মধ্যরাতে দুবাইয়ে টাইগারদের জয় উদযাপন

.ঢাকা, বুধবার   ২৪ এপ্রিল ২০১৯,   বৈশাখ ১০ ১৪২৬,   ১৮ শা'বান ১৪৪০

মধ্যরাতে দুবাইয়ে টাইগারদের জয় উদযাপন

 প্রকাশিত: ০০:৪৯ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৬:৫৬ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ছবি- সংগৃহীত

ছবি- সংগৃহীত

দুবাইয়ের জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শ্রীলংকাকে ১৩৭ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে মধ্যরাতে জয় উদযাপন করল টাইগার বাহিনী। লংকার বিপক্ষে এটাই টাইগারদের সর্বোচ্চ জয়। ১৪.৪ বল অক্ষত রেখেই টাইগাররা মাঠ ছেড়েছে।

অধিনায়ক মাশরাফি কথা রেখেছেন। যাবার আগে বলে গিয়েছিলেন প্রথম ম্যাচে লংকাকে হারিয়ে চাপ মুক্ত থাকতে চান তিনি। ২০ সেপ্টেম্বর টাইগারদের পরবর্তী মিশন হচ্ছে আফগানিস্তানকে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করা। 

দুবাইয়ের ২২ গজি উইকেটে প্রথম বার খেলতে নামা টাইগাররা এক কথায় লংকাকে উড়িয়ে দিয়েছে। দাঁড়াতেই দেয়নি লংকার ব্যাটসম্যানদের। শুরুটা করলেন কাটার মাস্টার। তিনি ২২ রানের মাথায় ওপেনার মেন্ডিসকে (০) এলবি’র ফাঁদে ফেলে দেন। আরেক ওপেনার থারাঙ্গাকে (২৭) বোল্ড করলেন অধিনায়ক মাশরাফি। ২ উইকেটে ২৬ রানে থাকা লংকার মিডল অর্ডারে নামা সিলভাকে (০) এলবি’র ফাঁদে ফেলে ফেরত পাঠালেন মাশরাফি। ৩ উইকেটে হারিয়ে দিশেহারা লংকা। মিডল অর্ডারের পেরেরাকে (১১) এলবি’র ফাঁদে ফেললেন মেহেদী হাসান মিরাজ। হলো ৪ উইকেটে ৩৮ রান!

ব্যক্তিগত ৫ রানের মাথায় মিরাজের বলে সানাকা বল তুলে দিলেন আকাশে। মাশরাফি আর অপুর ভূল বোঝাবুঝি না হলে পঞ্চম উইকেটের তখনই পতন হতো। ৬০ রানে সানাকাকে রান আউট করলেন সেই মিরাজই। ধারাবাহিকভাবে লংকার উইকেট পতনের পর্ব চলতে থাকে। পেসার রুবেল ১৬ রান করা লংকার অধিনায়ক ম্যাথিউসকে এলবি’র ফাঁদে ফেলেন।

এরপর মিরাজ ৭ রান করা থিসারা পেরেরাকে ক্যাচ দিতে বাধ্য করলেন রুবেলের হাতে। ১৮.৫ ওভারে ৭ উইকেটের পতনের পর জয়টা আসলে লংকার জন্য বহুদূরের পথ মনে হওয়াটাই যুক্তিসংঙ্গত। লংকার হারটা ছিল সময়ের ব্যাপার মাত্র। কারণ ২৬.৫ ওভারে লংকার ছিল ৩ উইকেটে ১৭৬ রান! লাকমালকে কাটার মাস্টার বোল্ড করলে লংকার অলআউট দৃশ্যটা দ্রুত সামনে চলে আসে।

এরআগে বাংলাদেশ টস জিতে ব্যাট হাতে তুলে নিয়ে খেলতে নেমেই চোঁখে অন্ধকার দেখতে শুরু করে। তবে শেষ অবদি অভিজ্ঞ মুশফিকের ব্যাটের কল্যাণে বাংলাদেশ ৪৯.৩ বলে ২৬১ রান স্কোর বোর্ডে জমাও করে।

ইনিংসের শুরুতেই ওপেনার লিটন স্লিপে ক্যাচ দিয়ে বসেন মালিঙ্গার বলে। আর এরপর একই ওভারের শেষ বলে মালিঙ্গা বোল্ড করলেন সাকিবকে (০)। ১ রানে ২ উইকেট হারানো দিশেহারা বাংলাদেশ এরপর হারিয়ে বসে ওপেনার তামিমকে। তবে সেটা আউট নয়, লাকমলের বলে বাম হাতের কব্জিতে আঘাত পেয়ে মাঠের বাইরে থাকেন তামিম। ইনিংসের শেষ অবদি আর নামা হলো না তার।

মুশফিক ক্রিজে, সঙ্গে নতুন পার্টনার মোহাম্মদ মিথুন। দুই মিডল অর্ডার মিলে যোগ করলেন ৩য় উইকেট জুটিতে ১৩৩ রান। তাতে ছিল মিথুনের ৬৩ রানের ইনিংস। যা তাঁর ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি। মুশফিকের পাশে থাকা মিথুন ফেরত গেলে মাহমুদুল্লাহ (১), সৈকত (১) আরো দ্রুত ফেরত যান। অধিনায়ক মাশরাফি ১১ রানে সাঁজ ঘরে। ৩৯ ওভারে ১৯৫/৭, মনে হবার কোন কারণ ছিল না বাংলাদেশ ২৬১ রানে যাবে।

কিন্তু মুশফিক সেটা সম্ভব করলেন। একই লড়াই করলেন তিনি। ২য় ওভারে ক্রিজে আসা মুশফিক ৪৯ম ওভার পর্যন্ত ছিলেন। ১৮৮তম ওডিআই ম্যাচে নিজের ৬ষ্ঠ সেঞ্চুরি আদায়ের মঞ্চ হিসেবে এশিয়া কাপে লংকার বোলারদের টার্গেট বানালেন। ১২৩ বলে ৭ চার আর ১ ছয়ে পূর্ণ করলেন সেঞ্চুরি। তখন পাশে ছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। 

এরপরই মারকুটি মুশফিকের কঠিন রুপ দেখল শ্রীলংকার বোলাররা। মুস্তাফিজ রান আউট হলে বাম হাতে ব্যান্ডেজ নিয়েই তামিম নেমে পড়লেন পুরো স্টেডিয়ামকে হতবাক করে। শেষ পর্যন্ত তামিম দুই বল মোকাবেলা করলেন এক হাতে, আর মুশফিক তো ছিলেন ভয়াবহ রুপে। ১৪৯ বলে ১৪৪ রান, ১১ চার আর ৪ ছক্কা! নিজের গড়া ১১৭ রানে সেরা ইনিংসে টপকে গেলেন মুশফিক। পেরেরার বলে ক্যাচ দিলেন মুশফিক। ৩ বল আগেই ইনিংস শেষ হয়ে যায়। 

সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ ইনিংস ২৬১ (৪৯.৩ ওভার) : মুশফিক ১৪৪, মিথুন ৬৩, মিরাজ ১৫, মাশরাফি ১১। বোলিং ঃ মালিঙ্গা ২৩/৪, লাকমাল ৪৬/১, অপনসো ৫৫/১ ও পেরেরা ৭১/১।

শ্রীলংকা ইনিংস ১২৪ (৩৫.২ ওভার) : থারাঙ্গা ২৭, পেরেরা ১১, ম্যাথিউস ১৬, থিসারা পেরেরা ১১। বোলিং ঃ মাশরাফি ২৫/২, মুস্তাফিজ ২০/২, মেহেদী হাসান ২১/১, মোসাদ্দেক ৮/১ ও রুবেল ১৮/১।

ফলাফল : বাংলাদেশ ১৩৭ রানে জয়ী

ম্যান অব দ্য ম্যাচ : মুশফিকুর রহিম (বাংলাদেশ)

ডেইলি বাংলাদেশ/জেবি/আরএ