Exim Bank
ঢাকা, শনিবার ২৩ জুন, ২০১৮
Advertisement

মজুরি বৈষম্যে নারী কৃষিশ্রমিক

 দেলোয়ার হোসেন, জামালপুর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:৫৭, ১৩ মার্চ ২০১৮

আপডেট: ১৮:৫৭, ১৩ মার্চ ২০১৮

২০৪ বার পঠিত

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

‘আমগোর মজুরি দ্যায় কম। কাম (কাজ) তো পোলা (পুরুষ) মানইষের সমানই করোন লাগে। হেরা বেশি ট্যাহা পায়। আমগোরে  হেগোর চেয়ে অনেক কম দেয়। বেশি চাইলে দ্যায় না। বলে তোরা তো মাইয়া মানুষ। তোমাগো মাইনা (মজুরি)কম’-এভাবেই নিজের ভাষায় কথাগুলো বললেন জামালপুরের কৃষি শ্রমিক মালেকা আক্তার।

পুরুষদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করছেন কম্পপুরের নারী কৃষকরা। ইরি-বোরো আবাদের সময় কৃষি শ্রমিকদের সংকট দেখা দেয়। তখন নারী শ্রমিকদের উপর নির্ভরশীল থাকেন বড় কৃষকরা। তাই নারী শ্রমিক দিয়ে কাজ করান তারা। এতে বাড়তি সুবিধাও পান তারা। ধান কাটা,  ক্ষেত নিড়ানো, কলাই তোলা, মরিচ তোলাসহ বিভিন্ন কাজে নারী শ্রমিকদের কাজে লাগান।

সমিরন নামে আরেক নারী শ্রমিক জানান,বছরের বেশিরভাগ সময় তেমন কাজ থাকে না। পুরুষ শ্রমিকদের চাহিদা থাকে বেশি । আমাদের ঘরেই থাকতে হয়। ইরি-বোরো মৌসুমে আমাদের কদর বাড়ে। দৈনিক ২০০ টাকা করে পাই। আর পুরুষরা পায় ৫০০ টাকা।

পৌরসভার কম্পুপুর, চন্দ্রা, পাথালিয়া, মাইনপুর, বগাবাইদ এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায় নারী শ্রমিকরা বোরো ধানের ক্ষেতে নিড়ানি দিচ্ছেন। মজুরির বৈষম্যের কথা জানান তারা।

সরিষাবাড়ি উপজেলার ঘুইঞ্চার চরেও দেখা যায় একই অবস্থা। এলাকার চাষী বিপ্লবের খেসারি-কলাই ক্ষেতে কাজ করছে একদল মহিলা শ্রমিক। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কাজ করে এসব নারী শ্রমিক মজুরি পান ২৫০ টাকা।

বিপ্লব জানান, পুরুষ শ্রমিক পাওয়া যায় না। ৫০০-৬০০ টাকা দিয়েও পুরুষদের নাগাল পাওয়া কষ্টকর। তাছাড়া পুরুষ শ্রমিককে ৩ বেলা খাওয়াতে হয়। আর নারী শ্রমিকদের শুধু একবেলা খাওয়ালেই চলে। পুরুষ শ্রমিকদের পেছনে ৬০০-৭০০ টাকা খরচ পড়ে। তাছাড়া নারী শ্রমিকদের কাজও মোটামুটি ভালো।

আওনার চরের সেজাব আলী জানান, ৩ বিঘা জমিতে ইরি-বোরোর আবাদ করেছেন। পুরুষ শ্রমিক না পেয়ে বাধ্য হয়ে নারী শ্রমিক দিয়ে ধান রোপন করতে হয়। ধান ক্ষেতের আগাছাও পরিস্কার করা হয় তাদের দিয়ে। এতে অনেক কম টাকায় চাষের কাজ শেষ করা যায়। তিনি বলেন, একদিন হয়তো তারাও পুরুষ শ্রমিকের সমান মজুরি পাবেন।

কৃষি শ্রমিক রহিমা খাতুন বলেন,‘কাম (কাজ) তো হেগো (তাদের) হমানই (সমান)করি। কিন্তু আমগোর দাম (মজুরি) কম দেয়। আমরা মাইয়া মানুষ, কি আর করমু। সংসারের অভাবে কাম করবার আহন লাগে। কিন্তু পুরো ট্যাহা পাই না। আগে তো কামে নিতেই চায় নাই। এহন মহাজনরা (গৃহস্থ) বাইত (বাড়ি) তনে (থেকে) ডাইহা (ডেকে) আনে।

একই অবস্থা জেলার সবখানেই। পুরুষ শ্রমিকের মজুরি চাহিদা বেশি হওয়ায়, কৃষি কাজে  দিন দিন বাড়ছে নারী শ্রমিকের কদর।

বিশেষজ্ঞদের মত, এক সময় নারী শ্রমিকরাই কাজ করবে সবখাতে। যুগের সঙ্গে মিলিয়ে চলতে নারী-পুরুষের মজুরি বৈষম্য একদিন সত্যিই দূর হবে গৃহবন্দি সমাজ থেকে। তবেই আসবে নারীর পূর্ণ স্বাধীনতা।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম/এলকে/আজ/আরআর 

সর্বাধিক পঠিত