মধ্যযুগে যেসব অদ্ভূত কারণে মানুষের মৃত্যু ঘটত

ঢাকা, বুধবার   ০৩ জুন ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ২০ ১৪২৭,   ১০ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

মধ্যযুগে যেসব অদ্ভূত কারণে মানুষের মৃত্যু ঘটত

কানিছ সুলতানা কেয়া ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:০৩ ৩ এপ্রিল ২০২০   আপডেট: ১৭:১৩ ৩ এপ্রিল ২০২০

ছবি: গৃহযুদ্ধ

ছবি: গৃহযুদ্ধ

মৃত্যু একটি অতিপ্রাকৃত ঘটনা। প্রত্যেক প্রাণীকেই এর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। তবে পৃথিবীতে দেখা দেয়া সাম্প্রতিক করোনাভাইরাস মহামারিতে ঘটা মৃত্যু যেন কারোরই কাম্য নয়। যুগে যুগে এমন অনেক মহামারির কবলে পড়ে প্রাণ হারিয়েছে কোটি কোটি মানুষ। আবার রোগ বা বার্ধক্যও অনেক সময় মৃত্যুর জন্য দায়ী। 

তবে জানেন কি, মধ্যযুগে বেশিরভাগ মানুষের মৃত্যুর কারণ কী ছিল? সেসময় বেশিরভাগ মানুষই মারা গিয়েছে জীবজন্তুর আক্রমণে, কেউবা মারা গেছেন হাসি-ঠাট্টারত অবস্থায়। কতই না বিচিত্র এসব মৃত্যু! এমন আরো অনেক অদ্ভূত কারণে মধ্যযুগে মানুষ মৃত্যুবরণ করত। জেনে নিন সেসব কারণ সম্পর্কে-

জীবজন্তু যখন মৃত্যুর কারণ

১৯৮৪ সালের অক্টোবর মাস। সেসময় উইলিয়াম ওয়ালারের বিট রবার্ট ব্যারন ওয়ারউইকশায়ার শেরবনে শিকারে গিয়েছিলেন। আর সেখানেই তিনি এক বন্য শূকরের আক্রমণে মারা যান। সেসময় শিকারে গিয়ে বন্য পশুর আক্রমণে মারা গেছেন অনেকেই। ১৩২২ সালের মে মাসে লন্ডনে বার্নার্ড ডি ইরলাউন্ডি তার এক মাস বয়সী মেয়ে জোহানকে নিয়ে ঘুরতে বের হয়েছিলেন। 

তখন হঠাৎ করেই একটি শূকর জোহানের মাথায় আক্রমণ করে বসে। মধ্যযুগে গরু পরিচালনা করা কিছুটা কঠিন ছিল বলেই মনে করা হয়। ১৩৬৫ সালের জুলাই মাসে ওয়ারউইকশায়ার অ্যামিংটনে হেনরি ফ্রেমনসহ বেশ কয়েকজনের প্রাণ গিয়েছিল গরুর আক্রমণে।

পানিতে ডুবে মৃত্যু

মধ্যযুগের মানুষের মৃত্যুর কারণ হিসেবে তালিকায় আরো রয়েছে পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা। সেসময় অনেক মানুষ নদী বা কুয়ার পানিতে পড়ে মারা যেতেন। ওয়ারউইকশায়ার, লন্ডন এবং বেডফোর্ডশায়ারের মানুষের মৃত্যুর অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল এটি। ১৩৮৯ সালের আগস্টে কোভেন্ট্রিতে জন আপল্টনের মেয়ে জোহানা কুয়া থেকে পানি তুলছিলেন।

সেসময় হঠাৎ করেই কুয়াতে পড়ে যান জোহানা। তাকে তুলতে একজন চাকর এগিয়ে যায় পরবর্তীতে সেও পড়ে যায় কুয়াতে। তাদের সাহায্য করতে তৃতীয় এক ব্যক্তি এগিয়ে আসলে তিনিও কুয়াতে পড়ে যান। আর এভাবে তারা তিনজনই মারা যায়। অনেক শিশুরাও এভাবে মারা যেত। 

হিংস্রতার জেরে মৃত্যু

হিংস্রতা তখনো যেমন ছিল এখনো রয়েছে। অঞ্চলভেদে হিংস্রতার সামান্য ভিন্নতা থাকলেও মধ্যযুগে মানুষ বেশি মারা গেছেন নানা সহিংসতায়। সেসময় মানুষের মধ্যে অল্পেই ঝগড়া-বিবাদে জড়ানোর প্রবণতা লক্ষ্য করা যেত। সামান্য কারণেই তারা মারামারিতে জড়িয়ে পড়ত। এমনকি অহরহ খুনের ঘটনাও ঘটত। 

১২৭৬ সালের আগস্টে বেডফোর্ডশায়ার হাউটন রেজিসের ঘটনা। এক মধ্য রাতে জন ক্লারিস এবং তার স্ত্রী ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎই জন ক্লারিস সামান্য বিষয় নিয়ে তার স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করা শুরু করে। এরপর স্ত্রীর মাথায় আঘাত করে এবং তার গলা কেটে হত্যা করে গির্জার পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় জন। সেই যুগে এমন আরো অনেক মৃত্যুর ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন অনেকেই।

১৩৬৬ সালের এপ্রিল মাস। ওয়ারউইকশায়ার অ্যালভাইকোটে জন ডি শীলের মেয়ে মাতিলদা একজন অচেনা কিশোর বালককে আবিষ্কার করলেন। যাকে খুব মারাত্মকভাবে হত্যা করা হয়। ১৩৫৫ সালের মে মাসে কোভেন্ট্রিতে থমাস ডি রাউথ একটি লাশের সন্ধান পান, যার মাথা পাথর দিয়ে থেঁতলে হত্যা করা হয়েছিল। 

উঁচু জায়গা থেকে পড়ে মৃত্যু  

মধ্যযুগে অনেকেই গাছ থেকে বা উঁচু জায়গা থেকে পড়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। যদিও এর কারণ এখনো অজানাই রয়ে গেছে। ১৩৮৯ সালের জানুয়ারিতে কোভেন্ট্রিতে অ্যাগনেস স্ক্রাইভেন বাড়ির দেয়ালে ওঠেন। সেখান থেকে পড়ে মারা যান তিনি। 

১৩৮৭ সালের অক্টোবরে অ্যাসনে রিচার্ড ডসইং গাছ থেকে পড়ে মারা যান। এছাড়াও ১৩২৫ সালের জানুয়ারিতে লন্ডনে জন টলি নামের একজন ব্যক্তি মাঝ রাতে তার বাড়ির জানালা থেকে পড়ে মারা যান। এমনভাবে অনেক মানুষ উঁচু জায়গা থেকে পড়ে মারা যাওয়ার ঘটনা মধ্যযুগে অনেক বেশি বলে ধারণা করা হয়। 

হাসি-ঠাট্টার ছলে মৃত্যু

মধ্যযুগের মানুষ বেশ হাসিখুশি থাকতেই পছন্দ করত। তারা সবসময় মজা আর আনন্দেই মেতে থাকত। এমনকি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েও তারা মজা করে উড়িয়ে দিত। হাসতে হাসতে খুন করার ঘটনাও বিরল ছিল না! 

১২৭৬ সালের মে মাসে বেডফোর্ডশায়ার এলস্টোতে ওসবার্ট লে উয়েল একরাতে মাতাল হয়ে বাড়ি ফেরেন। মাতাল অবস্থায় তিনি অত্যাধিক হাসছিলেন অতঃপর তিনি অসুস্থ হয়ে একটি পাথরের উপর পড়ে যান এবং মৃত্যুবরণ করেন।  

সূত্র: হিস্ট্রিএক্সট্রা

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস