Alexa মমি করা হতো যেভাবে

ঢাকা, শুক্রবার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৫ ১৪২৬,   ২০ মুহররম ১৪৪১

Akash

মমি করা হতো যেভাবে

 প্রকাশিত: ০৯:০৯ ১ সেপ্টেম্বর ২০১৮   আপডেট: ০৯:০৯ ১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

আদ্যিকালে মিশরের সম্রাট বা ফারাওদের মৃত্যুর পর মমি করে রাখার প্রচলন সম্পর্কে সবাই কম বেশি অবগত। অমরত্ব লাভের একটি প্রক্রিয়া ভাবা হতো এটিকে। এই লেখায় জানানোর চেষ্টা করব - কিভাবে মমি বানিয়ে সংরক্ষণ করে রাখা হতো।    

মৃতদেহকে মমি করার জন্য প্রথমে শরীর থেকে মগজ বের করে আনতে হতো। কালের বিবর্তনে দেহ থেকে মগজ বের করার তিনটি প্রক্রিয়া আবিষ্কৃত হয়। শুরুতে মৃতের নাকের ছিদ্র দিয়ে হুক ঢুকিয়ে নাকের দুই ছিদ্র দিয়েই টেনে মগজ বের করা হতো। তার কিছুকাল পরে চোখ থেকে বের করা হতো। মৃতদেহের একটি চোখ শুরুতে তুলে নেয়া হতো। তারপর চোখের অপটিক নার্ভের সঙ্গে হুক আটকিয়ে পুরো মগজ টেনে বের করা হতো। পরবর্তী কালে আরো উন্নত ব্যবস্থা আবিষ্কৃত হয়। শেষ দিকের মমিগুলোতে মাথার পেছনে একটি ছোট ছিদ্র করে মগজ বের করে আনার প্রমাণ পাওয়া যায়।

মগজ বের করার পর ছিলো ফুসফুস, পাকস্থলী, যকৃত এবং অন্ত্র বের করার পর্ব। দেহের বা পাশে গর্ত করে ওগুলো বের করা হতো, তারপর একটি ক্যানোপিক জারে সংরক্ষণ করা হতো। অতঃপর দেহের অভ্যন্তরের খালি জায়গাগুলো পূরণ করার জন্য ভেতরে ন্যাট্রনের ব্যাগ ও সুগন্ধি মশলা ভরে দেয়া হতো। প্রাথমিকভাবে ভেতরে হৃদপিণ্ড রেখে দেয়া হতো। মিশরীয়দের বিশ্বাস ছিলো, মৃত্যুর দেবতা আনুবিস মৃতের হৃদপিণ্ডকে পাখির পালকের বাটখারা দিয়ে মাপেন; মৃত ব্যক্তিটি কতটা সৎ জীবনযাপন করেছেন তা পরিমাপের জন্য। কিছুদিন পর হৃদপিণ্ড বের করে সেই প্রকোষ্ঠে গুবরে পোকার তাবিজ ভরে দেয়া হতো। এটিকে গণ্য করা হতো নতুন জীবনের প্রতীক হিসেবে।

সবকিছু বের করার জন্য যে ছিদ্রটি করা হয়েছিলো, সেটিকে স্বর্ণের পাত দিয়ে সিল করা হতো। সেই পাতে খোদাই করা থাকতো উদজাতের নকশা; যেটি ছিলো হোরাস দেবতার মায়াবী চোখের প্রতিচ্ছবি। হোরাসকে গণ্য করা হতো মৃতদের রক্ষক দেবতা হিসেবে। এরপর মৃতদেহকে ন্যাট্রনে মুড়িয়ে হেলানো একটি টেবিলে শুইয়ে রাখা হতো, টেবিলের ঢালু প্রান্তের শেষ মাথায় থাকতো একটি কলসি, সেখানে মৃতের শরীর থেকে বের হওয়া পানি জমা হতো। ন্যাট্রনটি একই সঙ্গে চর্বি শোষক ও দূর্বল এন্টিসেপটিকের কাজ করত। এভাবে ৪০ দিন যাবত মৃতদেহটি শুষ্ক করার প্রক্রিয়া চলত। ৪০ দিন পর মমিটিকে বিশেষ এক ধরণের তেলের সাহায্যে ব্রাশ দিয়ে ঘষে পরিষ্কার করা হতো, যাতে সেটিতে এক ফোটা পানিও অবশিষ্ট না থাকে। তারপর মমিকৃত দেহটিতে দেয়া হতো রজনের প্রলেপ, যা মমিকে সংরক্ষণ করতে সাহায্য করত। মমির চামড়া নরম ও মসৃণ রাখতে দ্রাক্ষারস, গাম, মোম, ন্যাট্রন ইত্যাদি দিয়ে ঘষা হতো। তারপর মমিটিতে সাজানো হতো নানা অলংকার ও পবিত্র নেকলেস দিয়ে। মমিকে কফিন বা শবাধারে ঢোকানোর আগে সেটিকে লিনেনের অসংখ্য লিনেনের স্ট্রিপে মোড়ানো হতো। শ্যাবিট নামের ছোট ছোট পুতুল বানানো হতো মমির চেহারার অনুকরণে। লিনেনের নিচে সেগুলো আটকে দেয়া হতো। বিশ্বাস করা হতো, পুতুলগুলো মৃতদেহের হয়ে নতুন জীবনে প্রতিনিধিত্ব করত। সবশেষে মমিকে কফিনে স্থানান্তরিত করা হতো। কফিনটি আগে থেকেই সমাধিতে রাখা থাকতো। যুগের পর যুগ নিষ্প্রাণ দেহগুলো অপচনশীল অবস্থায় টিকে থাকতো।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসজেড