Alexa মমতায় অগ্নিভীতি শীতল করল মা ক্যাঙ্গারু

ঢাকা, রোববার   ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০,   ফাল্গুন ১১ ১৪২৬,   ২৯ জমাদিউস সানি ১৪৪১

Akash

মমতায় অগ্নিভীতি শীতল করল মা ক্যাঙ্গারু

জান্নাতুল মাওয়া সুইটি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:৫১ ৫ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৪:১৯ ৫ জানুয়ারি ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

‘পৃথিবীর কোনো শক্তি, সৌন্দর্য কিংবা বীরত্ব মায়ের ভালোবাসা প্রকাশ করার জন্য যথেষ্ট নয়’ বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ধর্ম প্রচারক এডউইন চ্যাপিন।

শত বিপদেও মা পুড়ে তার সন্তানকে বাঁচান এমন নজির আমরা আগেও কমবেশি দেখেছি। তবে এবার ঘটল এক ব্যতিক্রমী ঘটনা। 

অস্ট্রেলিয়া পুড়ছে মারাত্মক দাবানলে। দেশটির বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ক্রমশ ছড়িয়ে পড়েছে আগুনের লেলিহান শিখা। এতে মানুষসহ জীবজন্তুরাও প্রাণ বাঁচাতে লোকালয়ে ভিড়ছে। এ সময় দেখা গেল এক করুণ দৃশ্য। এক মা ক্যাঙ্গারু তার সন্তানকে আগুনের দাবানল থেকে বাঁচাতে বুকে আগলে ধরেছে। এ ছবিটির মাধ্যমে মা যেন বুঝাচ্ছিলেন তার মমত্বের বহিঃপ্রকাশ!

আকাশে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে আগুনের লেলিহান শিখাপ্রাণী হয়েও সন্তানকে আগলে রাখার এক অনন্য দৃষ্টান্ত এই ছবিটি। মা ও সন্তানের মধ্যকার সম্পর্কের যেন কোনো সংজ্ঞা হয় না। কথায় আছে, মা তার সন্তানের হাত হয়তো কিছু সময়ের জন্য ধরে থাকেন কিন্তু তাদের হৃদয়ে থাকে সারাজীবন।

অস্ট্রেলিয়ার ওই দাবানলে এখন পর্যন্ত নিউ সাউথ ওয়েলস এবং ভিক্টোরি জুড়ে দেড় হাজার ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। আর সেই দাবানলেই পুড়ছে অসহায় জীবজন্তু। পুড়ছে কোয়ালা, ক্যাঙারুসহ কাঠবিড়ালি। শত শত পাখির আর্তনাদ শোনার মত কেউ নেই! এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ কোটি প্রাণী প্রাণ হারিয়েছে।

প্রাণীদের উদ্ধার করছেন স্বেচ্ছাসেবকরাহাহাকার, দাউদাউ জ্বলছে চারদিক। সেখানকার আকাশ ধারণ করেছে কালচে রং। মানুষসহ প্রাণীকূলের অসহায় চোখে আতঙ্ক খেলা করছে। কোটি কোটি জীবজন্তুর আর্তনাদ আগুনের লেলিহান শিখা গিলে খাচ্ছে। পরিস্থিতি সামলে নিতে নিতেই আবার পুড়ছে আরেক অঞ্চল। 

এমনই এক সংকটে এক ক্যাঙ্গারু মা তার সন্তানকে বুকে আগলে রেখে রক্ষা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। অস্ট্রেলিয়ার দাবানল থেকে পালিয়ে বাঁচার চেষ্টা করছে কোটি কোটি জীবজন্তু। ক্যাঙ্গারু মা ও সন্তানের ছবিটি সেখান থেকেই তোলা। মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে মা ও সন্তানের হৃদয়স্পর্শী এই ছবিটি।

কোটি কোটি প্রাণীরা আগুনে পুড়ছেপ্রাণীকূলের ভালোবাসার এই বহিঃপ্রকাশ দেখে চোখ ভিজেছে অনেকের। অস্ট্রেলিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিউ সাউথ ওয়েলস- এ ১২৮ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইছে। এ কারণেই দাবানলের গতিপথ পরিবর্তিত হয়েছে। ফলে দাবানল নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছেন দমকলকর্মীরা।

দক্ষিণ দিক থেকে আসা বাতাসে রাজ্যটির আগুনের বিস্তৃতি আরো বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিউ সাউথ ওয়েলস এর প্রতিবেশী ভিক্টোরিয়া রাজ্যেও দাবানল নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে দমকলকর্মীরা। এছাড়া সেখানে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারে কাজ করছে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার। 

ভয়ঙ্কর দাবানলঅপ্রতিরোধ্য দাবনলের কারণ কী?

দাবানল শুষ্ক বনভূমি বা ঝোপ-ঝাড়ে পরিপূর্ণ এলাকা থেকেই সৃষ্টি হয়। এমন একটি স্থানে কোনোভাবে আগুন লাগলে তা মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়া শুধু সময়ের ব্যাপার। প্রাকৃতিকভাবে সাধারণত দুইভাবে দাবানল শুরু হতে পারে যেমন- শুষ্ক বনভূমির উপর বজ্রপাত ও আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত লাভা অথবা বিভিন্ন পদার্থের জ্বলন্ত টুকরা থেকে। তবে সাম্প্রতিককালে মানবসৃষ্ট কারণেই দাবানল বেশি ঘটে থাকে! ধারণা করা হয়, বর্তমানে ৮৪ শতাংশ ক্ষেত্রেই মানবসৃষ্টভাবেই দাবানলের সূত্রপাত ঘটে। 

বিজ্ঞানীরা বলছেন, বরফ গলতে শুরু করেছে। এতে বাড়ছে কার্বন নিঃসরণের মাত্রা। ফলে পরিস্থিতি বেগতিক রুপ ধারণ করছে। জলবায়ু বিষয়ক আন্তর্জাতিক প্যানেলের সাম্প্রতিক বিশেষ এক প্রতিবেদনে এসব চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সাগরপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বাড়ার ফলে বরফ গলছে এবং এর প্রভাব পড়ছে পুরো বিশ্বের প্রাণী জগতের উপর।

প্রতিবেদনে সাবধান করা হয়েছে, সাগরে তাপ বেড়ে যাওয়ায় আবহাওয়া দিনকে দিন চরম রূপ ধারণ করবে। সামুদ্রিক ঝড় বেড়ে যাবে, সেইসঙ্গে জলোচ্ছ্বাস বাড়বে। ‘আমরা নজিরবিহীন কিছু বিপদের ইঙ্গিত দেখতে পাচ্ছি,’ বলছেন আইপিসিসি প্যানেলের অধ্যাপক ডেরা রবার্টস। এমন চলতে থাকলে কার্বন নির্গমনের মাত্রা অনেক কমালেও চরম ঝুঁকির মধ্যে থাকা মানুষের জীবন ও জীবিকার ওপর জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা চ্যালেঞ্জিং হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস