Exim Bank Ltd.
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৮, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪

মঙ্গোলিয়ান মৃত্যুদূত

দ্বিতীয় পর্ব
শামস রহমানডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
মঙ্গোলিয়ান মৃত্যুদূত
ছবি: সংগৃহীত

দূত হত্যার পরেই শাহ বুঝে ফেলেন, যুদ্ধ অনিবার্য। তাই যুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু করেন তিনি। ওদিকে ওতরার অবরোধ করলেন চেঙ্গিজের বড় ছেলে জোচি খান, বড় বড় ইঞ্জিনিয়াররা এলেন অবরোধের জন্য, আর সঙ্গে এলো গানপাউডার। অবরোধ ঠেকাতে শাহ বিশ হাজার সৈন্য পাঠালেন, জুমার খুতবায় জানালেন, মোঙ্গলরা অবরোধ করায় দূর্বল। মসজিদ থেকে বের হয়ে জানতে পারলেন, তার পাঠানো ২০ হাজার সৈন্য যোগ দিয়েছে চেঙ্গিজের সঙ্গে। সিল্ক রোড দিয়ে চেঙ্গিজ আসবেন বলে শাহ মুহাম্মদ ভুল করলেন তার আশেপাশের গ্রাম পুড়িয়ে দিয়ে। এবার সেইসব গ্রামের মানুষ যোগ দেয় চেঙ্গিজের সঙ্গে। চেঙ্গিজের বাহিনীতে তখন মানুষের সংখ্যা ছয় লাখ, সৈন্য প্রায় লাখ দুয়েক।

পালাতে থাকা শাহকে তাড়া করতে লোক পাঠালেন চেঙ্গিজ। নিজে গেলেন তখনকার এশিয়ার জ্ঞানভান্ডার বুখারার দিকে। শহরের অভিজাতিকরা ভাবলেন, লড়াই করে লাভ নেই বরং আত্মসমর্পণ করলে পিতৃপ্রদত্ত জীবনটা বাচতে পারে। চেঙ্গিজও মিথ্যে লোভ দেখালেন, নগরবাসী অস্ত্র না ধরলে তিনি কারো ক্ষতি করবেন না। বুখারাকে মিশিয়ে দেয়া হলো মাটির সঙ্গে, চললো অবিরত হত্যা ও ধর্ষণ। ধ্বংসের আগে বুখারার মুসলিমদের চেঙ্গিজ বলেছিলেন, তোমাদের জন্য আমি ঈশ্বরের ক্রোধ। নিশ্চয়ই এমন কোনো পাপ করেছো যার শাস্তি হিসেবে আমাকে ঈশ্বর তোমাদের কাছে পিঠিয়েছেন।

এরপর তিনি গেলেন সমরকন্দে। সেখানে চালালেন নৃশংস হত্যাযজ্ঞ, শহরের প্রত্যেককে জবাই করা হলো। বুখারা আর সমরকন্দ হয়ে রইলো মৃতের শহর। চেঙ্গিজ এরপর যান উরগঞ্জে, সেখানে প্রতিরোধের মুখোমুখি হন। কিন্তু লাভ হলো না, চেঙ্গিজের বাহিনী ঠিকই শহর দখল করলো। চেঙ্গিজ প্রতিটি সৈনিককে বললেন চব্বিশটি করে মাথা উপস্থাপন করতে। সন্ধ্যার মধ্যেই উরগঞ্জের বারো লাখ অধিবাসীকে হত্যা করা হয়। এমনকি খ্যয়ারেজমিয়ার কোনো চিহ্ন না রাখতে বুজিয়ে দিয়েছিলেন শাহ এর জন্মস্থান দিয়ে যাওয়া নদীটাও!

শাহ মুহাম্মদ মৃত্যুর আগে তার উত্তরাধিকার বানিয়ে রেখে যান ছেলে জালাল-উদ-দীনকে। এই ছেলের বাহিনীর কাছেই তার জীবদ্দশায় একমাত্র পরাজয় বরণ করে চেঙ্গিজ খানের বাহিনী। এছাড়াও আরেকটি যুদ্ধে মাত্র পঞ্চাশ হাজার যোদ্ধা নিয়ে চেঙ্গিজের বাহিনীর বিরাট ক্ষতি করেন জালাল-উদ-দীন, যা এর চেয়ে অনেক বেশি সৈন্য নিয়েও করতে পারেনি বহু বাঘা সেনাপতি। অবশ্য সেই পর্যন্তই, সাহায্যের অভাবে এর চেয়ে বেশি কিছু করতে পারেননি তিনি।

এর মধ্যে চেঙ্গিজ ও তার ছেলেরা মিলে জয় ধূলিস্মাৎ করে দেন চার হাজার বছর বয়সী বালখ শহরকে। হত্যা করা হয় পাঁচ লাখ মানুষ। সিল্ক রোড দখল করে রাজত্ব করার মত লোকবল চেঙ্গিজের ছিলো না, বরং এতে ছিলো বিদ্রোহের ভয়। তাই সিল্ক রোডে পড়া প্রতিটি শহরের সব মানুষকে মেরে ফেললেন তিনি, তাতে বিদ্রোহ করার কেউ থাকবে না। এরপর চেঙ্গিজের ছোট ছেলে তলুই খান অবরোধ করলেন মার্ভ, আবারো অভিজাতরা দরজা খুলে দিলেন। একেক জন মোঙ্গল হত্যা করেন তিন থেকে চারশ মানুষ। মার্ভ শহরে থাকা ২ লাখ আর আশেপাশের দেড় মিলিয়ন মানুষের স্মৃতি বলতে থাকলো শুধু হাড়ের গায়ে লেগে থাকা পচা-গলা মাংস।

এরপর নিশাপুর আক্রমণ করলে প্রতিরোধ করে সেখানকার বাসিন্দারা। যদিও লাভ হয়নি। সর্বাত্মক হামলায় চুরমার হলো নিশাপুরের দেয়াল, হত্যা করা হলো ১৫ লাখ মানুষকে। সেই আমলে মার্ভ আর নিশাপুরের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে গড়ে ওঠা হেরাতেও আক্রমণ হানলো মোঙ্গল বাহিনী। হেরাতের দরজাও খুলে দেয়া হয় তাদের জন্য। কিন্তু হেরাতের উন্নত ধাতুশিল্পের জন্য হেরাত ধ্বংস করেননি খাকান।

প্রিয়তমা বোর্তির কথায় এবার খাকান সিদ্ধান্ত নিলেন তার সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকার বাছাই করার। বড় ছেলে জোচি ছিলো সবচেয়ে যোগ্য, কিন্তু তার পিতৃপরিচয় নিয়ে সন্দেহ ছিলো মোঙ্গলদের মাঝে। এই সুযোগ নেন মেজো ছেলে মদ্যপ ও রগচটা চাঘাতাই, গুজব ছড়িয়ে দেন জোচির জন্ম নিয়ে। অবশ্য জোচির স্বাধীনচেতা মনোভাবের জন্য তাকে নিয়েও সন্দেহ ছিলো খানের, অনেক সময় খানের আদেশও অগ্রাহ্য করতেন জোচি। তাই শেষ পর্যন্ত তিনি পরবর্তী খাকান ঘোষণা করলেন তার সেজো ছেলে ওগেদেই খানকে, যে যুদ্ধক্ষেত্রে কিছুটা দূর্বল হলেও তার ছিলো এক প্রখর মস্তিষ্ক।

কুরুলতাইয়ে খান ডেকেছিলেন জোচিকে। কিন্তু উদ্ধত জোচি থেকে গেলেন কিপচাক স্তেপেই। খান কিছু না বলে সেখানে পাঠিয়ে দিলেন তার ছোট ভাই উৎচিগিনকে। রাশান স্তেপে স্বীকারের সময় দলছুট জোচির ঘোড়ার কপালে এসে বিধলো একটা তীর। ঘোড়া থেকে নামামাত্রই জোচিকে ঘিরে ধরলো ২০ জন। পিছমোড়া করে বেঁধে চাপ দিয়ে ভেঙে ফেলা হলো মেরুদন্ড। মোঙ্গল প্রথা অনুযায়ী, অভিজাত সন্তানের রক্ত মাটিতে পড়তে দিতে নেই।

শিকার করতে গিয়ে আহত হন চেঙ্গিজ খান, তার তাড়া করা দাতাল শুয়োরটা যখন তাকে আক্রমণ না করেই চলে গেলো, তিনি বুঝলেন ইশ্বর তাকে তার শেষ শত্রু জিজিয়া সাম্রাজ্যের সম্রাট বুরখানকে হত্যার সুযোগ দিচ্ছেন। বুকের খাঁচার ব্যথার কথা কাউকে না বলে দুই ছেলে ওগেদেই ও তলুইকে আদেশ দিলেন প্রস্তুত হতে, তার শেষ অভিযানের জন্য। সঙ্গে তাদের দিলেন সাম্রাজ্য ধরে রাখার উপদেশ।

নিমেষেই দুই লাখ সৈন্যের বাহিনী প্রস্তুত হয়ে গেলো। চেঙ্গিজ খান সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন, পৃথিবীর বুক থেকে জিজিয়া সাম্রাজ্যের নাম নিশানা দূর করে দেবেন। চলার পথে পড়া মানুষ, পশু-পাখি, ঘরবাড়ি, গাছপালা সব জ্বালিয়ে দিয়ে রাজধানীর কাছে পৌছোয় মোঙ্গলরা। সুবুদাইকে যুদ্ধের দায়িত্ব দিয়ে নিজে অপেক্ষা করতে থাকলেন জিজিয়া সাম্রাজ্যের পতনের সংবাদের জন্য। যাওয়ার আগে তলুইকে বলে গেলেন, সন্ধির জন্য আসলে যেন সবাইকে আত্মস্মর্পণ করতে বলা হয়, এরপর হত্যা করা হয় সবাইকে।

তাবুর মধ্যে প্রিয়তমা বোর্তির হাত ধরে আফসোস করে বলেন, বিশ্বজয় করা হলো না, অর্ধেকটা এখনো বাকি। বুকের ব্যথায় হাপাতে হাপাতে মৃত্যুর আগে তিনি বললেন, “মনে রেখো, মানবজাতির পথ একটাই, যুদ্ধ।” চুপ হয়ে গেলেন খান, তাবুতে নেমে এলো নিস্তব্ধতা, খানের বাম চোখ কেমন যেন নিষ্পলক ভাবে তাকিয়ে আছে। ডান চোখটা কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলো বোধহয়, এরপর বুঝলো সময় শেষ। মারা গেলেন চেঙ্গিজ খান, মোঙ্গলদের খাকান, পৃথিবীর ইতিহাসের কুখ্যাত ম্যাস মার্ডারার।

গোপন রাখা হলো তার মৃত্যু সংবাদ, কালো কফিনে করে তার লাশ নিয়ে যাওয়া হলো মঙ্গোলিয়ার দিকে, সঙ্গে তার তলোয়ার, তীর ধনুক, বর্শা, টুপি। বারোটি ষাঁড় দিয়ে টানা বিরাট গাড়ি এগিয়ে চললো, খবর গোপন রাখতে সামনে পাওয়া সবাইকে হত্যা করা হলো। জেবে নোইয়ন দেখিয়ে দিলেন বুরদান খালদুনের গহীনে থাকা সেই প্রাচীন দেবদারু গাছ, যেখানে চিরশান্তির ঘুম ঘুমুতে চেয়েছিলেন খাকান। কবর দেয়া হলো খাকানকে, সঙ্গে তার পরকালের সেবার জন্য হত্যা করে কবর দেয়া হলো চল্লিশ জন সুন্দরীকে। কবরে বিপুল সম্পদের সঙ্গে রাখা হলো বিভিন্ন দেশ জয় করে আনা ৭৮ জন রাজার মুকুট।

যে আড়াই হাজার শ্রমিক কবর খুড়লেন, তাদের সবাইকে হত্যা করা হলো, এরপর কবরের উপর দিয়ে চালিয়ে দেয়া হলো একশ ঘোড়া, যেন কোন চিহ্ন না থাকে। প্রচুর গাছ লাগানোর পর আত্মহত্যা করলো সব সৈন্য, যেন খাকানের কবরের অবস্থান কেউ জানতে না পারে। এরপর পুরো এলাকাটা মোঙ্গল অভিশাপ দিয়ে মন্ত্রপূত করা হলো। চেঙ্গিজের মৃত্যুর পর জ্বালিয়ে দেয়া হলো জিজিয়া শহর, হত্যা করা হয় সেখানকার সব অধিবাসীকে, পূরণ করা হয় তার শেষ ইচ্ছা।

এখনও আবিষ্কৃত হয়নি চেঙ্গিজ খানের কবর, এখনো বুরদান খালদুনের গভীরে এক দেবদারু গাছের নীচে শান্তিতে ঘুমুচ্ছেন তিনি। মাঝে মাঝে হয়ত কোন জ্যোৎস্না রাতে সেই কবরের উপর দিয়ে চাঁদের আলোর বন্যা বয়ে যায়, সেই আলোতে ভিঁজে যায় সেই মানুষটার সমাধি যার শরীরে লেগে আছে কোটি মানুষের রক্তের দাগ। সেগুলো হাজার বন্যায়ও মুছে যায় না, চেঙ্গিজ খান বেঁচে উঠেন না, কিন্তু বেঁচে থাকেন ইতিহাসের নৃশংসতম ম্যাস মার্ডারার হিসেবে, একজন আদর্শ নেতা হিসেবে, একজন রক্তপিপাসু দিগ্বিজয়ী হিসেবে।

সূত্র: সানজাক-ই উসমান

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস/এসজেড

আরোও পড়ুন
সর্বাধিক পঠিত
ঈশা আম্বানিকে শ্বশুরের আকাশ ছোঁয়া উপহার!
ঈশা আম্বানিকে শ্বশুরের আকাশ ছোঁয়া উপহার!
৭ দিনের নিচে কোন ইন্টারনেট প্যাকেজ নয়
৭ দিনের নিচে কোন ইন্টারনেট প্যাকেজ নয়
জনসম্মুখে পুরুষ নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল!
জনসম্মুখে পুরুষ নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল!
ফখরুলের গাড়িবহরে হামলা
ফখরুলের গাড়িবহরে হামলা
‘বিশ্ব সুন্দরী’র মুকুট পড়া হলো না ঐশীর
‘বিশ্ব সুন্দরী’র মুকুট পড়া হলো না ঐশীর
বিশ্বের আদর্শ ফিগারের নারী কেলি ব্রুক
বিশ্বের আদর্শ ফিগারের নারী কেলি ব্রুক
এমিরেটসের হীরায় মোড়ানো বিমান
এমিরেটসের হীরায় মোড়ানো বিমান
ক্যান্সার শনাক্তে বাংলাদেশি বিজ্ঞানীর সাফল্য
ক্যান্সার শনাক্তে বাংলাদেশি বিজ্ঞানীর সাফল্য
পাপ যেন পিছু ছাড়ছে না নিকের!
পাপ যেন পিছু ছাড়ছে না নিকের!
২০১৯ নিয়ে অন্ধ নারীর ভয়ঙ্কর ভবিষ্যদ্বাণী!
২০১৯ নিয়ে অন্ধ নারীর ভয়ঙ্কর ভবিষ্যদ্বাণী!
‘যৌন মিলন দেখিয়ে আনন্দ পাই’
‘যৌন মিলন দেখিয়ে আনন্দ পাই’
সোমবার রাতের মধ্যেই ঢাকা ছাড়ছেন এরশাদ
সোমবার রাতের মধ্যেই ঢাকা ছাড়ছেন এরশাদ
আইপিএলের চূড়ান্ত নিলামে দুই বাংলাদেশি
আইপিএলের চূড়ান্ত নিলামে দুই বাংলাদেশি
২ তারিখ খালেদা জিয়াকে বের করে আনবো
২ তারিখ খালেদা জিয়াকে বের করে আনবো
উত্তেজনা ধরে রাখতে পারছেন না সাইফ কন্যা সারা!
উত্তেজনা ধরে রাখতে পারছেন না সাইফ কন্যা সারা!
বিএনপির হয়ে লড়বেন পার্থ
বিএনপির হয়ে লড়বেন পার্থ
বিএনপির বিরুদ্ধে লড়বেন হিরো আলম
বিএনপির বিরুদ্ধে লড়বেন হিরো আলম
শাকিবের সঙ্গে প্রেম বিষয়ে মুখ খুললেন রোদেলা
শাকিবের সঙ্গে প্রেম বিষয়ে মুখ খুললেন রোদেলা
সানি লিওনের সঙ্গে হিরো আলম!
সানি লিওনের সঙ্গে হিরো আলম!
কুমিল্লায় বিএনপির মিছিলে হামলা, অর্ধশতাধিক আহত
কুমিল্লায় বিএনপির মিছিলে হামলা, অর্ধশতাধিক আহত
শিরোনাম :
২৪ ডিসেম্বর মাঠে নামবে সেনাবাহিনী: ইসি সচিব ২৪ ডিসেম্বর মাঠে নামবে সেনাবাহিনী: ইসি সচিব নির্বাচনী সফর শেষে ঢাকায় ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী সফর শেষে ঢাকায় ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী শুনানির জন্য তৃতীয় বেঞ্চের উপর খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের অনাস্থা, একক বেঞ্চে শুনানি সোমবার পর্যন্ত মুলতবি শুনানির জন্য তৃতীয় বেঞ্চের উপর খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের অনাস্থা, একক বেঞ্চে শুনানি সোমবার পর্যন্ত মুলতবি ২০১৪’র নির্বাচনের আলোকে ইসি নতুন কৌশল নেবে: সিইসি; কারো বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা না করার অনুরোধ ২০১৪’র নির্বাচনের আলোকে ইসি নতুন কৌশল নেবে: সিইসি; কারো বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা না করার অনুরোধ আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করতে না পারলে পদ্মা সেতুর কাজ বন্ধ হয়ে যাবে: ফরিদপুরে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করতে না পারলে পদ্মা সেতুর কাজ বন্ধ হয়ে যাবে: ফরিদপুরে শেখ হাসিনা