Exim Bank Ltd.
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ৫ আশ্বিন ১৪২৫

মহাজোটের আধিপত্য

ফাতিন ইশরাক নিয়ন, রাজশাহীডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
মহাজোটের আধিপত্য
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

একসময়ে রাজশাহী সদর ছিল বিএনপির দখলে। ২০০৮ সালে মহাজোট (১৪ দল) থেকে (রাজশাহী-২) আসনটি পায় ওয়ার্কার্স পার্টি। এবার এ আসনটিতে দলীয় প্রার্থী চায় আওয়ামী লীগ। তবে সেই আসা ক্ষীণ।

২০০৮ সালে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলের বিরোধীতা করে মেয়র পদে নির্বাচন করেন এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। ফলে সদর আসনটিতে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দেয় জোটের শরীক ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশাকে। এরপর থেকে সদর আসনটি তাদের হাতেই রয়েছে। তবে জোটের মনোনয়নে আসনটি দখলে নিলেও এখন আওয়ামী লীগের সঙ্গে ওয়ার্কার্স পার্টির চলছে শীতল সম্পর্ক।

আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বলছেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ এ আসনটিতে দলীয় প্রার্থী দিতে হবে। এ কারণে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা মনোনয়ন পাওয়ার জন্যে এরইমধ্যে দলীয় লবিং শুরু করেছেন। তবে ফজলে হোসেন বাদশার বিকল্প প্রার্থী হতে পারেন, এমন নেতারা কেউই মনোনয়ন পেতে মাঠে নেই।

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট থেকে ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা মনোনয়ন পান। এরপর দুই বার এমপি হন তিনি।

আগামী নির্বাচনেও ফজলে হোসেন বাদশার মনোনয়ন অনেকটাই নিশ্চিত বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে মনোনয়ন প্রশ্নে তিনি আওয়ামী লীগের কিছু নেতা-কর্মীর বিরোধীতার মুখে পড়েছেন। মহানগর আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা এ আসনটিতে দলীয় প্রার্থীর মনোনয়ন দাবি করছেন।

রাজশাহী সার্কিট হাউসে গত ৫ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমামের উপস্থিতিতে দলের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপক আবদুল খালেক, মহানগর সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, জেলার সহসভাপতি অনিল কুমার সরকার ও মকবুল হোসেন দলীয় প্রার্থীর মনোনয়ন চান। এরপর থেকে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা দলীয় প্রার্থীর ব্যাপারে সোচ্চার।

নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার বলেন, দলের প্রার্থীতা দাবি করা দোষের কিছু নয়। দলের নেতা হিসেবে তিনিসহ আরো কয়েকজন সদরে প্রার্থীতা চেয়েছেন। তবে কেন্দ্র যেভাবে সিদ্ধান্ত নেবে, তারা সেভাবেই কাজ করবেন।

আওয়ামী লীগের এই অবস্থানের কারণে কিছুটা ক্ষুব্ধ ফজলে হোসেন বাদশা এমপি। এ নিয়ে এখন দূরত্ব বেড়েছে সদর আসনের ফজলে হোসেন বাদশা ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি লিটনের মধ্যে। বাদশা-লিটনের শীতল সম্পর্ক গত সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর থেকে। আগে এক সঙ্গে বহু অনুষ্ঠানে গেলেও, এখন কেউ কারো সঙ্গে যান না। নগর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে বাদশার ঘনঘন যাতায়াত ছিল। এখন ওই পথে গেলেও তিনি আর আওয়ামী লীগ অফিসে যান না।

মন্ত্রণালয়ের চিঠি গোপন রেখে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সভাপতির দায়িত্ব পালন, নগরীর বিভিন্ন দফতরে আওয়ামী লীগ নেতাদের তৎপরতায় ক্ষুব্ধ এমপি বাদশা। এছাড়া নগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ কয়েকজন নেতা প্রকাশ্যে তার বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখায় এ দুই নেতার মধ্যে দূরত্ব বেড়েছে।

এছাড়াও ঠিকাদারী কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ, বিভিন্ন স্কুল-কলেজে নিজের পছন্দের লোক বসানো, টিআর, কাবিখা ও সরকারি বরাদ্দ বিতরণ নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে বাদশার বিরোধের অন্যতম কারণ। এ সব ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের বঞ্চিত করা হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।

এদিকে নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে কেন্দ্র থেকে সিটি মেয়র নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে বলে জানা গেছে।

লিটনের সঙ্গে দূরত্বের কথা সরাসরি স্বীকার না করলেও ফজলে হোসেন বাদশা বলেন,কিছু বিষয় নিয়ে মতভেদ আছে। আমার বিরুদ্ধে যারা অবস্থান নিয়েছেন, তাদের ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য আছে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির মধ্যে তারা ভাঙন ধরাতে চান।

বাদশা বলেন, লিটনের সঙ্গে আমার দূরত্বের কথা ঠিক নয়। সিটি নির্বাচনে লিটন পক্ষে মাঠে নামার জন্য এরইইমধ্যে আমাদের দলের নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। লিটনের বিজয় নিশ্চিত করতে যা করা প্রয়োজন তা করা হবে।

এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, বাদশা ভাইয়ের সঙ্গে আমার কোনো দ্বন্দ্ব বা দূরত্ব নেই। তবে তিনি নিজেই আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় দলের নেতাদের নিয়ে কথা বলেছিলেন। এ নিয়ে মান-অভিমান থাকতে পারে।

তবে আমরা শিগগিরই তার সঙ্গে বসে এসব বিষয়ে কথা বলে সমাধান করবো।

রাজশাহী সদরে জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামীর দৃশ্যত তেমন কোনো কর্মকাণ্ড নেই।সিপিবি, জাসদসহ অন্যান্য কয়েকটি দলের অস্তিত্ব থাকলেও তারা খুব একটা সক্রিয় নয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/আজ/আরআর

আরোও পড়ুন
সর্বাধিক পঠিত
শিস দিয়েই দুই বাংলার তারকা জামালপুরের অবন্তী
শিস দিয়েই দুই বাংলার তারকা জামালপুরের অবন্তী
সুজির মালাই পিঠা
সুজির মালাই পিঠা
অবন্তী সিঁথির জয়জয়কার
অবন্তী সিঁথির জয়জয়কার
আশুরার রোজা: নিয়ম ও ফজিলত
আশুরার রোজা: নিয়ম ও ফজিলত
তরুণীদের বেডরুমে নেয়ার পর হত্যা করাই কাজ
তরুণীদের বেডরুমে নেয়ার পর হত্যা করাই কাজ
যদি তুমি রুখে দাঁড়াও তবেই তুমি বাংলাদেশ!
যদি তুমি রুখে দাঁড়াও তবেই তুমি বাংলাদেশ!
যৌনতায় ঠাসা ৫টি সিনেমা
যৌনতায় ঠাসা ৫টি সিনেমা
‘তারেকের তিন গাড়ি, আমার বোন চলে বাসে’
‘তারেকের তিন গাড়ি, আমার বোন চলে বাসে’
শচীনের সঙ্গে অভিনেত্রীর ‘গোপন’ সম্পর্ক!
শচীনের সঙ্গে অভিনেত্রীর ‘গোপন’ সম্পর্ক!
বিয়ে ছাড়াই মা হলেন জিৎ-এর প্রেমিকা!
বিয়ে ছাড়াই মা হলেন জিৎ-এর প্রেমিকা!
নিককে প্রকাশ্যে চুমু খেলেন প্রিয়াঙ্কা
নিককে প্রকাশ্যে চুমু খেলেন প্রিয়াঙ্কা
ন্যান্সি ও তার স্বামীকে গ্রেফতারের দাবি
ন্যান্সি ও তার স্বামীকে গ্রেফতারের দাবি
সূরা বাকারার শেষ অংশের ফজিলত
সূরা বাকারার শেষ অংশের ফজিলত
বিবাহিতা বা সন্তানের মা হলে ১০ লাখ জরিমানা!
বিবাহিতা বা সন্তানের মা হলে ১০ লাখ জরিমানা!
‘শাহরুখ’ আর রেডি গোয়িং টু জাহান্নাম!
‘শাহরুখ’ আর রেডি গোয়িং টু জাহান্নাম!
লাপাত্তা সারিকা!
লাপাত্তা সারিকা!
সূরা আল নাস এর গুরুত্ব ও ফজিলত
সূরা আল নাস এর গুরুত্ব ও ফজিলত
‘পবিত্র আশুরা’
‘পবিত্র আশুরা’
এ কেমন কাণ্ড পুলিশ পুত্রের!
এ কেমন কাণ্ড পুলিশ পুত্রের!
কাকে বিয়ে করবেন?
কাকে বিয়ে করবেন?
শিরোনাম:
এশিয়া কাপে পাকিস্তানকে হারিয়ে ভারতের জয় এশিয়া কাপে পাকিস্তানকে হারিয়ে ভারতের জয় আদালতে হাজির হওয়ার মতো সুস্থ নন খালেদা জিয়া: অ্যাডভোকেট মাসুদ তালুকদার আদালতে হাজির হওয়ার মতো সুস্থ নন খালেদা জিয়া: অ্যাডভোকেট মাসুদ তালুকদার এক শতাংশ প্রতিবন্ধী কোটা রাখার পরামর্শ সংসদীয় কমিটির এক শতাংশ প্রতিবন্ধী কোটা রাখার পরামর্শ সংসদীয় কমিটির সুষ্ঠু নির্বাচন হলে সরকারের অস্তিত্ব থাকবে না: ফখরুল সুষ্ঠু নির্বাচন হলে সরকারের অস্তিত্ব থাকবে না: ফখরুল আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে শৃঙ্খলমুক্ত হতে চান এরশাদ আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে শৃঙ্খলমুক্ত হতে চান এরশাদ অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে নির্বাচনকালীন সরকার: কাদের অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে নির্বাচনকালীন সরকার: কাদের রোহিঙ্গাদের কারণে কক্সবাজারে পরিবেশ বিপর্যয়, এইডস ও সংঘবদ্ধ অপরাধের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের কারণে কক্সবাজারে পরিবেশ বিপর্যয়, এইডস ও সংঘবদ্ধ অপরাধের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী ইস্কাটনে জোড়া হত্যা; এমপিপুত্র রনির বিরুদ্ধে মামলার রায় ৪ অক্টোবর ইস্কাটনে জোড়া হত্যা; এমপিপুত্র রনির বিরুদ্ধে মামলার রায় ৪ অক্টোবর