মশক নিয়ন্ত্রণের পুরো কার্যক্রম ঢেলে সাজানো হবে: তাপস

ঢাকা, শুক্রবার   ১০ জুলাই ২০২০,   আষাঢ় ২৬ ১৪২৭,   ১৮ জ্বিলকদ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

মশক নিয়ন্ত্রণের পুরো কার্যক্রম ঢেলে সাজানো হবে: তাপস

নিজস্ব প্রতিবেদক  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:২৬ ১ জুন ২০২০   আপডেট: ১৬:১৩ ২ জুন ২০২০

মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে গতিশীলতা আনার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন দক্ষিণ সিটির মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস- ডেইলি বাংলাদেশ

মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে গতিশীলতা আনার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন দক্ষিণ সিটির মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস- ডেইলি বাংলাদেশ

তৃণমূল থেকে উচ্চ পর্যায় পর্যন্ত মশক নিয়ন্ত্রণের পুরো কার্যক্রম ঢেলে সাজানো হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।

গৎবাঁধা লোক দেখানো কার্যক্রম থেকে বেরিয়ে এসে অর্জিত মেধা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে নগরবাসীকে সেবা দিতে আন্তরিকভাবে কর্মকর্তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

সোমবার নগর ভবনের সেমিনার রুমে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে গতিশীলতা আনার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত এক সভায় মেয়র এসব কথা বলেন।

মশক নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তৈরিকৃত কর্মপরিকল্পনা শুরুর কথা তুলে ধরে মেয়র বলেন, মশক নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে যেসব পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে তার সঠিক বাস্তবায়নে কোনো অজুহাত গ্রহণযোগ্য হবে না। আমি ২৪ ঘণ্টার মেয়র। যেকোনো সময় যেকোনো কার্যক্রম পরিদর্শনে যাবো। সে সময় স্পটে কাউকে পাওয়া না গেলে ধরে নেবেন তিনি আর ডিএসসিসিতে কর্মরত নেই। সেটা তিনি যে পর্যায়ের কর্মকর্তাই হন।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মীর মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে কমিটি গঠনের কথা উল্লেখ করে মেয়র বলেন, এ কমিটি মাঠ পর্যায়ে প্রাপ্ত কার্যক্রমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে উপযুক্ত কার্যক্রম গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করবেন। ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের পরামর্শ নেবেন। ৭ জুন থেকে এ কার্যক্রম শুরু হবে।

ব্যারিস্টার তাপস বলেন, মাঠ পর্যায়ে নিয়োজিত মশক নিধনকর্মীরা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবেন। মনিটরিংয়ের দায়িত্বে নিয়োজিতরা তা সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন। লার্ভিসাইডিং কাজটি সঠিকভাবে করা গেলে মশক নিয়ন্ত্রণের অর্ধেক কাজ সম্পন্ন হয়ে যায়, যদিও এটা লোকচক্ষুর অগোচরে হয়ে থাকে তাই নাগরিকদের মধ্যে এর প্রভাব কম। তবে ফগিংয়ের সময় শব্দ শুনে নাগরিকরা বুঝতে পারেন যে সিটি কর্পোরেশন কাজ করছে।

তিনি জানান, ১৪ জুন থেকে দক্ষিণ সিটির জলাশয়, লেক, খাল শনাক্ত করে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো শুরু হবে। এক সঙ্গে নর্দমা পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমও চালানো হবে। ডিএসসিসি এলাকাধীন এসবের মালিক সিটি কর্পোরেশন। তাই নগরবাসীর কল্যাণে প্রয়োজন অনুযায়ী কার্যক্রম-পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। এক্ষেত্রে কোন সংস্থা কি করবে বা করলো তা দেখা হবে না। আমাদের দায়িত্ব আমরা পালন করবো। প্রয়োজনে ওইসব সংস্থা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবে।

উপস্থাপিত এসব কর্মপরিকল্পনা জ্ঞান মেধা দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করলে নগরবাসীর জন্য নতুন আঙ্গিকে নব যুগের সূচনা হবে- যা কর্পোরেশনের ইতিহাসে মাইলফলক সৃষ্টি করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন মেযর।

জানা গেছে, বিশদ কর্ম পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে- খোলা জলাশয় ব্যবস্থাপনার আওতায় কর্পোরেশনের ১০টি অঞ্চলের জলাশয়ের কচুরিপানা/আবর্জনা পরিষ্কারকরণ। প্রতি বিঘা জলাশয়ে আনুমানিক ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার তেলাপিয়া এবং ২৫টি হাঁস চাষকরণ।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের মাধ্যমে সব নর্দমা পরিষ্কারকরণ। রাসায়নিক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের আওতায় প্রতিদিন প্রতি ওয়ার্ডে ৮ জন মশককর্মীর মাধ্যমে সকাল ৯টা থেকে ১টা পর্যন্ত লার্ভিসাইডিং এবং প্রতিদিন প্রতি ওয়ার্ডে ১০ জন মশক কর্মীর মাধ্যমে দুপুর আড়াইটা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত ফগিং কার্যক্রম চালানো।

সোর্স রিডাকশন কার্যক্রমের আওতায় অনলাইনে নগরবাসীর আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রতি ওয়ার্ডে ৩ জন মশক কর্মীর মাধ্যমে নাগরিকদের বাসা-কর্মস্থল প্রাঙ্গণে এডিসের প্রজননস্থল ধ্বংস কার্যক্রম ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা কার্যক্রম ইত্যাদি।

সভায় উপস্থিত ছিলেন- প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মো. ইমদাদুল হক, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শরিফ আহমেদ, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা এয়ার কমোডোর বদরুল আমীন, সচিব মো. আকরামুজ্জামানসহ আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তারা।

ডেইলি বাংলাদেশ/এস.আর/এমআরকে/এস