফসল উৎপাদন, গবাদি পশু পালন, শিকার, ধাতু বিদ্যা এবং বন থেকে খাদ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে বেশ সমৃদ্ধ ছিল। গবেষকরা এই অঞ্চলের প্রাচীন সমাধিস্থলে মোট ৯৪টি সমাধির সন্ধান পেয়েছেন। যার মধ্যে ৭৬টি শূন্য থেকে চার বছর বয়সের শিশুর কবর ছিল।

একটি মহামারির প্রাদুর্ভাবে এই অঞ্চলের প্রায় পাঁচ শতাংশ জনগণ মৃত্যুবরণ করেছিল। প্রত্নতত্ত্ববিদরা অনুধাবন করতে পেরেছেন, মহামারি ছড়িয়ে পড়ার পর এই অঞ্চলের জনগণ অন্যত্র বসতি স্থাপন করেছিল। মহামারি মোকাবিলা করতে আফ্রিকার অন্যান্য অঞ্চল থেকেও প্রাচীন জনবসতি স্থানান্তরের প্রমাণ আছে।

১৪ শতকের ব্লাক ডেথ মহামারি থেকে রক্ষা পেতে ঘানার আক্রা থেকে একটি বৃহৎ বসতি স্থানান্তরিত হয়েছিল। বেশিরভাগ সময়ই পুরাতন বসতির স্থান তারা পুড়িয়ে দিত। ফলে মহামারি বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব কমে যেত। 

সূত্র: অ্যানসাইন্টঅরিজিন

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস