মাধ্যাকর্ষণ পাহাড়ে সবই চলে উল্টো গতিতে 

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০২ জুন ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১৯ ১৪২৭,   ০৯ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

মাধ্যাকর্ষণ পাহাড়ে সবই চলে উল্টো গতিতে 

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:৩১ ২৯ এপ্রিল ২০২০   আপডেট: ১৫:০৫ ২৯ এপ্রিল ২০২০

ছবি: বল ও গাড়ি চলছে বিপরীত দিকে

ছবি: বল ও গাড়ি চলছে বিপরীত দিকে

গ্র্যাভিটি হিল বা মাধ্যাকর্ষণ পাহাড় যেখানে আছে সেখানেই ঘটে চলে রহস্যময় কর্মকাণ্ড। যা চোখে দেখলে আপনি হতবাক হয়ে যাবেন। আসলে সেগুলো প্রকৃতির এক রহস্যময় খেলা।

মাধ্যাকর্ষণ পাহাড়ের আশেপাশের কোনো রাস্তায় যদি আপনি গাড়ি চালান, তবে তা আপনা আপনিই চলবে। আবার কোনো বস্তু যদি উপর থেকে গড়িয়ে নিচের দিকে দেন তবে তা নিচে না নেমে বরং উপরের দিকেই উঠবে। ভাবুন কতটা রহস্যময়! মানুষের চোখের সামনে এগুলো ঘটলে তা অলৌকিক মনে হয়!

মাধ্যাকর্ষণ পাহাড়আসলে গ্র্যাভিটি হিল হলো এক প্রকার ঢালু স্থান যেখান থেকে যে কোনো বস্তু নিজের মতো মহাকর্ষের বিপরীত দিকে চলে। উদহারণস্বরূপ বলা যায়, পাহাড়ের পৃষ্ঠের উপর যদি পানি ঢেলে দেয়া হয় তাহলে পানি নিচের দিকে না গড়িয়ে উপরের দিকে যায়। গ্র্যাভিটি হিলকে বাংলায় মাধ্যাকর্ষণ পাহাড় বলা যায়। 

গ্র্যাভিটি হিলগুলো চৌম্বকীয় বা রহস্যময় পাহাড় হিসেবে পরিচিত। গ্র্যাভিটি হিলের উদ্ভূত ঘটনা পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ঘটে। এই সব পাহাড়ে প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মের বিপরীত কিছু ঘটে বলেই পর্যটকদের আকর্ষণের স্থানে পরিণত হয়েছে। 

চৌম্বকীয় বা রহস্যময় পাহাড় হিসেবে পরিচিতগ্র্যাভিটি হিলে কি ঘটে? 

স্বাভাবিক দৃষ্টিতে মনে হয়, এমন পর্বতগুলো হয়ত পদার্থবিজ্ঞানের আইন মানে না। ধরুন, একটি বস্তু বা বল যদি ঢালু স্থানে রাখা হয় তাহলে মহাকর্ষ নিচের দিকে টানবে। তবে গ্র্যাভিটি হিলে দেখা যায় তার বিপরীতটি। অর্থাৎ বস্তুটি নিচের পরিবর্তে উপরের দিকে চলে যায়। 

মাধ্যাকর্ষণ পাহাড় কেন্দ্রিক বিভিন্ন স্থানগুলো সম্পর্কে রোমাঞ্চকর অনেক কাহিনী প্রচলিত আছে। যা পর্যটক আকর্ষণের অন্যতম কারণ। উদাহারণস্বরূপ- ক্যালিফোর্নিয়ার পিয়ার্সিতে অবস্থিত গ্র্যাভিটি হিল সম্পর্কে একটি অদ্ভুত প্রাণীকে জড়িয়ে রহস্যময় দীর্ঘ কাহিনী প্রচলিত আছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে গ্র্যাভিটি হিল আছে। 

সৌদি আরবের ওয়াদি আল জ্বিনসৌদি আরবের ওয়াদি আল জ্বিন বেশ পরিচিত গ্র্যাভিটি হিল। সেখানেও ঘটে অদ্ভূত সব ঘটনা। ড্রাইভার ছাড়াই গাড়ি চলে নিজ গতিতে চলে। আবার কোনো কিছু গড়িয়ে দিলে তা চলতেই থাকে, থামার যেন নাম নেই। এসব কারণেই স্থানটি জ্বিন পাহাড় নামে পরিচিত। আরববাসীর ধারণা, সেখানে বাস করে জ্বিনেরা। তারাই এসব কাজ করে থাকে।

মাধ্যাকর্ষণ পাহাড়ের নামই জানান দেয়, এই জাতীয় পাহাড়ের মহাকর্ষীয় টান অসম। অর্থাৎ এর তলদেশের বল উপরের থেকে দুর্বল। ফলে কোনো বস্তু নিচের দিকে না গিয়ে বরং ঢালের উপরের দিকে যায়। এটা সত্য যে পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ সর্বত্র সমান নয়। যেমন পৃথিবীর নিরিক্ষীয় রেখার নিকটবর্তী অঞ্চলে মহাকর্ষীয় শক্তি কম এবং এর থেকে দূরবর্তী অঞ্চলে বেশি।

গ্র্যাভিটি হিল অতিপ্রাকৃত এবং দৃষ্টিভ্রমের ব্যাখ্যা

গ্রাভিটি হিলের অদ্ভুত ঘটনাকে কেউ কেউ অতিপ্রাকৃতিক রহস্যময় হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। যেমন- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার লেক ওয়েলসে একটি গ্রাভিটি হিল আছে। সেখানে স্থানীয়দের মধ্যে লোককাহিনী প্রচলিত আছে, নেটিভ আমেরিকান প্রধান এবং একটি দৈত্য এলিগেটারের মধ্যে একবার প্রচণ্ড লড়াই হয়। তাতে একজন মারা যায়। এরপর থেকেই প্রচলিত রয়েছে ওই মৃত ব্যক্তির প্রেতাত্মার কারণেই গ্র্যাভিটি হিলের সৃষ্টি।

অন্যান্য গ্র্যাভিটি হিল সম্পর্কেও এমন সব অবাস্তব তথ্য লোক মুখে ঘুরে বেড়ায়। পেনসিল্ভেনিয়ায় একটি গ্র্যাভিটি হিল রয়েছে। বলা হয় সেখানে মৃত ঘোড়ার আত্মার কারণেই নাকি উল্টো পথে চলে সবকিছু। ঘোড়াটি এসব ভুতুড়ে ঘটনা ঘটায় বলে প্রচলিত। গ্র্যাভিটি হিল সম্পর্কে আরো বলা হয় এটি অপটিক্যাল ইলিউশন বা দৃষ্টিভ্রম ঘটায়। এই ব্যাখ্যাটিই সম্ভবত সবচেয়ে যৌক্তিক। 

লাদাখের গ্র্যাভিটি হিলে উল্টো চলছে গাড়িগ্র্যাভিটি হিলের অদ্ভুত ঘটনা দেখার জন্য দায়ী দৃষ্টিভ্রম। এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ভূমির স্তর এবং আশেপাশের প্রাকৃতিক দৃশ্য দৃষ্টিভ্রম তৈরি করে সেজন্য মনে হয় পাহাড়ে রাখা বস্তু উপরের দিকে যায়। মূলত বস্তুটা নিচের দিকে যায়। গ্র্যাভিটি হিলে আপাতদৃষ্টিতে যা নিচু বলে মনে হয় সেটি বাস্তবে উঁচু। আর যা উঁচু বলে মনে হয় সেটিই নিচু। কোনো বস্তু উঁচু থেকে নিচুতে যায়  স্বাভাবিক প্রাকৃতিক নিয়মেই। মূলত দৃষ্টিভ্রমের কারণেই বিপরীত ঘটনা দৃষ্টিগোচর হয়। এই বিভ্রান্তি তৈরি হয় মানুষের চোখ আর মস্তিষ্ক যখন সমন্বয় করতে পারে না।

এই ব্যাখ্যা পূর্ণঙ্গ না হলেও অনেকটা যৌক্তিক বলে বিবেচনা করা হয়। গ্র্যাভিটি হিলের ব্যাখ্যা যাই হোক না কেনো এসব স্থানগুলো পর্যটকদের কছে খুবই প্রিয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গ্র্যাভিটি হিলগুলোতে প্রচুর পর্যটকের সমাগম হয়। সবচেয়ে বেশি গ্র্যাভিটি হিল রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। ভারতের লাদাখ এবং গুজরাটেও গ্রাভিটি হিল বিদ্যমান। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, পোল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, চীন, ওমান, ব্রাজিল প্রভৃতি দেশে গ্র্যাভিটি হিল রয়েছে। 

মাধ্যাকর্ষণ পাহাড়ের অলৌকিক কর্মকাণ্ড দেখুন ভিডিওতে>>>

সূত্র: অ্যানসাইন্টঅরিজিন

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস