Alexa মঙ্গলের আকাশে শরতের মেঘ, মুগ্ধ হয়ে দেখল ‘মার্স এক্সপ্রেস’ (ভিডিও)

ঢাকা, সোমবার   ২১ অক্টোবর ২০১৯,   কার্তিক ৫ ১৪২৬,   ২১ সফর ১৪৪১

Akash

মঙ্গলের আকাশে শরতের মেঘ, মুগ্ধ হয়ে দেখল ‘মার্স এক্সপ্রেস’ (ভিডিও)

বিজ্ঞান ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:০০ ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

মহাকাশ নিয়ে মানুষের আগ্রহের কোন কমতি নেই। আর মঙ্গল গ্রহের নাম শুনলে সেই আগ্রহের মাত্রা যেন আরো বেড়ে যায়। আর এ কারণেই সেখানকার পরিবেশ পর্যবেক্ষণের জন্য ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির (ESA) ‘মার্স এক্সপ্রেস’ স্পেসক্র্যাফ্ট পাঠিয়েছে। আর সেই স্পেসক্র্যাফট থেকে এবার মিললো মনোমুগ্ধকর ছবি। 

মঙ্গল গ্রহের উত্তরের খানা-খন্দে লালচে আগুনের আভা। গুমোট গরম কাটিয়ে এখনই যেন বৃষ্টি নামবে। পায়ে পায়ে দক্ষিণে এলে ঠিক বিপরীত। লাল মাটিতে যেন চাদর বিছিয়ে দিয়েছে তুলো তুলো বরফ। লালে-সাদায় মঙ্গলের বুকে দুধেআলতা রঙ। উপবৃত্তাকারে মঙ্গলের উত্তর থেকে দক্ষিণে পরিক্রমা করে এমন ভিডিও পাঠাল ‘মার্স এক্সপ্রেস’।

সেই ২০০৩ সাল থেকে মঙ্গলের বন্ধু হয়ে গেছে ইউরোপীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার অরবাইটিং মার্স এক্সপ্রেস স্পেসক্র্যাফ্ট। মঙ্গলের সঙ্গে যেন জুটি বেঁধেছে সে। লালা গ্রহে কিছু চমক দেখলেই সঙ্গে সঙ্গে ছবি তুলে পৃথিবীতে পাঠিতে ভুল করে না মার্স এক্সপ্রেস। 

মার্স এক্সপ্রেসের পাঠানো লাল-গ্রহের নানা ছবি

তারই ধারাবাহিকতায় এবার তার মিশন ছিল মঙ্গলের উত্তর মেরু অভিযান। লাল গ্রহের উত্তরে যদি তাপমাত্রা বেশি থাকে, ঠিক উল্টোটাই হয় দক্ষিণে। স্পেসক্র্যাফ্টের হাই রেজোলিউশন ক্যামেরায় ধরা পড়েছে, লাল গ্রহের উত্তর পিঠের জমাট বাঁধা মেঘ। সাদা ধোঁয়ার মতো ভেসে বেড়াচ্ছে মঙ্গলের-আকাশে।

মঙ্গলের দুই মেরুর স্বভাব একেবারেই আলাদা। উত্তর মেরুর ঢাল দক্ষিণের থেকে কিছুটা নিচুতে। দুইয়ের মাঝে বড় কিছু প্রচীর আছে। 

ইএসএ-র বিজ্ঞানীরা বলেন, উত্তর মেরুর বয়স নাকি অনেক কম। সেখানে দক্ষিণ বেশি প্রবীণ। উত্তরের খানা-খন্দ (বিজ্ঞানীদের ভাষায় যাকে বলে Craters) আগুনে লাল নয়, কিছুটা ধূসর। উত্তরের আকাশে মেঘ দেখা যায়। দক্ষিণের মাটি আবার আগুনের মতো। তাপমাত্রা কম হওয়ায় সেখানে মাঝে মাঝে তুষার ঝড়ও দেখা যায়।

পৃথিবীর থেকে মঙ্গলের ঠান্ডা অনেকটাই বেশি। তাপমাত্রা কম-বেশি মাইনাস ১২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো। এই মারাত্মক ঠান্ডায় বরফ গলে পানি হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। গবেষকরা জানাচ্ছেন, মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলের যেহেতু বেশির ভাগটাই উড়ে গিয়েছে (মঙ্গলের অভিকর্ষ বল অনেক কম বলে), তাই তার বায়ুমণ্ডল খুব পাতলা। ফলে, সূর্যের তাপে পৃথিবীর চেয়ে অনেক বেশি উত্তপ্ত হয়ে ‘লাল গ্রহ’ মঙ্গলের পিঠ। তাই যদি সামান্যতম পানিও থাকে মঙ্গলের পিঠে, তা হলেও খুব তাড়াতাড়ি তা উবে যাবে।

প্রসঙ্গেত, মার্স এক্সপ্রেসের দুটো ভাগ। অরবিটার আর ল্যান্ডার। ল্যান্ডারের কাজ মঙ্গলের মাটিতে খনিজ ও প্রাণের অস্তিত্ব খুঁজে বার করা। অরবিটারের কাজ নজরদারি। ২০১৪-২০১৫ সালে মার্স এক্সপ্রেসের অরবিটার তথ্য পাঠায়, মঙ্গলের দক্ষিণ পিঠে রয়েছে ‘সাদার্ন আইস শিট’। এর মাঝেই নাকি লুকিয়ে রয়েছে তরল জলে ভর্তি একটি ২০ কিলোমিটার হ্রদ। বরফ বা খনিজ পাথর নয়, বরফের মাঝে একমাত্র তরল পানির অস্তিত্ব থাকলেই এমন প্রতিফলন দেখাবে র‌্যাডারের ওয়েভ।

‘মার্স এক্সপ্রেস’ এর পাঠানো ভিডিওটি দেখতে >>>এখানে<<< ক্লিক করুন। 

ডেইলি বাংলাদেশ/টিএএস