Alexa মণ্ডপে মণ্ডপে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত

ঢাকা, বুধবার   ১৬ অক্টোবর ২০১৯,   কার্তিক ২ ১৪২৬,   ১৭ সফর ১৪৪১

Akash

মণ্ডপে মণ্ডপে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:১৮ ৬ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ১৬:৩৬ ৬ অক্টোবর ২০১৯

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস মতে, জগতের মঙ্গল কামনায় দেবী দুর্গা ঘোড়ায় চড়ে কৈলাশ থেকে নেমে এসেছেন মর্ত্যলোকে। এরই সঙ্গে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা।

আজ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজার মহাঅষ্টমীতে সাড়ম্বরে উদযাপিত হলো কুমারী পূজা। সকাল থেকে এ পূজাকে কেন্দ্র করে মণ্ডপে মণ্ডপে অঞ্জলি প্রদান, প্রসাদ বিতরণ, আরতি নিবেদন করেছেন পূজারীরা।

কুমারী পূজা মাতৃরূপে ঈশ্বরের আরাধনা বলে মনে করেন সানতন ধর্মাবলম্বীরা। দুর্গাপূজার মহাঅষ্টমিতে কুমারী কন্যাকে জীবন্ত প্রতিমা করে শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে রামকৃষ্ণ মিশনে পালিত হয় কুমারী পূজা।

ঢাকা শহরে অনেক মণ্ডপে দুর্গাপূজা হয়। কিন্তু কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয় রামকৃষ্ণ মিশন মঠের মন্দিরে। মহাঅষ্টমীর দিন এখানে জাঁকজমকভাবে কুমারী পূজার আয়োজন করা হয়। এছাড়াও ঢাকার বাইরে নারায়ণগঞ্জ, হবিগঞ্জ, সিলেট, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, বরিশাল ও যশোরে মঠের বিভিন্ন শাখায় কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। স্বামী বিবেকানন্দ মাতৃজাতির মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় ১৯০১ সালে শ্রীরামকৃষ্ণ ও সারদাদেবীর অনুমতিক্রমে কুমারী পূজার প্রচলন করেন।

কুমারী পূজা এক বিশেষ ধরনের পূজা। এই পূজায় এক কুমারীকে দেবীর আসনে বসিয়ে মাতৃরূপে পূজা-অর্চনা করা হয়। শঙ্খের ধ্বনি, কাঁসর ঘণ্টা, ঢাকের বাদ্য ও উলুধ্বনি দিয়ে কুমারী মাকে পুষ্পমাল্য পরিয়ে দেয়া হয়। কুমারী দেবী ভগবতীর অতি সাত্বিক রূপ। কুমারী আদ্যাশক্তি মহামায়ার প্রতীক। দেবী দুর্গার আরেক নাম ‘কুমারী’। মূলত নারীকে যথাযথ মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করতেই কুমারী পূজার আয়োজন করা হয়। মাটির প্রতিমায় যে দেবীর পূজা করা হয়, তারই বাস্তবরূপ কুমারী পূজা।

কুমারী পূজাকে ‘মাতৃরূপে’ ঈশ্বরের আরাধনা বলে মনে করেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। দুর্গাপূজার অষ্টমীতে কুমারী কন্যাকে প্রতিমা হিসেবে শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে পালিত হয় এ পূজা। মূলত সাত থেকে আট বছরের অজাতপুষ্প, সুলক্ষণা, ব্রাহ্মণ, অবিবাহিত কুমারী কন্যাকে প্রতিমা বানিয়ে পূজা করা হয়।

আজ রোববার কুমারী পূজা উপলক্ষে সরেজমিনে রাজধানীর রামকৃষ্ণ মঠে গেলে দেখা যায়, ঢাক, খোল, করতালের বাজনা আর উলুধ্বনির মধ্য দিয়ে মঞ্চে অধিষ্ঠিত করা হচ্ছে কুমারীকে। নিবেদন করা হচ্ছে শ্রদ্ধা।

পূজার পর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে এক নারী পূজারী বলেন, ‘এ কুমারী পূজার মাধ্যমে আমরা প্রার্থনা করি পুরা বিশ্ব যেন নারী জাতিকে শ্রদ্ধা করে, সম্মান করে। কারণ নারীদের প্রতি সহিংসতা অনেক বেড়েছে, আমরা দেখতে পাচ্ছি’।

আরেক পূজারী বলেন ‘আমরা সাক্ষাৎ মায়ের পূজা করি। এটা ঠাকুরের আদর্শ’। 

একই দিনে কুমারী পূজার পর অষ্টমীবিহিত পূজা ও সন্ধি পূজার মাধ্যমে দেবী দুর্গার কাছে দুর্যোগ থেকে মুক্তির প্রার্থনা করেন ভ্ক্তরা।

প্রার্থনা প্রসঙ্গে এক পূজারী বলেন,  যেন ‘আজকে পূজার মধ্য দিয়ে নিজেকে দেশের জন্য একজন উপযুক্ত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারি। দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে পারি।’

মানব জাতির সার্বিক মঙ্গল কামনা করেন আরেক পূজারী, বলেন, ‘মা যেন সবাইকে সুখে শান্তিতে রাখুক, মঙ্গল করুক।’

ঢাকেশ্বরী মন্দিরে শুক্রবার ভোরে শুরু হয় ষষ্ঠীপূজার আয়োজন। ঢাকঢোলের বাজনা, কাঁসা, শঙ্খের আওয়াজ এবং ভক্তদের উলুধ্বনিতে দেবী দুর্গাকে পৃথিবীতে স্বাগত জানান ভক্তরা।

ঢাকেশ্বরী মন্দিরের প্রধান পুরোহিত রনজিত চক্রবর্তী বলেন, ‘মা দুর্গা কৈলাশ থেকে পৃথিবীতে এসেছেন। আমরা তাকে বরণ করে নিয়েছি, শুরু হয়েছে দুর্গা উৎসব। দুর্গা পূজার মাধ্যমে দেশের সব মানুষের মঙ্গল কামনা করছি।’

আজ মহাঅষ্টমী ও কুমারী পূজা। এরপর সোমবার মহানবমী আর মঙ্গলবার বিজয়া দশমী। দশমীর দিনে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে ঘোড়ায় চড়ে বিদায় নেবেন দেবী দুর্গা।

এদিকে দুর্গা পূজা সামনে রেখে জাতীয় মন্দিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। মন্দিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা চক বাজার থানার উপ পরিদর্শক কবির উদ্দিন মন্ডল বলেন, পূজা উৎসবে নিরাপত্তা দিতে সরকারের পক্ষ থেকে জোরালো নির্দেশনা রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি হিন্দুধর্মাবলম্বী মানুষেরা যেন সুন্দরভাবে তাদের ধর্মীয় উৎসবে অংশ নিতে পারে।

তিনি জানান, সারা দেশে মণ্ডপগুলোতে ৫ অক্টোবর থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাড়ে তিন লাখ সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। নারী স্বেচ্ছাসেবক দল, ফায়ার সার্ভিস ও নৌ পুলিশও উপস্থিত থাকবে। এ ছাড়া মণ্ডপে সিসিটিভি, আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টর থাকবে। পূজামণ্ডপে বিঘ্ন সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে সজাগ থাকবেন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা।

পূজার দিনগুলোতে জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে সব প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন। গত বৃহস্পতিবার ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শনকালে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, পূজার সময় রাজধানীর কোথাও জলাবদ্ধতা হলেই ঢাকা দক্ষিণ সিটির ইমার্জেন্সি রেসপনস টিম দ্রুত মাঠে নামবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে