ঢাকা, শনিবার   ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯,   ফাল্গুন ৩ ১৪২৫,   ১০ জমাদিউস সানি ১৪৪০

মহাদেবপুরে দোল খাচ্ছে চিনি আতপের সোনালী শীষ

মহাদেবপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ১১:৩১ ৮ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১২:২০ ৮ ডিসেম্বর ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে চিনি আতপ ধানের সোনালী শীষ বাতাসে দোল খাচ্ছে। দৃষ্টিসীমা ছাপিয়ে চারদিকে বিরাজ করছে অপার দুলুনি। আর এ দোলায় লুকিয়ে আছে হাজারো কৃষকের রঙিন স্বপ্ন। পোকামাকড় ও বিভিন্ন ধরনের রোগ-বালাইয়ের আক্রমণ ছাড়াই বেড়ে ওঠা সোনালী ধানের শীষে ভরে গেছে মাঠ। দিগন্তজোড়া সোনালী ফসলের মাঠ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে আরো বিকশিত করে তুলেছে। 

উপজেলার হাজারো কৃষক পরিবারের চোখে মুখে এখন স্বপ্ন পূরনের প্রত্যাশা। প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা কোন বিপর্যয় না ঘটলে কৃষকদের বাড়ির আঙিনা ভড়ে উঠবে সোনালী ধানের হাসিতে। এমন আশায় দিন গুনছে কৃষকরা। 

চলতি মৌসুমে ১০টি ইউপিতে ৮ হাজার ৪শ’ হেক্টর জমিতে চিনি আতপ  আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর। আবাদ হয়েছে ৯ হাজার ৬শ’ হেক্টর জমিতে যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ২শ’ হেক্টর বেশি। 

উপজেলার ১৬ টি অটো রাইস মিলে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার মেট্রিক টন আতপ চাল উৎপাদন হয়। যা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকা, রাজশাহী, পাবনা, রংপুর, যশোর, কুমিল্লা, সিলেট, কক্সবাজার,চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়। বিভিন্ন উৎসব অনুষ্ঠান ছাড়াও বিয়ে-জন্মদিনসহ নানা সামাজিক অনুষ্ঠানে অতিথি আপ্যায়নে চিনি আতপ চালের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। দেশের চাহিদা মিটিয়ে এর সিংহভাগ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোসহ আমেরিকাতেও রফতানি হচ্ছে। এতে  কৃষির বৈপ্লবিক পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। 

উপজেলার ধর্মপুর গ্রামের কৃষক মফিজুল ইসলাম বলেন- ধান গতবারের চেয়ে এবার ভাল হয়েছে। কয়েকদিন পর কাটা শুরু করা যাবে। যদি কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না আসে তবে এবার চিনি আতপ  ধানের বাম্পার ফলন হবে। 

উপজেলার তাতারপুর গ্রামের কৃষক মারুফ সরদার বলেন, বীজ তলা থেকে শুরু করে ধান কাটা পর্যন্ত বিঘা প্রতি খরচ হবে ৬-৭ হাজার টাকা। এবার ভাল ফলন পাওয়া যাবে, বিঘা প্রতি প্রায় ১৭ মণ পর্যন্ত। বর্তমান বাজার মূল্যে প্রতি মণ বিক্রি হবে ১৩’শ থেকে ১৪’শ টাকা। বিঘা প্রতি প্রায় লাভ হবে ১৫-১৬ হাজার টাকা। 

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জাহাঙ্গীর আলম প্রামাণিক বলেন, প্রকৃতি চলতি মৌসুমে চিনি আতপ ধান চাষের অনুকূলে রয়েছে। এখন পর্যন্ত ক্ষেতে রোগ-বালাইয়ের প্রকোপ নেই। তাই আশা করি বিগত মৌসুমের মত এবারো বাম্পার ফলন হবে। এতে কৃষকরা অনেকটা লাভবান হবেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম