Alexa মধ্যপাড়া খনির ভূ-গর্ভে বন্ধ পাথর তোলা

ঢাকা, শুক্রবার   ২৩ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ৮ ১৪২৬,   ২১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

মধ্যপাড়া খনির ভূ-গর্ভে বন্ধ পাথর তোলা

সুলতান মাহমুদ চৌধুরী, দিনাজপুর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:২০ ২১ জুলাই ২০১৯  

ডেইলি বাংলাদেশ

ডেইলি বাংলাদেশ

চারমাস ধরে দিনাজপুরের মধ্যপাড়া কঠিন শিলা ভূ-গর্ভ থেকে পাথর তোলা বন্ধ রয়েছে। এ খনিতে নতুন করে পাথর তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এ কারণে তুলে রাখা এসব বিক্রি শেষ হলে খনিটি বন্ধেরও আশংকা রয়েছে।

এ ব্যাপারে মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইন কোম্পানি লি. কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করছে বেসরকারি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জিটিসিকে। অপরদিকে জিটিসি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দুষছে মধ্যাপাড়া খনি কর্তৃপক্ষকে। চারমাস ধরে একে অপরের দোষ ধরে টিঠি চালাচালি করেও কোন কাজ হচ্ছে না।

জানা গেছে দিনাজপুরের মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনি প্রকল্পে গত ৩ এপ্রিল থেকে পাথর খনি থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় কাজকর্ম প্রায় মুখ থুবড়ে পড়েছে। খনিতে কর্মরত প্রায় ১ হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে।

২০০৭ সালে উত্তরাঞ্চলের একমাত্র মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লি. (এমজিএমসিএল) বাণিজ্যিক ভাবে উৎপাদন শুরু হয়। ঐ সময় পাথর খনি থেকে দৈনিক প্রায় দেড় হাজার থেকে দুই হাজার মেট্রিক টন পাথর তোলা হতো।

মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনির ঐ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে উৎপাদন বাড়াতে ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রায় ৯২ লাখ টন পাথর তোলার বিপরীতে ১৭১.৮৬ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি করে খনি থেকে পাথর উৎপাদনের দায়িত্ব দেয়া হয় জার্মানীয়া ট্রাস্ট কনসোর্টিয়ামকে (জিটিসি)।

চুক্তি অনুযায়ী, ১২টি নতুন স্টোভ নির্মাণের কথা ছিল। কিন্তু জিটিসি মাত্র ৯২ লাখ টন পাথরের স্থলে এ পর্যন্ত পাথর তুলেছে করেছে ৩০.৭৬ লাখ টন। আর ১২ স্টোভের স্থলে নির্মাণ করেছে মাত্র ৬টি স্টোভ। পাথর তোলার যন্ত্র ক্রিপ্ট মোটর গিয়ার বক্সের পিনিয়াম নষ্টের কারণ দেখিয়ে চলতি বছরের ৩ এপ্রিল থেকে পুরোপুরি ভূ-গর্ভ থেকে পাথর তোলা বন্ধ রেখেছে চুক্তিবদ্ধ ঐ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানটি।

মধ্যপাড়া কঠিন শিলা প্রকল্পের মহা ব্যবস্থাপক (অপারেশন) মো. আবু তালেব ফারাজী জানিয়েছেন উৎপাদন শুরু করতে তাদের দফতর থেকে বারবার পত্র দেয়া হলেও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান জিটিসি কোন জবাব দিচ্ছে না। তারা পাথর উৎপাদন শুরুর কোন উদ্যোগও নিচ্ছে না। কবে নাগাদ মধ্যপাড়া খনির উৎপাদন শুরু হবে তা নিশ্চিত করতে পারছে না খনি কর্তৃপক্ষ। এরফলে বাড়ছে লোকশান অপরদিকে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে।

গত অর্থ বছরে ২০১৮-২০১৯ সালে খনির লোকসান দাড়িয়েছিল ৩ কোটি ৫১ লাখ টাকা। আগের অর্থ বছরেও প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা লোকসান খেতে হয়েছে খনি কর্তৃপক্ষকে। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বেসরকারি সংস্থা (জিটিসি)র চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। খনিটিকে উৎপাদনে নিয়ে যাওয়ার জন্য এবং লাভবান নতুন কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির জন্য টেন্ডারের প্রস্তুতি নিয়েছে খনি কর্তৃপক্ষ। আবু তালেব ফারাজী জানিয়েছেন চুক্তি অনুযায়ী পাথর উৎপাদন করতে পারেনি বেসরকারি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

অপরদিকে উৎপাদন বন্ধ থাকার ব্যাপারে জিটিসির মহা ব্যবস্থাপক জাবেদ সিদ্দিকী জানান, খনি কর্তৃপক্ষ বরাবর পাথর তোলার বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতা করে আসছে। কিন্তু পাথর তোলা বৃদ্ধির অনেক প্রস্তাব আগেভাগে দেয়া হলেও তারা বিষয়টি আমলে নেয়নি। পাথর তোলা যন্ত্রের ক্রিস্ট মোটর গিয়ার বক্সের পিনিয়াম নষ্টের কথা জানালেও তা আনার কথা বললেও খনি কর্তৃপক্ষ সে কথা  গুরুত্ব দেয়নি।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম

Best Electronics
Best Electronics